দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম অতিথি হতে চলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আন্তর্জাতিক মহলকে চমকে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে বৈঠকের সময়সীমা ঘোষণা করে দিলেন। আগামী মাসেই আমেরিকা সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ।ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর এই প্রথম কোন বিদেশী রাষ্ট্রনেতা ওয়াশিংটন ডিসি তে গিয়ে বৈঠক করতে চলেছেন সে বিষয়টিও স্পষ্ট সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়ে দিল আমেরিকা। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যত পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে চাপে ফেলেছে তা বলাই বাহুল্য।
বেশ কিছুদিন আগেই বাংলাদেশের মিডিয়ার তরফ থেকে দাবি করা হচ্ছিল যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সেই সুসম্পর্ক আর নেই। ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন বিষয়ে উপেক্ষা করছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। এমনও কিছু দাবি সামনে আসছিল যে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদিকে উপেক্ষা করে এবার ডোনাল্ড ট্রাম্প মহম্মদ ইউনুসকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করছে। আর এবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর এক নিমিষে এগুলো মিথ্যা হয়ে গেল।
উল্লেখ্য, ২৭ জানুয়ারি ফোনে কথা হয় মোদি ও ট্রাম্পের। নানা বিষয়ে আলোচনা তাদের। এই ফোনালাপের পরেই প্রধানমন্ত্রীর মার্কিন সফরের বিষয়টি ঘোষণা করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলার বিষয়টি নিজেই এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন মোদি। তিনি লেখেন, ‘আজ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট, আমার প্রিয় বন্ধু ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলে আমি উচ্ছ্বসিত। দ্বিতীয়বার ঐতিহাসিক জয়ের জন্য তাঁকে অভিনন্দন। আমরা পারস্পরিক উপকার ও বিশ্বস্ত অংশীদারিত্বের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা আমাদের দেশের জনগণের কল্যাণে এবং বিশ্ব শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার লক্ষ্যে আগামী দিনেও একসঙ্গে কাজ করব।’
উল্লেখ্য,আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদির আমেরিকা সফর কূটনীতি থেকে শুরু করে ব্যবসা অনেক ক্ষেত্রেই ভারতকে উপকৃত করবে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা। মূলত মোদীর এই আমেরিকা সফর আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
ভারত ও আমেরিকা দুই দেশই চিনকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। দুই দেশই চায় সৌদি-ইজরায়েলের মধ্যে একটি চুক্তি বা সমঝোতা হোক এবং দুই দেশই চায় ইউরোপে স্থিতাবস্থা বজায় থাকুক ও ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হয়ে শান্তি ফিরুক।
চিন ইস্যুতে ভারত ও আমেরিকা কতটা পরস্পরকে ভরসা করে, সেটা মোদির আসন্ন সফরে অনেকটা স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই ট্রাম্প অভিবাসীদের নীতির জেরে আমেরিকায় বসবাসকারী বহু ভারতীয় বিপদে পড়তে পারেন। আর এই সমস্যা দূর করতে এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের যাতে স্বার্থ রক্ষা করা যায় তার জন্য ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া এই মুহূর্তে আমেরিকা এবং ভারত দুই দেশের মধ্যে বিশেষ কয়েকটি কারণ নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। যেমন – দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, অভিবাসন, প্রতিরক্ষা এবং বিনিয়োগ। পরবর্তীতে যাতে এই ইস্যুগুলি দু’দেশের মধ্যে সমস্যা তৈরি না করে তার জন্য হয়তো আলোচনা হতে পারে বৈঠকে।
বিশ্বজুড়ে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাড়বাড়ন্ত এবং সেই ক্ষেত্রে চিনা সংস্থা ডিপসিক-এর অনুপ্রবেশ, ভারত এবং আমেরিকা দুই দেশের কাছেই চিন্তার বিষয়। সেই বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post