বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা যদি ১৮ কোটির আশে পাশে হয়, তবে কত কোটি মানুষ ইউনূস সাহেবের পক্ষ্যে ? কত কোটি বিএনপির পক্ষ্যে এছাড়া গত ভোটের নিরিখে দেখলে আওয়ামীলিগের ৪০ শতাংশের মধ্যে ১৫ শতাংশ ভুয়ো হলেও ২৫ শতাংশ ভোটার তো নিশ্চিৎ। এছাড়াও আছে জামাত এবং জাতীয় পার্টি আরও কিছু আঞ্চলিক পার্টিও আছে ।এসব বলার কারণ হল, বাংলাদেশের জনগন দল এবং মতের ভিত্তিতে তিন থেকে চারটি ভাগে বিভক্ত। কিন্তু জাতীয় নাগরিক পার্টি নামের ছাত্রদের নতুন দলটি চাইছে বাংলাদেশের ক্ষমতা দখল করতে।এবং সেজন্য তারা যেকোন ধরনের পদক্ষেপ নিতে যে রাজি, তা তাদের আচরণ থেকেই স্পষ্ট। কিন্তু গৃহযুদ্ধ বাদ দিয়ে সেটি কি সম্ভব।
যেখানে তাদের দল গঠনের কিছুদিনের মধ্যেই ছাত্রদের আর একটি দল হচ্ছে।যেটি খুব সম্ভবত এপ্রিলের প্রথম দিকেই আসছে। তো বাংলাদেশে দু-বছর পরে ভোট হলেও সংখ্যা গরিষ্ঠতা কি পাবে ইউনূসের জাতীয় নাগরিক পার্টি। আর যদি তারা বুঝতে পারে কারা কারা তাদের বিপক্ষ্যে, তাদের কি ছেড়ে দেবে।
সরকারী ক্ষমতা ব্যবহার করে তাদের ওপর দমন পীড়ন চালাবে।বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার হবে সীমাহীন, দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হবে। কিন্তু বিরোধীরা কতদিন সহ্য করবে। একদিন না একদিন তো তারা পথে নামবেই, আর তখন কি গৃহযুদ্ধের হাত থেকে নিজেদের বাঁচাতে পারবে বাংলাদেশ। যদিও সেনাপ্রধান জুলাই বিল্পবের সময় থেকেই বুদ্ধি করে চেষ্টা করে যাচ্ছেন, দেশকে গৃহযুদ্ধের হাত থেকে বাঁচাতে। তাই হাসিনাকে সুরক্ষিতভাবে ভারতে যেতে দিয়েছেন। তদারকী সরকারের বেশ কিছু অন্যয়কে মুখ বুজে সহ্য করেছেন।
তার বিরুদ্ধে সকল সড়যন্ত্রকে বুদ্ধি করে প্রতিরোধ করেছেন। কখনও কখনও নরমে গরমে ইউনূস বাহিনীর ভুল ধরিয়ে দিয়েছন, কিন্তু পুরোপুরি সরকারের বিরুদ্ধে যাননি।বলা যেতে পারে সুদিনের আশায় ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করছেন সুদিনের আশায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনিও কি পারবেন। আর পারলে প্রশ্ন, সেটা কতদিন পর্যন্ত পারবেন। কারণ সেনাদের মধ্যেই দু-টি মত বা দলের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন বাংলাদেশের সব মানুষ ইউনূস সাহেবের সঙ্গে আছেন। তারা ভোটে ভয় পাচ্ছেন কেন। ভোট তো আপনাদের তত্ববধানেন হবে। ভোট না দিতে পারা,বা ভূয়ো ভোটারের তো কোন প্রশ্ন নেই। তাহলে আটকাচ্ছে কিসে। আসলে আপনারা জানেন আপনাদের জনভিত্তি নেই। আপনারা ভূ-রাজনীতির শিকার। আর সংস্কারের দোহাই দিয়ে লাভ নেই। আপনারা ক্ষমতায় না আসতে পারলে কোন সংস্কারই টিকবে না। আপনাদের দোষর জামাতের লক্ষ্য ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে খিলাফতের প্রতিষ্ঠা করা। তাহলেও গৃহ যুদ্ধ নিশ্চিৎ। আসলে আওয়ামীলিগ বা বিএনপি ছাড়া যারাই ক্ষমতায় আসবে, তারা গৃহযুদ্ধ সাথে নিয়েই আসবে।
বাংলাদেশ নিয়ে কিছু লেখালেখি করলেই বলা হয় ভারতের মায়া কান্না, আবার অনেকে বলেন আমাদের দেশ নিয়ে ভারতের এত মাথা ব্যাথা কেন।যারা একথা বলেন তারা কি বিশ্বাস করেন যেদেশের ত্রিশ লক্ষ্য মানুষ স্বাধীনতার জন্য আত্মবলিদান দিতে পারে, সমাজ মাধ্যমের ছড়ানো কিছু খবরে তাদের রাজনীতির মানসিক পরিবর্তন ঘটাতে পারে। আসলে চোরের ওপর রাগ করে মাটিতে ভাত খাওয়ার প্রবাদটি শুনেছি। কিন্তু হরিণের গুতো খেয়ে ছাগল বাঘের মুখে নিজেকে সঁপে দিয়েছে এই ঘটনা প্রথম দেখছি।অবশ্য এগুলিকে তারা ঢাকার চেষ্টা করতে কসুর করছে না, যাদের শরীরে পাকিস্তানের রক্ত বইছে। তাই মুক্তি যুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলতে চাইছেন, ত্রিশ লক্ষ্য মানুষের মৃত্যুকে তিন লক্ষ্য করতে চাইছেন, সংখ্যার এই ফারাকে কি এসে যায়। বর্বোরচিত ভাবে হত্যা সে ত্রিশ লক্ষ্য হোক বা তিন লক্ষ্য, সংখ্যার কম বেশীতে কি বর্বরতা ঢেকে যাবে। বীরঙ্গনাদের নিয়ে কিছু বলতে সঙ্কোচ বোধ করি। কিন্তু দেশের জন্য তাদের ত্যাগকে নত মস্তকে সম্মান জানাই।যারা দেশের জন্য বীরঙ্গনা হয়েছিলেন তাদের সন্তানদের স্বাধীন বাংলাদেশেও যে আবার নতুন করে বীরাঙ্গনা হতে হচ্ছে,এটি জানলে তারা কি সেই ত্যাগ করতে চাইতেন, প্রশ্ন সেই বীরঙ্গনা মায়েদের কাছে ।
আসলে যারা এই কাজগুলিকে সমর্থন করেছিল আজ তারাই ৭১এর স্বাধীনতাকে মান্যতা না দিয়ে ২৪ এর স্বাধীনতাকে, স্বাধীনতা বলতে চাইছে। আপনারা ত্রিশ লক্ষ্য মানুষের মৃত্যু বাদ দিন, তিন লক্ষ্য মানুষকে যে নির্মম হত্যা করা হয়েছে সেই বিচার চাওয়ার কথা কি কোন দিন বলেছেন। ৭১ রে ঘটে যাওয়া বর্বর ঘটনার কোনটিকে কি অন্যায় বলেছেন। অবশ্য আপনারাতো চাননি যে, বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান আলাদা হোক।তবে ভারতীয়রা এটা বিশ্বাস করে যারা ভারতের ক্ষতি করতে চাইবে, তা দেশে বা বিদেশে যেখানেই হোক না কেন। ভারতের এমন কিছু অজ্ঞাত বন্ধু রয়েছেন, যারা ভারত বিদ্বেষীদের স্বাভাবিক মৃত্যু হতে দেবে না। অর্থাৎ সময়ের আগেই তাদের চলে যেতে হবে। হঠাৎ করে এটি আপনাদের অপাসঙ্গিক মনে হতে পারে। কারণ এটি তো আলোচনার বিষয় নয়। আসলে এই কথাটি তাদের জন্য বললাম, যারা পাকিস্তানকে নতুন দাদা বানিয়ে ভারতকে চোখ রাঙাচ্ছেন, তাদের পাকিস্তানের শেষ দশ বছরের ঘটনাগুলি জেনে রাখা দরকার। খুব কাছাকাছি হল হাফিজ সইদের ঘটনা। আসলে ভারতও খুব স্বস্তিতে নেই তাদের প্রতিবেশীদের জন্য, যারা এটা বলেন যে ভারত তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখতে পারে না, তাদের বলি আপনি দেখবেন আপনার প্রতিবেশীটিই আপনার শত্রু। কারণ প্রতিবেশীই প্রতিবেশীর উন্নতি দেখতে পারে না।
আর বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি নিয়ে সমাজ মাধ্যম মুখ খোলায়, অনেকেই বলছেন ইউনূসের সরকার আছে বলে আপনারা কথা বলতে পারছেন, অশান্তি চোখে পড়ছে। শান্তি চাইলে নর্থ কোরিয়া হয়ে যান।এতদিন নাকি বাংলাদেশ তাই ছিল। তাদের বলি আপনাদের সমাজ মাধ্যম এবং গন মাধ্যমগুলিকে ১০ দিনের জন্য সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে দেখুন আপনারা দেশে অথবা দেশের বাইরে যেখানেই থাকুন না কেন মুখ দেখাতে পারবেন না।তুলসি গ্যাভার্ডের বক্তব্য আর ভারতের সমাজ মাধ্যম এক নয়, সমাজ মাধ্যম বানিয়ে কিছু বলেতই পারে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান, কোন প্রমান ছাড়াই কি যা খুশি বলতে পারেন।অবশ্য আপনারা এখন তেমনই দাবী করবেন, এছাড়াতো কোন উপায়ও নেই। শেষে গনতন্ত্র বিরোধীদের জন্য বলি আর একটি প্রবাদ মনে রাখবেন, এক মাঘে শীত যায় না।












Discussion about this post