বাংলাদেশের সেনানিবাসে এখন সুরক্ষিত নয় সেনারা। মূলত বাংলাদেশ ক্যান্টনমেন্টে এখন সেনাকর্তাদের মধ্যে দুটো দল লক্ষ্য করা যাচ্ছে একটি দল জামাতপন্থী অপরটি জামাত বিরোধী। এই জামাতপন্থী দলের নেতা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মহম্মদ ফয়জুর রহমান। তিনি জামাতের খুব ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। তার দল অপর জামাত বিরোধী দলটির বিভিন্ন কর্মীদের চাপে ফেলতে হয় অন্য কোথাও ট্রান্সফার করে দিচ্ছে না হলে নিখোঁজ করে দিচ্ছে।
সম্প্রতি এমনই এক নিখোঁজ এর খবর সামনে এল বাংলাদেশ সেনানিবাসে। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম খাগড়াছলি সেনা ক্যাম্পে পাঁচ জন সেনা নিখোঁজ। তাদের মধ্যে তিনজন কর্নেল এবং বাকি দুজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল। এই ৫ সেনাকর্তা ২৬শে জানুয়ারি ২০২৫ থেকে নিখোঁজ, এখন তাদের কোনো রকম খোঁজ মেলেনি। এই ঘটনার পর থেকে এ নিখোঁজ সেনাকর্তাদের পরিবারের লোকজন তাদের খোঁজার জন্য যখন সেনাদপ্তরে যায় তখন সোনা দপ্তর থেকে তাদেরকে কখনও বলা হয় সুনা কর্তাদের আরাকান আর্মি আটক করে নিয়ে গেছে বা কখনও বলা হয় তারা ডিউটি শেষ করে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে।
এই সমস্ত ঘটনা পরপর সাজালে বোঝাই যাচ্ছে যে বাংলাদেশের সেনানিবাসে বিরাট কিছু একটা ঘটছে।
বাংলাদেশের সেনানিবাসে কিছু একটি ঘটছে সেই আন্দাজ বাংলাদেশের বিভিন্ন মহলেই পাওয়া গিয়েছে কিন্তু তারা বিষয়টিকে গোপনে রেখেছিল এবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি স্পষ্ট হল।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনানিবাসে একাধিক মেরু গঠনের খবর আসছে। তার জেরে ইসলামিক কট্টর পন্থীদের মদতে সেখানে কোন সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে কিনা সেদিকেই নজর রাখছে ভারত। সূত্রের খবর লেফটেন্যান্ট জেনারেল মহম্মদ ফয়সুর রহমান দখল নিতে সক্রিয় বলে ধারণা তৈরি হয়েছে।
গত সপ্তাহেই পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি।
অভ্যুত্থানের পরিকল্পনার সমর্থন সেনারই একটি অংশের থেকে জোগাড় করার চেষ্টা করছেন তিনি।
বাংলাদেশের গোয়েন্দা শাখার সঙ্গেও তিনি যোগাযোগ রাখছেন বলে খবর।
অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরীর বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। তিনি নতুন বছরে অর্থাৎ চলতি বছরের একদম প্রথম দিনে বাংলাদেশের গণমাধ্যম প্রথম আলো একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন সেখানেই তিনি ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। এমনকি সম্প্রতি ভারতের সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দিবেদি জানিয়েছেন ঢাকার সঙ্গে নয়া দিল্লির খুব মজবুত একটি সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। সে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনী ও নেতৃত্বের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে তা জানে সাউথ ব্লক। তাই সতর্কতার সঙ্গে এই বিষয়টিকে নজর রাখা হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রে খবর লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ ফয়জুর রহমান জামাতে ইসলামীর কট্টর সমর্থক বলেই পরিচিত। পাকিস্তানের আইএসআই এর মধ্যেও তার মিত্র রয়েছে বলে খবর। সেখানে বাংলাদেশের সেনা প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান মধ্যপন্থা অবলম্বন করে চলছেন, কিন্তু বাংলাদেশের অনেকেই হয়তো তাকে বর্তমান পরিস্থিতির মূল চক্রী হিসেবেই দেখছেন। তবে সেনানিবাসের এই ঘটনা সামনে আসতেই বোঝা যাচ্ছে বেশ কিছুটা চাপেই রয়েছেন সেদেশের সেনাপ্রধান।












Discussion about this post