বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে নিয়ে ভারতের সেনাপ্রধান মুখ খুলতেই কি নড়েচড়ে বসল, ইউনূসের জামাতী সরকার। ভারতের সেনাপ্রধানের আশ্বাস এবং বিশ্বাস ছিল দুই দেশের সেনার মধ্যে ভালো সম্পর্ক থাকলে, সেই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়াটা অসম্ভব। তাই বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকে স্বাভাবিক চোখে দেখেছিলেন ভারতের সেনাপ্রধান। তিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে এই সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য নয়। এই ঘটনার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে বাংলাদেশ বুঝিয়ে দিল তারা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই ক্যান্টনমেন্টের বড় রকমের রদবদল ঘটানো হল, এটিক সেনা অভ্যুত্থানও বলা চলে, তবে এই সেনা অভ্যুত্থান সেনার দ্বরা সংঘটিত নয়, এটি সরকারের দ্বারা সেনাঅভ্যুত্থান। এর ফলে আস্তে আস্তে ভারতের সঙ্গে আর্মি ডিপ্লোসি বন্ধ হয়ে যাবে। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান আরও একা হয়ে যাবেন। আর সেনাপ্রধানের সেই সক্ষমতা নেই যে তিনি সরকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে, নিজে একটি সেনাঅভ্যুত্থান ঘটাতে পারবেন। ফলে ঢাকার রাস্তায় ট্যাঙ্ক না নামিয়ে এবং ক্যান্টনমেন্টে কোন গোলাগুলি ছাড়াই, মাত্র কয়েটি ফাইলে সই করার মাধ্যমে ক্যন্টনমেন্টে একটি সেনা অভ্যুত্থান ঘটে গেল। যেখানে পাকিস্তান পন্থি, বলা ভালো পাকিস্তান প্রেমী সেনাদের উত্থান হল। এটিকে ভারতের সেনাপ্রধানের সঙ্গে ওকারের যোগাযোগ রাখার শাস্তি হিসাবেও দেখা যেতে পারে। অথবা সেনাপ্রধান বলেছিলেন যে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন হবে শতভাগ অবাধ সুষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ।এতে কোন দলের পক্ষ নেওয়া যাবে না। ফলে সেনাপ্রধানের ডানা ছাঁটার মাধ্যমে তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হল, ভোটের ফল সেটাই হবে যেটা সরকার চাইবে। এছাড়া জামাতের আমির তাহের সাহেব বলেছেন যে ভোটের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহীনি সহ সেনাবাহীনির কাউকে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া যাবে না। আর প্রধান উপদেষ্টা তাতে সম্মতিও দিয়েছেন। ফলে বোঝা যাচ্ছে সেনাপ্রধান যে দিন সেনাবাহীনিকে ভোটে নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশ দিচ্ছেন, ঠিক সেই দিনই তার ঘনিষ্ঠ সেনাকর্তাদের বিদায়ের ফাইলে সই হচ্ছে, ক্যান্টমেন্টের এই রদবদল মনে করিয়ে দিচ্ছে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টকে। সেই সময়ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ্যে থাকা সকল সেনাকর্তাদের সরিয়ে সেনাকে জামাতী করণ করা হয়েছিল, ঠিক সেই ভাবেই হাসিনা ঘনিষ্ঠ এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল সেনঅফিসারদের সরিয়ে পাকিস্তানের আইএসআই ঘনিষ্ঠ ফয়জুর রহমানদের বড় বড় পদে বসিয়ে দেওয়া হল।
একদিকে সেনাপ্রধানের মুখে নিরপেক্ষতার কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু মাঠের দখল নিচ্ছে পাকিস্তান পন্থি সেনাকর্তারা। এর ফলে অনেকগুলি দিক খুলে যাচ্ছে এই তদরকী সরকারের ক্ষমতায় আরও বেশী দিন থাকার জন্য। প্রথমত যদি ভোটের রেজাল্ট সরকারের মনমত না হয়, তাহলে সেনা দিয়ে ভোটের ফল বদলে দেওয়া যাবে, তাছাড়া ভোটের মাধ্যমে যে সরকারটি আসবে, সেই সরকারের নিয়ন্ত্রন থাকবে এই সেনাকর্মকর্তাদের হাতেই, সেই সঙ্গে সেনাপ্রধান ওয়াকার পাকিস্তানের সঙ্গে যে সব সামরিক চুক্তিগুলি বাতিল করেছিলেন সেগুলি আবার নতুন করে করা হবে। এতে লাভবান হবে পাকিস্তান এবং জামাত। পাকিস্তানের ভাঙাচুরা সামরিক অস্ত্রগুলি বাংলাদেশ কিনে নেবে। ফলে সেনাবাহীনিতে এই রদবদল শুধু সেনাবাহীনির অভ্যন্তরিন বিষয় নয়। বাংলাদেশের ভবিষ্যতের সঙ্গে ভীষনভাবে যুক্ত একটি ঘটনা।












Discussion about this post