বাংলাদেশে কার্যত জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে। আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশজুড়ে জারি করা হয়েছে লাল সতর্কতা। নাহ, কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পূর্বাভাস নেই বাংলাদেশে। বরং কোনও এক অজানা রাজনৈতিক ঝড়ের পূর্বাভাস পেয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। বাংলাদেশের অন্তরবর্তীকালীন সরকারের তরফে তাই বিশেষ সতর্কতা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই সতর্কতা আসলে ভয়ের লক্ষণ। কারণ, বর্তমানে যে সরকার ক্ষমতায়, যারা এই সরকারের পিছনে মেরুদন্ড হয়ে উপস্থিত, তাঁরা জানেন যে অবৈধ উপায়ে তাঁরা ক্ষমতায় এসেছেন। যে জুলাই আন্দোলন, গণ অভ্যেউত্থানের দাবি করা হয়, সেগুলি সবই সাজানো ষড়যন্ত্র বা মেটিকুলাস ডিজাইন। তাঁরা যদি এই ষড়যন্ত্র করতে পারেন, সেটা সফল করতে পারেন। তাহলে যাদের তাড়ানো হয়েছে, অর্থাৎ আওয়ামী লীগও পারে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল আওয়ামী লীগ একটা সুপ্রাচীন ও প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল, তাঁদের একটা বড় সভ্য-সমর্থক আছে বাংলাদেশে। ভয় পাইয়ে আর কতদিন তাঁদের দমিয়ে রাখা যাবে? সেটাই আতঙ্ক এই জুলাই আন্দোলনকারী ছাত্র নেতাদের, সেটাই আতঙ্ক এই অন্তরবর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের।
আওয়ামী লীগ কি করতে চলেছে? তাঁরা কি সংগঠন গুছিয়ে নিয়েছে? কবে ঢাকা পর্যন্ত লং মার্চের ডাক দিচ্ছেন শেখ হাসিনা? এই ধরণের অসংখ্য প্রশ্ন এখন তাঁদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। একবার যদি শেখ হাসিনা ঢুকে পড়েন, আর বাংলাদেশে ঘুমিয়ে থাকা আওয়ামী লীগ সমর্থকরা যদি জেগে উঠে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে যান, তখন কি হবে? শেখ হাসিনা তাঁর অডিও বার্তায় বহুবার দাবি করেছেন, যে তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন। আর ফিরে যাবতীয় অন্যায়ের বিচার করবেন। এটাও কি আতঙ্কের কারণ? দ্বিধাবিভক্ত রাজনৈতিক মহল।
বাংলাদেশ বর্তমানে এক চরম অব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে হাজারো সমস্যা। দেশেরর বাইরে থেকে অসংখ্য চাপ। শিল্প নেই, বাণিজ্য নেই, কর্মসংস্থান নেই, মূল্যবৃদ্ধি চরমে। তার ওপর আবার মব জাস্টিসের নামে গণপ্রহার, লুটপাট। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মোছার নামে বাংলাদেশজুড়ে ব্যাপক ভাঙচুর, ৩২ নম্বর ধানমন্ডি-সহ আরও অনেক ভাস্কর্য ধ্বংস। এই সবকিছুই বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে এক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। আর এই ক্ষোভের আঁচও পেতে শুরু করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, বাংলাদেশ পুলিশ ও সেনাবাহিনী। তাই এই অতিরিক্ত সতর্কতা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।
এখন প্রশ্ন, শেখ হাসিনা কি করবেন? জানা যাচ্ছে সম্প্রতি দিল্লির অনুমতিক্রমে আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে এক বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকে দলের পুনর্গঠন, সংগঠন থেকে শুরু করে আগামীর কৌশল নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছে। সেই সঙ্গে ঠিক হয়েছে একটি প্রবাসী সরকার গঠন করা হবে। ঠিক যেমনটা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ মুজিবরের নির্দেশে আওয়ামী লীগের নেতারা গঠন করেছিল একটি প্রবাসী সরকার। যার কার্যালয় ছিল কলকাতা। এবারও বিপন্ন বাংলাদেশকে উদ্ধার করতে মুজিবকন্যা তৈরি করতে চলেছেন প্রবাসী সরকার। হয়তো এবার প্রধান কার্যালয় হবে নতুন দিল্লি। সেই খবর পৌঁছেছে বাংলাদেশের গোয়েন্দা বিভাগের কাছেও। পাশাপাশি ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকারও যে কোনও পদক্ষেপ নিতে চলেছে সেই আঁচও পাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। তাই বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছে ইউনূসের প্রশাসন। কারণ তাঁরা হয়তো ধরেই নিয়েছে, হাসিনা ফিরছেন। আর এক জরুরি অবস্থার মধ্যেই ফিরবেন মুজিবকন্যা। এই আবহ তৈরি হয়ে গিয়েছে বাংলাদেশে।












Discussion about this post