বাংলাদেশে যা চলছে, যা যা হচ্ছে তা নিয়ে খবর করা যাবে, তবে একটা শর্তে। সেটা হল, মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মুখপাত্র হয়ে। অর্থাৎ তাঁদের ইচ্ছামতো খবর প্রকাশ করতে হবে। না হলে সেটা অসত্য ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ হয়ে যায়। যেমনটা হয়েছিল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বসতবাটি ভাঙচুর নিয়ে, যেমনটা হল সত্যজিৎ রায়ের পৈত্রিক ভিটে ভাঙ্গা নিয়ে। সবটাই নাকি মিথ্যে ও বিভ্রান্তিকর। একমাত্র সত্যিটা বলেন মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। এ যেন সত্যিই আবোল তাবোলের দেশ।
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বিখ্যাত শিশু সাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী পুত্র প্রবাদ-প্রতিম সাহিত্যিক সুকুমার রায় লেখা আবোল তাবোল কবিতার কথা নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে? সেখানে যে রকমটি বর্ণনা করা হয়েছিল ইউনূসের বাংলাদেশ ঠিক যেমন তেমনটাই। এখানে সত্যি কথা উল্টে যায় আর মিথ্যেই প্রতিষ্ঠা পায়। বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলায় সত্যজিৎ রায়ের পারিবারিক বাড়ি ভেঙে ফেলার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আর্জি মেনে দিল্লির বিজেপি সরকার বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল যেন ওই ঐতিহাসিক বাড়িটি ভাঙা না হয়। প্রয়োজনে ভারত সরকার অর্থ সাহায্য করবে বাড়িটি সংস্কার করতে। কিন্তু চাপে পড়া ইউনূস সরকার পাল্টা বিবৃতি দিয়ে জানালো, ওই বাড়ির সঙ্গে রায় পরিবারের কোনও সম্পর্কই নাকি নেই।
ময়মনসিংহের হরিকিশোর রায় রোডে অবস্থিত বাড়িটি শশী লজ নামে খ্যাত। যদিও ঐতিহাসিকদের দাবি, সত্যজিতের প্রপিতামহ হরিকিশোর রায়ের সঙ্গে ওই বাড়ির একটা যোগাযোগ রয়েছে। হরিকিশোর রায় সত্যজিতের পিতামহ তথা প্রখ্যাত শিশু সাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীকে দত্তক নিয়েছিলেন। আর লক্ষ্য করে দেখুন, ময়মনসিংহে ওই রাস্তার নামকরণও হয়েছে সেই হরিকিশোর রায়ের নামে। এমনকি ওই বাড়িটি সে দেশের ‘শিশু অ্যাকাডেমি’ ব্যবহার করছিল! কেন? যদি শিশু সাহিত্যিক উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর সঙ্গে ওই বাড়ির সংযোগ নাই থাকে তাহলে শিশু অ্যাকাডেমিকে কেন দেওয়া হয়েছিল? প্রশ্ন অনেক, তবে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টারও ত্রুটি নেই।
তালিকাটা দীর্ঘ, গত বছর আগস্টে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল বিখ্যাত বাংলা ব্যান্ড জলের গানের লিড ভোকালিস্ট রাহুল আনন্দের বাড়ি। কারণ তিনি হিন্দু, বর্তমানে রাহুল আনন্দ দেশ ছেড়েছেন। এরপর একে একে বহু বিখ্যাত কবি সাহিত্যিক মনীষীদের বাড়িতে আক্রমণ চালানো হয়েছে, ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগ হয়েছে। ভাঙ্গা হয়েছে শেখ মুজিবরের বিখ্যাত ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়ি। এরপর রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটিতেও আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে। আর আশ্চর্যজনকভাবে সবটারই দায় এড়িয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বাংলাদেশেই কেন এমনটা ঘটছে? ওয়াকিবহাল মহলের মতে এই সরকার যাদের দ্বারা পরিচালিত, সেই কট্টরপন্থী মুসলিম সংগঠনগুলি ভাস্কর্য বা ঐতিহ্য মুছে দিতে তৎপর। জামায়াতে ইসলামী থেকে শুরু করে বর্তমান জাতীয় নাগরিক পার্টি প্রত্যেকেই চায় ইসলামিক ভাবধারায় বাংলাদেশ পরিচালিত হোক। তাই ঐতিহাসিক নিদর্শন থেকে শুরু করে বাঙালি মনীষীদের পৈতৃক ভিটে কিছুই রক্ষা পাচ্ছে না বাংলাদেশে। ভারতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নয়া দিল্লির চাপে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মহালগাঁও হত্যাকাণ্ডের দায়ে অভিযুক্ত দি রেজিস্ট্যান্ট ফ্রন্টের মতো পাকিস্তানের লস্কর-এ-তৈবার ছায়া সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারে। তেমনই মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারকেও পারে।












Discussion about this post