ইসকনকে নিষিদ্ধ করার কোনও পরিকল্পনা নেই। বাংলাদেশ সরকার কোনও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনও ব্যক্তির অপরাধ মিশিয়ে ফেলছে না। এমনটাই বিবৃতি দিল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। সেখানে চিন্ময় দাসের গ্রেফতারি ও ইসকনকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ইউনূস সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান মঙ্গলবার এই নিয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘ইসকনকে নিষিদ্ধ করার কোনও পরিকল্পনাই হয়নি। এই নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারে কোনও আলোচনাও হয়নি। অনেকে নানা দাবি তুলতেই পারেন। লোকজন তাঁদের দাবি ফলপ্রসূ করাতে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করতেই পারেন। আমরা কোনও নির্দিষ্ট, একক ব্যক্তির অপররাধের সঙ্গে কোনও সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানরকে জড়িয়ে ফেলতে চাই না।’ এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক চারুচন্দ্র দাস দাবি করেন যে এখন তাঁদের সংগঠনের সঙ্গে চিন্ময়কৃষ্ণ প্রভুর কোনও সম্পর্ক নেই। তাই বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র যে বক্তব্য পেশ করেছেন বা তিনি যে কাজ করেছেন, সেটার সম্পূর্ণ দায়ভার তাঁরই। আর সেই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। দাবি করা হয় যে বাংলাদেশে ইসকনকে নিষিদ্ধ করার দাবি উঠতেই চিন্ময়কৃষ্ণ প্রভুর দায় ঝেড়ে ফেলা হল। সেটার প্রেক্ষিতেই কয়েক ঘণ্টা পরে ইসকনের তরফে সাফাই গেয়ে বলা হয়, হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণদাসের থেকে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করা হয়নি। শুধু এটা জানানো হয়েছে যে এখন চিন্ময়কৃষ্ণ প্রভু আর ইসকনের প্রতিনিধি নন। ইসকনের তরফে জানানো হয়েছে, হিন্দু ও তাঁদের ধর্মীয়স্থানকে রক্ষা করার জন্য শান্তিপূর্ণভাবে যে ডাক দিয়েছিলেন চিন্ময়কৃষ্ণ প্রভু, সেটা তাঁর অধিকার এবং স্বাধীনতা। আর তাঁর অধিকার এবং স্বাধীনতার প্রতি সমর্থন জানানোর থেকে কোনও দূরত্ব তৈরি করেনি ইসকন। অন্যান্য সব সনাতনী সংগঠনের মতোই ইসকনও বাংলাদেশের হিন্দুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে। এইখানেই প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি সাঁড়াশির চাপে সুর নরম করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার? নাকি তলে তলে অন্য ফন্দি আটছে ইউনূস। প্রসঙ্গত, চিন্ময়কৃষ্ণের গ্রেফতারির পর বাংলাদেশে ইসকনের তরফে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন চিন্ময়কৃষ্ণের অনুরাগীরাই। চিন্ময়ের মুক্তির দাবিতে মূলত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ পথে নেমেছেন। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের হাই কোর্টে আবেদন জানানো হয়েছে, ইসকনকে নিষিদ্ধ করা হোক। জরুরি অবস্থা জারি করা হোক চট্টগ্রাম এবং রংপুরে। যেহেতু সরকার ইতিমধ্যেই ইসকনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছে এবং চট্টগ্রামে আইনজীবী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ব্যবস্থা নিয়েছে, তাই তারা এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চাইছে না। স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে ইসকনের বিরুদ্ধে কোনও নির্দেশ দেবে না। ফলে ইসকনের বিরুদ্ধে করা মামলা আদালতে খারিজ হয়ে গিয়েছে। ইসকনের বর্তমান কার্যকলাপ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার, সে বিষয়েও আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে। এই আবহে বাংলাদেশে এখনই ইসকন নিষিদ্ধ হচ্ছে না। হাইকোর্টে খারিজ হয়ে গেল রিট পিটিশন। এদিন আদালতের তরফে জানানো হয়, ইসকন নিষিদ্ধ হবে কি না সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার রয়েছে সরকারের।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post