বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারের পতনের জন্য আমেরিকাকে দায়ী করেছেন। হাসিনা অভিযোগ করেছেন যে তিনি সেন্ট মার্টিন দ্বীপটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর না করার কারণেই তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই দ্বীপটি হাতে পেলে আমেরিকা বঙ্গোপসাগরে তার আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হত। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় হাসিনা বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করেছি যাতে আমাকে লাশের মিছিল দেখতে না হয়। ছাত্রদের লাশ নিয়ে তারা ক্ষমতায় আসতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি তা হতে দিইনি, প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। আমি ক্ষমতায় থাকতে পারতাম যদি আমি সেন্ট মার্টিন দ্বীপের সার্বভৌমত্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সমর্পণ করে বঙ্গোপসাগরে তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে দিতাম। আমি আমার দেশের জনগণকে অনুরোধ করছি, দয়া করে মৌলবাদীদের দ্বারা বিভ্রান্ত হবেন না।’সেন্ট মার্টিন নিয়ে সংসদে আগেও ইঙ্গিত দিয়ে ছিলেন শেখ হাসিনা। সেন্ট মার্টিনে সামরিক ঘাঁটি তৈরি করতে চায় আমেরিকা। ওই ঘাঁটি তৈরি হলে দক্ষিণ পূর্ব এসিয়ায় আমেরিকার কর্তৃত্ব বাড়ত তাতে ভারতের মাথাব্যথার কারণ ছিল। সমস্যা ছিল চিনেরও। এদিকে শেখ হাসিনা দেশত্যাগী হবার পর উঠে এসেছে প্রায় ৫০০ কোটি আমেরিকান ডলার আত্মসাৎ করার বিস্ফোরক তথ্য। অভিযোগ, তিনি এই বিপুল টাকা আত্মসাৎ করেছেন। গ্লোবাল ডিফেন্স কর্প নামে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি আত্মসাৎ করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন প্রকল্পটির বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। এই প্রতিবেদন প্রকাশ হবার পরেই বাংলাদেশে তীব্র আলোড়ন। প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্তে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন। প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন। ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছিল শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে গণ আন্দোলনে। যা শেষপর্যন্ত সামাল দিতে পারেননি শেখ হাসিনা। যার জেরে সোমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছাড়তে হয়েছে শেখ হাসিনাকে। কিন্তু সূত্র বলছে, পদত্যাগের কিছুক্ষণ আগে অবধি অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও আরও রক্তপাতের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া ছিলেন তিনি।
গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়।...
Read more












Discussion about this post