হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় প্রভুর গ্রেপ্তারিতে জ্বলছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম-সহ দেশের একাধিক প্রান্তে পথে নেমেছে সে দেশের সংখ্যালঘু হিন্দুরা। স্বাভাবিক ভাবেই পড়শি দেশের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ভারত। নয়াদিল্লির সেই বিবৃতির জবাব দিল বাংলাদেশ। সে দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দাবি, “ভারত সরকার চিন্ময় প্রভুকে নিয়ে যে বিবৃতি দিয়েছে, সেটা তথ্যগতভাবে ভুল, ভিত্তিহীন এবং বন্ধুত্বের পরিপন্থী।” বাংলাদেশে গ্রেপ্তার নিপীড়িত হিন্দুদের মুখ চিন্ময় প্রভু। সোমবার ঢাকা বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁকে। তিনি বর্তমানে ইসকন পুণ্ডরিক ধামের সভাপতি। জানা গেছে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ডিবি হেফাজতে রয়েছেন এখন। তাকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে জাতীয় পতাকা অবমাননা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে মামলা রয়েছে। গত ৩০ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়। মো: ফিরোজ খান নামে এক ব্যক্তি এই মামলাটি করেন। সম্প্রতি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম ও রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের ৮ দফা দাবি নিয়ে কয়েকটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে তিনি চিন্ময় প্রভু নামে পরিচিত। এছাড়া তিনি পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ। চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীর মুক্তির দাবি করেছে বঙ্গ বিজেপি। তাকে মুক্তি না দিলে কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনে বিক্ষোভ করা হবে এবং সীমান্তে সনাতনীরা অবরোধ করবে বলে হুমকি দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বাংলাদেশে ইসকনের সনাতনী নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাশের গ্রেফতার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শুভেন্দু বলেন, আমরা এ খবরে অত্যন্ত বিচলিত এবং চিন্তিত। চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ প্রভুকে ড: ইউনূসের সরকার একটু আগে গ্রেফতার করেছে। আমরা তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি। এরপরই বিরোধী দলনেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চিন্ময়কে মুক্তি না দিলে বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনে বিক্ষোভ হবে এবং বাংলাদেশ সীমান্তে সনাতনীরা অবরোধ করবে। পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে বাংলাদেশে আমরা কোনো পরিষেবা যেতে দেবো না। সোমবার রাতে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদকিরা চিন্ময় দাসকে গ্রেফতারের কারণ জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘চিন্ময় দাস আটক হয়েছেন বলে আমরা জানি। ওনার নামে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার আপনাদের জানাবেন।’ চিন্ময় প্রভুর গ্রেপ্তারি এবং জামিন না পাওয়া নিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, “চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারি এবং জামিন না পাওয়ার ঘটনা আমরা যথেষ্ট উদ্বেগের সঙ্গে দেখছি। ইনি বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতন জাগরণ মঞ্চের প্রধান মুখ। এর আগে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতন, অত্যাচার, খুন এবং ঘরবাড়ি লুঠ করার ঘটনা ঘটেছে। এর পর এই গ্রেপ্তারি ও জামিন না পাওয়া এটাই স্পষ্ট করে, বাংলাদেশ মৌলবাদীদের মুক্তাঞ্চল হয়ে উঠেছে এবং লাগাতার সেখানে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ চলছে। আমরা বাংলাদেশ প্রশাসনের কাছে আর্জি জানাচ্ছি বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দু ও অন্যান্য সকল বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। শুধু তাই নয়, তাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার সুনিশ্চিত করুক বাংলাদেশ প্রশাসন।” প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই বাংলাদেশের কট্টরপন্থী মুসলিমরা সেদেশে ইসকনকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছিল। এমনকি এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে সাম্প্রদায়িক বলে আখ্যায়িত করে চরম হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল। না হলে ইসকন ভক্তদের ধরে ধরে হত্যা করারও হুমকি দেয় তারা। বিষয়টি নিয়ে ভারত ও আমেরিকার সাহায্যের আবেদন জানান ইসকনের এক সদস্য। কট্টরপন্থী মুসলিমদের সামাজিক মাধ্যমে হুমকির পরই আতঙ্কিত হয়ে এই আবেদন জানান তাঁরা।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post