মহাসংকটে দিঘার জগন্নাথ মন্দির! ৩০ এপ্রিল, অক্ষয় তৃতীয়ার দিন উদ্বোধন হতে চলেছে দিঘার জগন্নাথ মন্দির। স্বয়ং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীঘায় পৌঁছে এই জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন করবেন। দীঘার চারিদিকে এখন সাজ সাজ রব। কিন্তু উদ্বোধনের আগেই ঘটে গেল এক ভয়ঙ্কর ঘটনা!
স্থানীয় সূত্র দাবি, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে আলোকমন্ডিত করতে জগন্নাথ মন্দির এলাকায় বসানো হয়েছে বিরাট বিরাট আলোর গেট, আর শনিবার দমকা হাওয়াতেই ভেঙে পড়েছে সেই গেট। প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে। যদিও কোন প্রাণনাশের ঘটনা ঘটেনি কিন্তু বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ভুগছে স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন, এই বাধা গুলি কি কোন অশুভ ইঙ্গিত? জগন্নাথদেব কে সামনে রেখে ভোটব্যাঙ্ক ভরানোর উদ্দেশ্যের ফলেই কি এই বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে!
বিরোধীদের তরফ থেকে এই জগন্নাথ ধামের নির্মাণের লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের ব্যাপক লুটপাট এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠে এসেছে। তারা আরো বলছেন, পুরীর পবিত্র জগন্নাথ ধাম, প্রভু জগন্নাথ এবং চৈতন্য মহাপ্রভুর ঐশ্বরিক ভাবমূর্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার দুঃসাহসিক, প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে রাজ্যের শাসক দলের তরফ থেকে। পাশাপাশি এই কালবৈশাখী ঝড়টিকে তারা সাধারণ ঝড় নয় বরং ঐশ্বরিক বার্তা বলেই মনে করছে রাজ্যের বিরোধী নেতৃত্বরা।
উল্লেখ্য শনিবার দীঘায় ভয়াবহ তান্ডব লীলা চালায় কালবৈশাখী। অক্ষয় তৃতীয়া পুণ্য লগ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের আগেই ঝড়ো হাওয়ার তীব্রতায় একটি টোটোর উপর ভেঙে পড়ে একটি আলোর গেট। ওই টোটো চালক অল্পের জন্য নিজের প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হয়েছেন বলে সূত্রের খবর । উল্লেখ্য, এই ঘটনা ঠিক একদিন আগেই শুক্রবার দিঘার জগন্নাথ মন্দির নির্মাণের শেষ মুহূর্তের করতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন এক নির্মাণকর্মী। আবিদ হোসেন নস্কর নামে ওই যুবকের বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে। আপাতত তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জানা গিয়েছে, অসাবধানতাবশতই পড়ে যান সেই ব্যক্তি।
সেই অনুযায়ী রবিবার সকাল থেকে ঠিকাদার সংস্থার তরফ থেকে আলোক তোরণগুলিকে শক্তভাবে বেঁধে ফেলার কাজ করা হয়। পাশাপাশি কয়েকটি তোরণকে একত্রিত করে আলোক স্তম্ভ তৈরি করা হয়েছে। আধিকারিকরা জানান, এর ফলে সেগুলি ভেঙে পড়বে না। বিদ্যুতের তার থেকেও যাতে কোনোরকম দুর্ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। শনিবারের ঘটনার পর রবিবার সন্ধ্যায় আলোক তোরণগুলি দফায় দফায় পরিদর্শন করেন প্রশাসনের আধিকারিকরা।












Discussion about this post