আমেরিকান ধনকুবের ইলন মাস্ক কিছুদিন আগে ইউ এস এ আইডি সম্পর্কিত চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছিলেন। সেখানে তিনি জানিয়েছিলেন ইউএসএআইডির সংক্রান্ত যে সকল তথ্য উঠে এসেছে, তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ হল শেখ হাসিনা তাদের পরিকল্পনাতে রাজি হননি, তাই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বা দেশ থেকে উৎখাত করা হয়েছে। এবার সামনে এল আরো এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
কেন ট্রান্সজেন্ডারদের ফান্ডিং করেছিল মার্কিন প্রশাসন? কিভাবে এই ছাত্র আন্দোলনে নেতাদের এক জোট করা হয়েছিল? কেন বিএনপিকে প্রাথমিকভাবে সাপোর্ট করেছিল আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র? এবার এরকম একাধিক নথি যখন প্রকাশ্যে আসছে তখন আন্তর্জাতিক স্তর রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
বিভিন্ন সময় দেখা গিয়েছে বিভিন্ন প্রকল্পের সাহায্যের শেখ হাসিনাকে উৎখাত করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আর শেখ হাসিনাকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন স্তরের মানুষ পরিকল্পনায় জড়িত ছিল। আর এর পেছনে ছিল আমেরিকার বিপুল পরিমাণ ফান্ডিং। তার মাঝে এলন মাস্কের আরো ভয়ংকর তথ্য প্রকাশের পরও বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম এই খবরটিকে সামনে আনছে না।
সম্প্রতি একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে আমেরিকার প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক বেঞ্জের কথাতে সম্মতি জানিয়ে মিলন মাস্ক একটি নতুন নথি সামনে এনেছেন। এক কথায় বলা যায় আমেরিকার প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করে নিচ্ছেন, ইউএসএইআইডি কোন দেশকে দাও এবং সেই দেশকেই গিলে খাবে আমেরিকা। মাইক পেজ সরাসরি বানিয়েছেন শেখ হাসিনাকে আমেরিকার মিনিস্ট্রি অফ স্টেট একটি অফার করেছিল, বাংলাদেশের এমন একটা জায়গা দিতে হবে যেখানে আমেরিকার সামরিক বাহিনী বা বেস ক্যাম্প তৈরি করতে পারে। কিন্তু এই প্রস্তাবে হাসিনা রাজি হননি। যে কাজটা কোরিয়া করেছে সাউথ কোরিয়া করেছে সেটা বাংলাদেশ করবে না। অর্থাৎ শেখ হাসিনার কথায় সেন্ট মার্টিন শ্বেতাঙ্গ ডোনাল্ডো লু এর হাতে তুলে দিতে চাননি। এরপরই শুরু হয়ে যায় হাসিনা বিরোধী আন্দোলন।
২০১৯ ও ২০ সালে আমেরিকা প্রশাসন চেয়েছিল বিএনপিকে ফেরাতে। কিন্তু পরবর্তীতে বিএনপির ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন তলে আমেরিকায়। ভবিষ্যতে বিএনপি আমেরিকার প্রশাসনের সাথে কোনোভাবেই খাপ খাইয়ে কাজ করতে পারত না।
মাইক বেঞ্জ বলেন, “আমেরিকা শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে জয় নিয়ে খুশি ছিল না। বিএনপি বরং মার্কিন স্বার্থের সঙ্গে বেশি খাপ খায়। তাদের কীভাবে তুলে ধরা যায়, তা নিয়ে রিপোর্ট জমা পড়েছিল। আমেরিকার বিদেশনীতির সঙ্গে হাসিনার অনেক ক্ষেত্রে মিল ছিল না। একটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে হিলারি ক্লিনটন যখন বিদেশমন্ত্রী ছিলেন, তখন হাসিনার ছেলের বিরুদ্ধে তদন্ত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।”
হাসিনা নিজেও বলেছিলেন যে মার্কিন ঘাটি নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণেই তাঁকে গদিচ্যুত করা হয়েছে। কোনও দেশই নিজের দেশে বিদেশি সেনা পছন্দ করে না। রোমানিয়াতেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কে পছন্দ করবে নিজের দেশে ৫০০ একর জমি দিয়ে দিতে। হাসিনা আপত্তি করেছিল মার্কিন সামরিক ঘাঁটি তৈরি নিয়ে। তখন বিদেশ নীতি নির্ধারকরা সরকার বদল করার সিদ্ধান্ত নেয়। দেশে অস্থিরতা তৈরি করে এবং হাসিনা সরকারকে দুর্বল করে। তথাকথিত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও অ্যাক্টিভিস্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, যাতে পরের নির্বাচনে এরা জয়ী হতে পারে বা আন্দোলনের মাধ্যমে হাসিনাকে উৎখাত করা যায়। দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়।












Discussion about this post