৯ দিন পর মিললো আশ্বাস! তবে পাক রেঞ্জারদের হেফাজত থেকে মুক্তি অধরা হুগলির বাসিন্দা বিএসএফ এর কনস্টেবল পূর্ণমকুমার সাউ এর। সপ্তাহের শুরুতেই একরাশ উৎকণ্ঠা নিয়ে পাঞ্জাবের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন জওয়ানের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রজনী সাউ।। পঠানকোটে পৌঁছে বিএসএফের কর্তাদের সঙ্গে দেখা করে ফিরলেন জওয়ানের স্ত্রী। তবে বিএসএফের তরফে পূর্ণমের মুক্তির আশ্বাস নিয়ে ফিরেছে স্ত্রী রজনী। তবে জওয়ানের বাবার দাবী, এর দায় নিতে হবে কেন্দ্রকেই।
পঠানকোটে বিএসএফ আধিকারিক এবং ২৪ নম্বর ব্যাটেলিয়ানের কমান্ডিং অফিসারের সঙ্গে কথা বলে বৃহস্পতিবার বাড়ি ফিরেছেন জওয়ানের স্ত্রী ও আত্মীয়রা। ডিআইজি ,আইজির সঙ্গেও ফোনে কথা হয়েছে পূর্ণমের স্ত্রীর। বিএসএফের পক্ষ থেকে পূর্ণ মেয়ের পরিবারকে আশ্বস্ত করা হয়েছে, সেই সঙ্গে বলা হয়েছে এ ধরনের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটতেই থাকে। জম্মু-কাশ্মীরের ঘটনার পর তাকে ফেরানোর ক্ষেত্রে বিলম্ব হচ্ছে। তবে পূর্ণমকে ফিরিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি, বিএসএফের তরফে জানানো হয়েছে, চিন্তার কোনও কারণ নেই, জওয়ান সুরক্ষিতই রয়েছেন। খুব তাড়াতাড়ি তাকে ফিরিয়ে আনা হবে।’’
জওয়ানের স্ত্রী জানিয়েছেন, বার বার ফ্ল্যাগ মিটিং চলছে। কথা হচ্ছে পাকিস্তানের সঙ্গেও। তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কোনও সদুত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। তবে যদি এই প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়, এক সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণমকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে জওয়ানের স্ত্রীকে দিল্লিতে আইজির সঙ্গে কথা বলার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস বিএসএফ কর্মকর্তাদের ।
জওয়ানের এর আত্মীয় সত্যপ্রকাশ জানিয়েছে, ‘‘ বিএসএফের তরফে ধৈর্য রাখার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। তবে কত দিন পূর্ণমের ফেরার অপেক্ষা করতে হবে, সেটা স্পষ্ট করেননি ।’’
দেশের সঙ্কটে সীমান্তে নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পাকিস্তানের হাতে আটকা পড়েছে ভোলানাথ সাউয়ের পুত্র পূর্ণম কুমার সাউ । ছেলের এই পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন গোটা পরিবার। নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করে ভোলানাথ সাউ জানিয়েছেন, “বৌমার সঙ্গে বিএসএফের কর্তাদের কী কথা হয়েছে তা জানা নেই। তবে ছেলে এখনও ফিরলো না । এই দায় কেন্দ্রীয় সরকারের । কেন্দ্র সরকারেরই দ্বায়িত্ব, দেশের জওয়ানকে সুরক্ষিতভাবে ফিরিয়ে আনা। তবে কিন্তু তরফে কোনওরকম খবর পাওয়া যাচ্ছে না।”
প্রসঙ্গত, কাশ্মীরে নৃশংসভাবে ২৬ পর্যটককে হত্যার পর থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বদলার রব উঠেছে গোটা দেশে।
এরপর গত ২৩ তারিখ ফিরোজপুর বর্ডারে ডিউটি করার সময় পাক রেঞ্জারসের হাতে বন্দি হন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ২৪ নম্বর ব্যাটালিয়নের কনস্টেবল পূর্ণম। আর পাক রেঞ্জার্সের হাতে পূর্ণমের আটকে পড়া দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও উত্ত্প্ত করে তুলেছে। জানাগিয়েছে, কর্মরত অবস্থায় ভুল করে পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে ঢুকে একটি গাছের তলায় বিশ্রাম নেওয়ার সময় সে দেশের রেঞ্জারস পূর্ণমকে দেখে আটক করে। তার পর থেকেই হুগলির রিষড়ায় ছড়িয়ে পড়েছে চঞ্চল ও একরাশ উৎকণ্ঠা। পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে বিএসএফ দফায় দফায় বৈঠকে বসেও মেলেনি সমাধানসূত্র । সেই আবহে একরাশ উৎকণ্ঠ নিয়ে পূর্ণমকে ফেরানোর আশায় জবানের স্ত্রী রজনী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যেরা রওনা দিয়েছিল পঞ্জাবে। তবে এবার আশ্বাস ছাড়া কিছুই মিলল না।












Discussion about this post