বাংলাদেশে সংখ্যালঘু-সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির ওপর ভারত গভীরভাবে নজর রাখছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেছেন, সংখ্যালঘুসহ বাংলাদেশের সব নাগরিকের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেশটির সরকারের।বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতার অভিযোগ এনে লোকসভায় করা পাঁচটি প্রশ্নের লিখিত জবাবে জানান এস জয়শঙ্কর। জয়শঙ্কর বলেন, বাংলাদেশজুড়ে চলতি বছরের আগস্টসহ বিভিন্ন সময়ে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুর ওপর সহিংসতার খবর দেখেছে ভারত সরকার। তাদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সহিংসতা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। সংখ্যালঘুদের মন্দির ও ধর্মীয় স্থানগুলোতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে ভারত। এ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। চলতি বছর শারদীয় দুর্গোৎসবের সময় বাংলাদেশে বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে হামলার খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঢাকার তাঁতীবাজারে পূজামণ্ডপে হামলা এবং সাতক্ষীরার যশোরেশ্বরী কালীমন্দিরে চুরির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। এসব ঘটনার পর বিশেষ নিরাপত্তার নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব উদ্যাপন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছিল। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রেখেছে ভারত। এরই মধ্যে বাংলাদেশকে নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল ত্রিপুরা। সম্প্রতি, বাংলাদেশে যে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ত্রিপুরা সরকার। এবার থেকে বাংলাদেশের নাগরিকরা ত্রিপুরায় আর কোনও হোটেল পরিষেবা পাবে না। জানিয়ে দিল ত্রিপুরার হোটেল আর রেস্তোরাঁ মালিকদের সংগঠন। সোমবার সেখানে হোটেল মালিকরা বৈঠক করেন। সেই বৈঠক থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। হোটেল মালিকরা একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের নাগরিকরা এ রাজ্যে এলে আমরা তাঁদের সম্মান দিয়ে থাকি। তাঁদের পরিষেবার কোনও ত্রুটি হয় না। অথচ, সাম্প্রতিক সময়ে সে দেশের এক শ্রেণির জনগণ ভারতের পতাকার অপমান করার পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার করছে। তারই প্রতিবাদে ত্রিপুরার হোটেল মালিকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এবার থেকে কোনও বাংলাদেশি ত্রিপুরায় আর কোনও হোটেল পরিষেবা পাবেন না। এর আগে বাংলাদেশ বর্ডার বন্ধ করেছিল ভারত। দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ ও আলু আমদানি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ভারতের অভ্যন্তরে স্লট বুকিং বন্ধ থাকায় দিনাজপুরে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে তিন দিন ধরে পেঁয়াজ ও আলু আমদানি বন্ধ ছিল। এখানেই জানিয়ে রাখি, কিছুদিন আগে ঢাকার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, পাকিস্তানি পণ্য মাত্রই প্যাকেট খুলে পরীক্ষা করার যে শর্ত ছিল তা প্রত্যাহার করা হল। কোনও পণ্য নিয়ে সন্দেহ বা গোয়েন্দা রিপোর্ট থাকলে তবেই চেক করা হবে। এই নিয়ম চালু করেছিলেন শেখ হাসিনা।অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গ সরকার আলু রপ্তানিতে স্লট বুকিং বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশে চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতার ও সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগে অশান্ত বাংলাদেশ এবং উত্তপ্ত কলকাতা। বঙ্গে বারবার পুলিসের সঙ্গে খণ্ড যুদ্ধে জড়াচ্ছেন সনাতনি বিক্ষোভকারীরা। বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ছাড়াও গণসংগঠনগুলি চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের মুক্তির প্রতিবাদে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। সংখ্যালঘুদের উপর লাগাতার আক্রমণ ও সন্ন্যাসীকে গ্রেফতারির ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত সরকার। আর এই পরিস্থিতির মধ্যেই এপারে হাসপাতালে বাংলাদেশির প্রবেশ নিষেধ করা হল, বাংলাদেশিদের চিকিৎসা নয়, জানিয়ে দিয়েছে মানিকতলার একটি বেসরকারি হাসপাতাল। ভারত ও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তের মধ্যে চ্যাংরাবান্ধা, পেট্রাপোল দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বৈদেশিক বাণিজ্য হয়। কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের চ্যাংরাবান্ধা সীমান্তে দিয়ে শুধু ভারত-বাংলাদেশ নয়, ভুটান-বাংলাদেশ বৈদেশিক বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গিয়েছে । ইতিমধ্যেই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমান্ত সিল করেছে বিএসএফ ।ফের বাংলাদেশে কারফিউ লাগু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাণিজ্য কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় সোমবার থেকে সেদেশে টানা তিনদিনের জন্য বাণিজ্য স্থগিত করার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকার। ফলে বোঝাই যাচ্ছে ভারতের একের পর এক দরজা বন্ধ হচ্ছে বাংলাদেশের জন্য। ওদিকে ধীরে ধীরে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে আমেরিকা। সেদেশের বাসিন্দায় ভরসা রাখতে পারছে না অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর। ফলত, কার্যত কোন ঠাসা হতে হচ্ছে ইউনূস সরকারকে। প্রশ্ন উঠছে ভারতকে ছাড়া বাংলাদেশের চলবে তো? বাংলাদেশের গোটা ঘটনার প্রেক্ষিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেনা প্রধান জানা “আমরা সমস্ত দায়িত্ব নিচ্ছি। দ্রুত পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক হবে।” আন্দোলনকারীদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার আর্জি জানান সেনা প্রধান।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post