বাংলাদেশে আত্মপ্রকাশ করল নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক কমিটি। আর এই দলের সদস্যদের টার্গেট হতে পারে সেনা দপ্তর এমনটাই মনে করা হচ্ছে। পুরো বিষয়টিতে উস্কানি দিচ্ছে পিনাকী ভট্টাচার্য ইলিয়াস হোসেন। ৩২ নম্বর ধানমন্ডির মতো পরিস্থিতি তৈরি করার লক্ষ্য নেই এগোচ্ছে এই নতুন রাজনৈতিক দলের সদস্যরা। সেনাব দপ্তরের ওপর হামলাই এখন হয়তো তাদের প্রধান লক্ষ্য হতে পারে।
জাতীয় নাগরিক কমিটির উন্মত্ত সদস্যরা এখন ৩২ নম্বর ধানমন্ডির মতো ধুলিস্যাৎ করে দিতেই ধাবিত হতে পারে ঢাকার সেনাদপ্তরের দিকে। এই খবর কিছুটা প্রকাশ্যে আসতেই সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জ্জামান একটি গোপন বৈঠক করেন যেখানে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর সমস্ত উচ্চ পদস্থ কর্তারা এবং বিমান ও নৌবাহিনীর প্রধান কর্তারাও। ৯ নম্বর ব্যাটেলিয়নকে সদা প্রস্তুত থাকার কথা বলা হয়েছিল, কারণ যদি সেই সময় কোনভাবে রাজনৈতিক দলের ছাত্ররা হামলা চালাতে আসে সেনাদপ্তরে তার আগাম প্রস্তুতি হিসাবে। তবে প্রশ্ন থাকছে হঠাৎ কেন এই ধরনের পরিকল্পনার জন্ম হল সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য, বহুদিন ধরে ভারতের সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী, বাংলাদেশ সেনাপ্রধানকে ম্যাজিস্ট্রেট পাওয়ার হাতে নিয়ে নিশ্চুপ হয়ে বসে না থাকার বার্তা দিয়েছিলেন। কারণ তাতে নেতিবাচক বার্তা পৌঁছতে পারে বিভিন্ন বিরোধী গোষ্ঠীগুলির কাছে। কিন্তু সেই সময় বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান সেই কথায় একেবারেই কান দেননি।
আর এখন সেই ভুলেরই মাশুল দিতে হচ্ছে সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানকে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে গত বছরের জুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে সেনাবাহিনী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ময়দানে আছে। ৫ অগাস্ট গণ অভ্যুত্থানের পর থেকে সেনা বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসির ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। সেনাপ্রধানের আশঙ্কা, এর ফলে সেনাবাহিনীর মধ্যে দুর্নীতি ঢুকে পড়বে, যা একটি দেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। কথা ছিল যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে ব্যারাকে ফিরে যাবে সেনা। বাস্তবে হয়েছে উল্টোটা। এখন সেনাবাহিনীর ওপরই উঠছে অত্যাচারের অভিযোগ। সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান সোমবার এই ব্যাপারে বাহিনীকে সতর্ক করেছেন ঠিকই, কিন্তু সেই সঙ্গে মুহাম্মদ ইউনূসকে সরে যাওয়ার বার্তাও দিয়ে রাখলেন। সোমবার নরমে গরমে তিনি ইউনূস বাহিনীকে সতর্ক করলেও, মঙ্গলবার কোনও রাখঢাক রাখেননি ওয়াকার-উজ-জামান। মঙ্গলবার দেশবাসীর পাশাপাশি নাম না করে দেশের নেতাদেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, আপনারা যদি নিজেদের মধ্যে মারামারি, কাটাকাটি বন্ধ না করেন তাহলে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে। আমি আপনাদের সতর্ক করে দিচ্ছি। না হয় পরে বলবেন যে আমি আপনাদের সতর্ক করিনি। আপনারা যদি নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করতে না পারেন তাহলে দেশ বিপন্ন হবে।
এমনিতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল অনেকটাই ক্ষুন্ন। দেখা যাচ্ছে সরকার ঘনিষ্ট একটা অংশ এখন প্রকাশ্য আইন শৃঙ্খলা হাতে তুলে নিয়ে সংঘর্ষ চালাচ্ছে। এছাড়া রাজধানী ঢাকা সহ গোটা বাংলাদেশে খুন ডাকাতি ধর্ষণ এখন সাধারণ ঘটনা। আর এই ঘটনার বিরুদ্ধেই সেনাপ্রধান আপাতত সতর্ক করলেন মোঃ ইউনুসকে । এখন দেখার, এই হুঁশিয়ারির পর কি অবস্থাণে থাকে মোঃ ইউনুসের তদারকি সরকার।












Discussion about this post