যখনই বাংলাদেশ উত্তপ্ত হয়েছে, অশান্তি এড়াতে বহু মানুষে ওপার বাংলা থেকে ছুটে এসেছেন এপার বাংলাতে। ২০২৪ সালে দাঁড়িয়েও ছবিটা একই রয়ে গিয়েছে। যে কোনও সমস্যাতেই এপার বাংলাতে ছুটে আসেন বাংলাদেশীরা। শুধু বাংলাদেশ নয়, সেই তালিকায় রয়েছে মায়ানমার, আরকান প্রদেশ। নিরাপদ স্থান খুঁজতে ভারতে এসে আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন সময়ে। তবে বাংলাদেশের বিষয়টি কোনও ঘটনাকে কেন্দ্র করে নয়, সারা বছরই সীমান্তে থাকা সেনাকে ফাঁকি দিয়ে এই দেশে প্রবেশ করেছে তারা।
সম্প্রতি, বাংলাদেশে পালাবদল হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। ছাত্রদের কোটা বিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক পালাবদল হয়ে গঠিত হয়েছে অন্তবর্তী সরকার। সরকারের প্রধান দায়িত্বে রয়েছেন নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনূস। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পরও অশান্তই রয়ে গিয়েছে বাংলাদেশ। সেদেশের সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতার করেছে সেখানকার প্রশাসন। যা ঘিরে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেখানে। দলে দলে সনাতনী হিন্দুরা বিক্ষোভ করছেন। প্রতিবাদের আঁচ আছড়ে পড়ছে রাজপথে। আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, অশান্তি এড়াতে আবারও কি বাংলাদেশীরা ভারতে ঢুকে পড়বে?
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পাহাড়ার দায়িত্বে রয়েছে বিসিএসএফ। তারপরও..
বিএসএফকে ফাঁকি দিয়ে কীভাবে কাঁটাতার টপকে এদেশে চলে আসে বাংলাদেশীরা? প্রশ্ন তো উঠছেই।
তবে কি কোনও গোপন পথ ধরে এদেশের প্রবেশ করছে তারা?
এই নিয়ে একটি ড্রোন ফুটেজ প্রকাশ করেছে বিএসএফ। যেখানে ধরা পড়ছে অবৈধভাবে রাতের অন্ধকারে কীভাবে ঢুকছে অনুপ্রবেশকারীরা।
এই বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্তে কাঁটাতার রয়েছে। কিন্তু অনকেটা বড় অংশে কোনও কাঁটাতার নেই। সেখান দিয়েই অবাধে প্রবেশ করছে অনুপ্রবেশকারীরা। মূলত জানা যাচ্ছে, উত্তরবঙ্গের ফ্রন্টিয়ার, দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের বেশ খানিকটা জায়গা কাঁটাতার বিহীন। সেই পরিমাণটা ২ হাজার ২১৭ কিলোমিটার। এছাড়াও গুয়াহাটি ফ্রন্টিয়ারের কোচবিহারের বেশ কিছু এলাকা অবাধ রয়েছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে,
কেন কোনও কাঁটাতার লাগানো হয়নি এই সমস্ত জায়গায়?
সূত্রের খবর, রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জন্যই এখনও কাঁটাতারে ঘেরা নেই বেশ কিছু জায়গা। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গ এবং সুন্দরবনের বেশ কিছু জায়গা এতটা দুর্গম যে, সেখানে কাঁটাতার বসানো যায়নি।
তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়েছে ১২৭ জন। ২০২৪-এ সেই সমখ্যাটা বেড়েছে। গত তিন-চার মাসে আরও বেড়েছে সংখ্যাটা।
বেশ কিছু অবাধ জায়গায় কাঁটাতার বসানো নিয়ে বক্তব্য রেখেছে বিএসএফও। বিএসএফের পক্ষ থেকে ড্রোন ক্যামেরায় ফুটেজ প্রকাশ করে জানিয়েছে, রাতের অন্ধকারে কীভাবে অনুপ্রবেশ ঘটে। এর জন্যই বাংলাদেশ উত্তপ্ত হতেই আরও আঁটসাঁট করা হয়েছে নিরাপত্তা। এমনকি ফঁসিদেওয়ার আশপাশে অনেক জায়গায় কাঁটাতার নতুন করে বসানো হয়েছে। যেগুলি আগে অবাধ ছিল। এখন তা কড়া নিরাপত্তায় মোড়া রয়েছে। এমনকি বড়সড় ফাঁকা অংশগুলিতেও ফেন্সিং-এর কাজ চালানো হচ্ছে।
তবে বাংলাদেশে যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে এদেশের হিন্দু সংগঠনগুলি জোরদার প্রতিবাদ করছে। পাশাপাশি কেন্দ্রও যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। আর এরমধ্যেই অনুপ্রবেশ নিয়ে মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতের। তবে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কঠর হচ্ছে বিএসএফ।












Discussion about this post