বিজেপি শাসিত রাজ্যে গিয়ে বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে। এমন অভিযোগ তুলেছিলেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা নিয়ে এখন উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। এমনকি দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করা ভিডিও ভুয়ো বলে দাবি করে একরকম মিথ্যাচারিতা বলে উল্লেখ করল দিল্লি পুলিশ। অর্থাৎ মালদার পরিযায়ী শ্রমিকের উপর অত্যাচার, বা ওই মুসলিম মহিলার উপর নির্যাতনের অভিযোগ সবটাই সাজানো। দাবি দিল্লি পুলিশের।
মালদার পরিযায়ী শ্রমিককে হেনস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আধার যাচাইয়ের নাম করে দিল্লি পুলিশ মারধর করে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছিল। দিল্লি পুলিশ এর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আসলে মালদা জেলার চাচলের এক শ্রমিকের পরিবারের শিশু ও মাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। আর সেই ভিডিও নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, বাঙ্গালীদের বিজেপির ভাষা সন্ত্রাসে শিশুর ও পরিত্রাণ নেই। দেশকে এরা কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
যদিও দিল্লি পুলিসের ডেপুটি কমিশনার অভিষেক ধানিয়া বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে একজন বাংলাভাষী মহিলা এবং তার সন্তান দিল্লি পুলিসের দ্বারা লাঞ্ছিত হচ্ছেন। তথ্য পাওয়ার পরে আমরা তদন্ত করি এবং জানতে পারি ওই মহিলার নাম সাজনুর পারভিন। জিজ্ঞাসাবাদে সময় তিনি বলেন, ২৬ জুলাই রাত ১০.৩০ সময় সাদা পোশাকে থাকা চারজন পুলিশ সদস্য তাদের বাড়িতে এসে তাদের একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যায়। তারা তাদের মারধর করে এবং তাদের কাছ থেকে ২৫০০০ টাকা দাবি করে। যা তারা তাদের দেয়। সমস্ত কিছু তদন্ত করে আমরা দেখি এই গল্প পুরোটাই বানানো।
এমনকি দিল্লি পুলিশের সংগ্রহ করা সিসিটিভি ফুটেজে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, সন্তানদের নিয়ে একাই বেরোচ্ছেন ওই মহিলা। বল প্রয়োগ করা হয়েছিল বলে যে দাবি করা হয়েছিল, সেটা সঙ্গে ফুটেছে মিল পাওয়া যাচ্ছে না। সত্যি ঘটনা হল, রাজনৈতিক কর্মী এক মামার পরামর্শেই এই মিথ্যের গল্প বানানো হয়েছিল। অনেক রকমই ভুয়ো অভিযোগ তোলা হবে। শুনে নয়, এবার দেখে বিশ্বাস করুন। মুখ্যমন্ত্রীর এমন অভিযোগ পুরোপুরি নস্যাৎ করে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
দিল্লি পুলিশ দাবি করেছে, মালদার রাজনৈতিক কর্মী তথা এক আত্মীয়ের কথাতেই এই ভিডিও। সেই ভিডিও সমাজের যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করতেই ভাইরাল হয়ে যায়। দিল্লি পুলিসের ডিসি জানাচ্ছেন, সাজনুর পারভিন নামে ওই মহিলা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে নিয়েছে, তার রাজনৈতিক আত্মীয়র কথাতেই ওই ভিডিও বানানো হয়েছে। কালিমা লিপ্ত করতেই ওই ভিডিও ভাইরাল, বিস্ফোরক দাবি করল এবার দিল্লি পুলিশ।
এদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সিসিটিভি ফুটেজ শেয়ার করে তিনি প্রমাণ দিয়েছেন। এমনকি পোস্টে লিখেছেন, মিথ্যাবাদী মমতা, জেনে গেছে জনতা। এমনকি দিল্লি পুলিশে ডেপুটি কমিশনার অভিষেক ধানিয়ার এক্স পোস্টের লিংক শেয়ার করে বিজেপি নেতা সজল ঘোষ লিখেছেন, এই ব্যক্তি হলেন একজন ডেপুটি পুলিশ কমিশনার। নাম অভিষেক ধানিয়া। গতকাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি টুইট আমি স্ক্রিন রেকর্ডিং করে দিয়েছিলাম। যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য ছিল, বাঙালি জেনে দিল্লি পুলিস নিরপরাধ এই পরিবারের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে। কিন্তু দিল্লি পুলিশের এই পোস্টের পর প্রমাণ করলো, তাদের কথায় সত্যি ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিভাবে ফেক নিউজ ছড়িয়ে জাতি বিভেদ বাড়াচ্ছে দেখুন।
আর এটি প্রকাশ্যে আসতেই কার্যত ফের নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে রাজ্য রাজনীতি।












Discussion about this post