দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এই প্রথম নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকের দিকে নজর ছিল গোটা বিশ্বের। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর নরেন্দ্র মোদি জানান, এখন অর্থাৎ দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প মসনদে বসার পর আরও কয়েকগুণ দ্রুততার সঙ্গে কাজ করতে পারবে দুই দেশ। কার্যত আরও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলবে দুই দেশ। মূলত এমনই বেশ কিছু কথা প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের পর দুই দেশের সম্পর্ক আরো গভীর হবে,এবং দুই দেশ অন্তত তিনগুণ দ্রুততার সঙ্গে কাজ করতে পারবে।
উল্লেখ্য, ভারত ও আমেরিকা যৌথ ভাবে একটি বিবৃতি দিয়েছে। আর এই বিবৃতিতে আল কায়দা, আইসিস, জয়সি মহমদ ও লস্করি তইবার মত সন্ত্রাসী ও জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে যৌথভাবে লড়াই করবে ভারত ও আমেরিকা । এগুলির মধ্যে জয়সি মহম্মদ বাংলাদেশে অত্যন্ত সক্রিয়। আলকায়েদা এবং আনসারুল্লা বাংলা টিম ভারতেযও নাশকতা চালায়। সন্ত্রাসবাদ দমন নিয়ে এক সুরে পাকিস্তানকে আক্রমণ মোদী ও ট্রাম্পের। ভারত ও আমেরিকার দুই রাষ্ট্রপ্রধান যৌথ বিবৃতিতে কড়া বার্তা দিয়েছে পাকিস্তানকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সঙ্গে নিয়েই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, পাকিস্তানকে নিশ্চিত করতে হবে তাদের মাটি যেন সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য ব্যবহার না করা হয়। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের এই হুশিয়ারীর পর শোরগোল পড়ে গিয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে। এই বিষয়টিকে ভারতের বিরাট কূটনৈতিক জয় হিসাবেই দেখছেন অনেকে। প্রসঙ্গত সন্ত্রাসবাদকে মদত দেওয়ার অভিযোগে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক বার সরব হয়েছে ভারত।
ভারত ও আমেরিকার যৌথ বিবৃতির পর পাকিস্তান অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। যৌথ বিবৃতিতে পাকিস্তানকে নিশানা করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সে দেশের বিদেশ বিষয়ক মুখপাত্র শাফকাত আলি খান।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি দুদিনের মার্কিন সফরে গিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এরপর ভারতীয় সময় শুক্রবার সকালে মোদী ও ট্রাম্প এর বৈঠক শুরু হয়। আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সেই বৈঠকে আলোচনা হয় দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে। তবে এই বৈঠকে বিশেষভাবে গুরুত্ব পায় সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গ। মোদী ও ট্রাম্প ইসলামিক সন্ত্রাস রুখতে যৌথভাবে কাজ করতে সহমত পোষণ করেন। বৈঠক শেষে মোদির সঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলনে যোগ দেন ট্রাম্প। সেখানে সন্ত্রাসবাদ দমন নিয়ে পাকিস্তানকে ‘টার্গেট’ করেন দুই রাষ্ট্রনেতা। যৌথ বিবৃতিতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়, সন্ত্রাসবাদ দমনের জন্য পাকিস্তানকে সবরকম চেষ্টা করতে হবে। তাদের মাটি ব্যবহার করে যাতে সীমান্তে সন্ত্রাসবাদী হামলা না হয় তা পাকিস্তানকেই নিশ্চিত করতে হবে।












Discussion about this post