বাংলাদেশে নির্বাচন আর এক মাসও বাকি নেই। তার মধ্যে হঠাৎই আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ঘোষণা করলেন, এনসিপি নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা, তার পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে। অর্থাৎ চরম অনিশ্চয়তা। এনসিপির অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি এবং দলের বিষয়ে স্পষ্ট পক্ষপাতিত্ব দেখাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এদিকে একই অভিযোগ বিএনপিরও। ফখরুল বলছেন, পক্ষপাতিত্ব করছে নির্বাচন কমিশন। এদিকে আবার জামায়েত ই ইসলামীর দাবিও একই। ফলে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠছে, যদি সমস্ত পক্ষ নির্বাচন কমিশনের উপর আস্থা না রাখে, তবে নির্বাচন হবে কি করে? তবে কি এনসিপি নির্বাচন বয়কটের পথে হাঁটবে? আদৌ কি হবে ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচন? কারণ আসিফ, হাসনাথরা যেভাবে অভিযোগ তুলছেন, তাতে তো প্রশ্ন উঠবেই।
যত নির্বাচন এগিয়ে আসছে, ততই নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা বাড়ছে। এই পরিস্থিতি যে তৈরি হবে, সেটা নির্বাচন ভবনের লোকেরাও কল্পনা করতে পারেনি। রবিবার নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে যে পরিস্থিতি হয়েছে, তাতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নাটক বলে আখ্যায়িত করেছেন। আইনের শাসনের বদলে চাপের খেলা চলেছে বলে জানান তিনি। শুনানির মাঝখানে হঠাৎ করেই ব্রেক নেওয়া হল সিদ্ধান্তের কথা বলে। বলা হল, ১৫ মিনিটের বিরতি। সেই ১৫ মিনিট গড়িয়ে গিয়েছে দেড় ঘন্টায়। এমনটাই জানান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। অভিযোগ উঠেছে, সেই সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে কমিশন। চট্টগ্রামের বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর উদাহরণ টেনে এনসিপি যে অভিযোগ করেছে, সেটা যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে বিষয়টি রীতিমত উদ্বেগ জনক। অভিযোগ উঠেছে, একজন জানালেন প্রার্থীটি বাতিল, কিন্তু পর মুহূর্তে পাশের জনের সঙ্গে কথা বলার পর সেই বাতিল রায় হয়ে গেল বৈধ। এই বিষয়টি সাধারণের মধ্যে সন্দেহের দানা বাঁধছেন আসিফ মাহমুদের কন্ঠে তাই উঠে এল চরম হতাশা। এনসিপি এখন পুরোপুরিভাবে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা হারিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপিও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সন্তুষ্ট নয়। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনে কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে জামায়েত ই ইসলামীও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। পাশাপাশি তারা বলছে, বৈষম্য দূর করতে হবে। তবেই সুষ্ঠ নির্বাচন সম্ভব। তারা বলেছে, প্রধান উপদেষ্টার কাছে যদি অভিযোগ না জানিয়ে কাজ হয়, তবে ভোটার মাঠে সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে ব্যালট পেপার নিয়ে যে যে অভিযোগ করছে, সেগুলো উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, একজন ব্যক্তির বাড়িতে বসে ব্যালটের খাম গোনা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়েত নেতাদের। যদিও এগুলো জামায়াতের তরফে অস্বীকার করা হয়েছে। কিন্তু ভিডিওর দৃশ্যপট অন্য কথা বলছে। প্রবাসীদের ঠিকানার জটিলতার কারণে নাকি দলীয় কর্মীদের ঠিকানায় ব্যালট আনা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, একজন জামায়েতে নেতা বা কর্মীদের বাড়িতে কেন ব্যালট যাবে?
এই ঘটনাকে বিএনপি নির্বাচন বানচালের বিষয় বলছেন। এদিকে জামায়েত বলছে, এগুলি তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার। কিন্তু পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, রাজনীতির পারফেক্ট মানুষ নেই। মিস ইউস করার চেষ্টা কেউ কেউ করবেই। তখন সরকারের অসহায় অবস্থা প্রকাশ পায়। তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে শেষমেশ দেখার, রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচন কমিশনের উপর থেকে আস্থা হারানোর পর আদেও নির্বাচন ঠিক সময়ে হয় কিনা!












Discussion about this post