নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে জামিন দেওয়া উচিত নয়, আদালতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আর্জি। কিন্তু আরেক অভিযুক্ত কালীঘাটের কাকু অর্থাৎ সুজন কৃষ্ণ ভদ্রকে জামিন দিয়েছে আদালত। এক যাত্রায় পৃথক ফল কেন? আদালতে লিখিতভাবে পার্থর জামিনের বিরোধিতা করা হলেও, সুজয় কৃষ্ণের বিষয়ে তা করেনি সিবিআইয়ের আইনজীবী। কেন এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী?
২০২২ সালের ২৩ জুলাই নাকতলার বাড়ি থেকে তৃণমূলের মহাসচিব তথা তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছিল ইডি। এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট বা ইডি জায়গায় জায়গায় শুরু করেছিল তল্লাশি অভিযান। যেমন প্রক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাকতলার বাড়ি, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর বাড়িতে যেমন তল্লাশি হয়েছিল, তেমনই মানিক ভট্টাচার্য, কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়, রত্না চক্রবর্তী বাগচীর বাড়িতেও যান ইডি-র তদন্তকারীরা। ২০২২ সালের ২২ জুলাই দিনভর ছিল টানটান উত্তেজনা। তবে সেই উত্তেজনা আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায় ওই দিন সন্ধ্যায় ইডির একটি ট্যুইটে। হরিদেবপুরের একটি আবাসনে অর্পিতা মুখোপাধ্যায় নামে এক তরুণীর ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় ২০ কোটি টাকার বেশি নগদ। দাবি, এই অর্পিতা মুখোপাধ্যায় রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। তাঁর ফ্লাটে পাওয়া নগদ একদিনে গুণে শেষ করতে পারেনি ইডির আধিকারিকরা। এসবিআই ব্যাঙ্ক থেকে একাধিক টাকা গোনার যন্ত্র আনতে হয়, সেই সঙ্গে ব্যাঙ্কের কর্মচারীদেরও টাকা গোনার কাজে লাগানো হয়েছিল। সেই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে একসঙ্গে এত নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনা দেখেছিল রাজ্যবাসী।
এবার আসা যাক, ২০২৫ সালের ১১ জুনে। কলকাতা হাইকোর্টে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়। যদিও সিবিআই-র লিখিত বয়ানের জবাবে পাল্টা জবাবি বয়ান জমা দেবে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবীরাও। কিন্তু দিনের শেষে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর জামিন হয়নি। কিন্তু ওই একই মামলায় আরেক অভিষুক্ত সুজয় কৃষ্ণ ভদ্রের জামিন আগেই হয়েছে। জামিন হয়েছে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার আরেক অভিযুক্ত মানিক ভট্টাচার্যের। তাহলে কেন জামিন হচ্ছে না পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। সিবিআইয়ের দাবি, তৃণমূলের প্রাক্তন মহাসচিব তথা প্রাক্তন মন্ত্রী এখনও যথেষ্ট প্রভাবশালী। সিবিআই আদালতে জানিয়েছে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই নিয়োগ দুর্নীতি হয়েছে। তিনিই মূল মাথা। এরই মধ্যে পার্থর বিপদ বাড়িয়ে নিয়োগ মামলায় রাজসাক্ষী হয়েছেন তাঁরই জামাই কল্যাণময় ভট্টাচার্য। আদালত তাঁর বয়ানও রেকর্ড করেছে। সূত্রের খবর তাঁর বয়ানে কোটি কোটি টাকার হিসেব দিয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর জামাই কল্যাণময় ভট্টাচার্য।
যেটা পার্থর পক্ষে একটা বড় বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, গত মার্চ মাসে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিন মামলায় সুপ্রিম কোর্টে পাল্টা হলফনামা দিতে চেয়েছিল সিবিআই। এর জন্য চার সপ্তাহ সময়ও চেয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আইনজীবীরা। কিন্তু আদালত দু সপ্তাহ সময় দিলে তাঁরা হলফনামা জমা করে শীর্ষ আদালতে। সবমিলিয়ে সিবিআই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রধান মাথা হিসেবে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কেই বোঝাতে চেয়েছে বারবার। সুজয় কৃষ্ণ ভদ্র বা মানিক ভট্টাচার্যদের মতো মধ্যসত্ত্বভোগীরা জামিন পেলেও পার্থর জামিন এখনও বিশ বাও জলে।












Discussion about this post