বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর লাগাতার নির্যাতন ও হিন্দু মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় ফুঁসছে ভারতসহ গোটা বিশ্ব। সেদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একাধিক উপদেষ্টার মুখ থেকে শোনা গিয়েছে ভারতবিরোধী মন্তব্য। হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় প্রভুর গ্রেপ্তারিতে জ্বলছে বাংলাদেশ। যার ছাপ এসে পড়েছে ভারতবর্ষেও। সঙ্গে চিরাচরিত পড়শি দেশের মানুষদের ‘ভারত-বিদ্বেষী’ কথাবার্তা তো আছেই। ফলে বেশ উত্তপ্ত আপাতত দুই দেশের আভ্যন্তরীণ সম্পর্ক। শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে হিন্দুদের বাড়ির ঘর এবং মন্দিরে ২০৫টি হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হল ডেইলি স্টার সংবাদপত্র। এদিকে একাধিক রিপোর্ট ঘেঁটে দেখা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত এই হিংসায় ১২ জন হিন্দুকে খুন করার ঘটনা সামনে এসেছে সেদেশে। এদিকে গত ৯ অগস্ট থেকে পালটা আন্দোলনে নামেন সেদেশের হিন্দুরা। স্লোগান ওঠে ‘কথায় কথায় ভারত যা! দেশটা কারও বাপের না’। ক্রমশই মাথা চারা দিয়ে উঠছে ভারত বাংলাদেশে যুদ্ধ পরিস্থিতির সম্ভাবনা। উল্লেখ্য, হিন্দুরা ঐতিহাসিক ভাবে আওয়ামি লিগকে সমর্থন করে এসেছে সেই দেশে। এই পরিস্থিতিতে যখনও দেশে কোনও রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা গিয়েছে, হামলা হয়েছে সেই হিন্দুদের ওপরেই। সঙ্গে কথায় কথায় হিন্দুদের বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে বলা হয় সেখানে। গোটা ঘটনার ওপরে কড়া নজর রাখছে ভারত। সমালোচনা করেছে পাশ্চাত্য দেশগুলি। দিন দিন পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে তাতে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন বাজতে চলেছে ভারত-বাংলাদেশ যুদ্ধের দামামা। কিন্তু পরিস্থিতি যদি সেদিকে যায়, তারপর কী হবে? কোথায় দাঁড়িয়ে দুই দেশের সামরিক শক্তি? ভারতের হামলা সামলাতে পারবে তো বাংলাদেশ? প্রশ্ন উঠছেই, বর্তমানে দুই দেশের সামরিক শক্তি কোথায় দাঁড়িয়ে, তা নিয়ে। দেখা যাচ্ছে, গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ২০২৪ তথ্যানুযায়ী ১৪৫টি দেশের মধ্যে ৩৭ তম দেশ বাংলাদেশ। অপরদিকে, বিশ্বে মিলিটারি শক্তিতে সেরা পাঁচে রয়েছে ভারত। ভারতের স্থান চতুর্থ। সুতরাং যুদ্ধ হলে সামরিক শক্তির দিক থেকে চতুর্থতম দেশের সঙ্গে লড়বে ৩৭তম দেশ। দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের সেনা সংখ্যা আনুমানিক ৬৯ লক্ষ ৬৩ হাজার। যার মধ্যে সক্রিয় রয়েছে আনুমানিক ১ লক্ষ ৬৩ হাজার সেনা। বাংলাদেশে কোনও রিজার্ভ সেনা নেই। অপরদিকে, ভারতের সেনা সংখ্যা ৫১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫৫০। যার মধ্যে সক্রিয় সেনা রয়েছে ১৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ৫৫০। ভারতে রিজার্ভ সেনার সংখ্যাও ১১ লক্ষ ৫৫ হাজার। সামরিক শক্তির তুল্যমূল্য বিচারে এগিয়ে কে, পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট।শুধু তাই নয়, পরিসংখ্যান বলছে বাংলাদেশে আধা সামরিক বাহিনী প্রায় ৬৮ লক্ষ। যার মধ্যে সেনা বাহিনীতে ১লক্ষ ৬০হাজার। বিমান বাহিনীতে ১৭হাজার ৪০০ জন। নৌ বাহিনীতে ২৫ হাজার ১০০ জন। এদিকে ভারতের কাছে আধা সামরিক বাহিনীতে রয়েছে ২৫লক্ষ ২৭ হাজার। যার মধ্যে সেনা বাহিনীতে ২১লক্ষ ৯৭হাজার ১১৭ জন। বায়ুসেনায় ৩ লক্ষ ১০হাজার ৫৭৫ জন। নৌবাহিনীতে রয়েছে ১ লক্ষ ৪২ হাজার ২৫২ জন। সুতরাং বলাই বাহুল্য, স্থল, জল কিংবা আকাশপথে সেনাবাহিনীর সমস্ত দিক থেকেই এগিয়ে ভারত। এছাড়াও যেখানে ভারতের ৪৬১৪টি ট্যাঙ্কের মধ্যে প্রস্তুত ৩৪৬১টি, সেখানে বাংলাদেশের স্থলবাহিনীর ৩২০টি ট্যাঙ্কের মধ্যে প্রস্তুত ২২৪টি। ভারতের ১৪০টি সেলফ্ প্রোপেল্ড আর্টিলারির মধ্যে যেখানে প্রস্তুত ১০৫টি, সেখানে বাংলাদেশের ২৭টি সেলফ্ প্রোপেল্ড আর্টিলারির মধ্যে প্রস্তুত মাত্র ১৯টি। ইতিমধ্যেই ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, ভারত শান্তিপ্রিয় দেশ। শান্তি রক্ষার জন্য ভারতের সশস্ত্র বাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। রাশিয়া-ইউক্রেন ও ইসরায়েল-হামাস সংঘাত এবং বাংলাদেশের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে রাজনাথ তাঁর দেশের সামরিক কমান্ডারদের এসব ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণের পরামর্শ দেন। তিনি ভারতের সামরিক বাহিনীকে ‘অপ্রত্যাশিত’ ঘটনা মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে বলেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post