ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার বাংলাদেশে নতুন নয় ৷ এবার পড়শি দেশে অত্যাচারের আঁচ নেমে এল সনাতনী নেতার উপর ৷ সোমবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে হিন্দু সংগঠন সম্মিলিত সনাতনী জোটের নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ । এই ঘটনায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার ৷ এ দিন চিন্ময় দাসকে পেশের আগে থেকেই ভিড় জমতে থাকে আদালত চত্বরে। ওঠে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি। চিন্ময় কৃষ্ণের জামিন আর্জি খারিজের পরই গোটা এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। পুলিসের প্রিজন ভ্যান আটকে বিক্ষোভ দেখান হিন্দুরা। নিরীহ হিন্দুদের উপর নির্যাতন শুরু করেছে বাংলাদেশের পুলিশ। ব্যবহার করা হয় কাঁদানে গ্যাস। লাঠিচার্জও করা হয়। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। প্রিজন ভ্যান থেকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস বলেন,’আমাদের দাবির পক্ষে সমর্থনের জন্য ইসলামিক দল-সহ সবার কাছে আবেদন করছি। আমরা সকল গোষ্ঠীর জন্য শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাই। আমরা এই দেশকে ভালোবাসি, আমরা বাংলাদেশকে ভালোবাসি। আমরা ঐক্যবদ্ধ দেশ চাই’। গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ জুড়ে সংখ্যালঘুদের উপরে নির্যাতনের অজস্র অভিযোগ ওঠে। বেশ কিছু ধর্মীয় সংগঠন মিলে সনাতনী জাগরণ মঞ্চ গড়ে তোলে, যাদের ডাকে ঢাকার শহিদ মিনার, চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দান এবং গত শুক্রবার রংপুরের সমাবেশে লক্ষ লক্ষ সংখ্যালঘু অংশ নেন। সনাতনী জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে চিন্ময়কৃষ্ণ শুক্রবার ঘোষণা করেন, হিন্দু পরিবার আইনকে সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সংখ্যালঘুদের অধিকার ও জীবন-জীবিকার নিরাপত্তার বিষয়টিও সংবিধানে লিপিবদ্ধ করতে হবে। অন্যথায় সংখ্যালঘুরা সংবিধানে কোনও পরিবর্তন মানবেন না। এরপরে ১৩ ডিসেম্বর খুলনা এবং ২০ ডিসেম্বর বরিশালে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে জাগরণ মঞ্চ। শুক্রবার চিন্ময়কৃষ্ণ আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, সংখ্যালঘুদের ঐক্যবদ্ধ করায় তাঁকে গ্রেফতারের চক্রান্ত চলছে। এই গ্রেফতারের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে বাংলাদেশি সংখ্যালঘু লাখ লাখ হিন্দুরা। জায়গায় জায়গায় বিক্ষোভ কর্মসূচি চালাচ্ছেন তারা। রংপুর-চট্টগ্রাম মিলিয়ে উত্তপ্ত গোটা বাংলাদেশ। একাধিক জায়গায় জমায়েত করে আন্দোলন করছে হিন্দু সম্প্রদায়। সেই হিন্দু সম্প্রদায়কে ছত্রভঙ্গ করতে তাদের উপর লাঠিচার্জ করে বাংলাদেশী পুলিশ, খবর সূত্রের। শুধুমাত্র লাঠিচার্জ নয় ছত্রভঙ্গ করার জন্য কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটানো হয় বলে অভিযোগ। পুলিশের এই নির্মমতার চিত্র আন্তর্জাতিক স্তরে নিন্দার ঝড় তুলেছে। পুলিশের লাঠির আঘাতে একাধিক আন্দোলনকারীর মাথা ফাটে। রক্তাক্ত অবস্থায় চালিয়ে যায় আন্দোলন। প্রসঙ্গত, চিন্ময় প্রভুর গ্রেপ্তারির তীব্র বিরোধিতা করে এদিন রবি শংকর বলেন, ‘চিন্ময় দাস শুধুমাত্র বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হওয়ার অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বন্দুক হাতে তুলে সরকারের বিরুদ্ধে নামেননি। উনি নিজের মানুষের অধিকারের জন্য লড়ছেন। একইসঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনুসের কাছে আমরা অনেক বেশি আশা রাখি। আপনি শান্তির জন্য নোবেল পেয়েছেন। ওনার থেকে এমনটা আশা করা যায় না। বাংলাদেশ সরকারের কাছে আমার অনুরোধ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিন। এবং সেই সব কট্টরপন্থীদের নিয়ন্ত্রণ করুন যারা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ছবিটা নষ্ট করছে। এবং আপনাদের দেশকে পিছনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ওখানে যা ঘটছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post