আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এখন একটা প্রশ্নই উঠে আসছে সেটা হল, মহম্মদ ইউনূস চাইছেন কি? তিনি কি ভারতকে চটিয়ে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাইছেন? তাই যদি হয়, তবে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী পেরে উঠবেন তো? আসলে তিনি চীন সফরে গিয়েছিলেন। আর সেখানে গিয়ে ভারতের সাতটি রাজ্য নিয়ে হঠাৎ মন্তব্য করে বসলেন। এমন একটা মনোভাব তৈরি করলেন, যেন ভারতের এই সেভেন সিস্টার্স পুরোপুরিভাবে বাংলাদেশের উপর নির্ভর করে রয়েছে। কিন্তু আদতে কি তাই? যে মন্তব্য তিনি করেছেন, তাতে ভারত কি এইবার সরাসরি একশনের পথে হাঁটবে?
সম্প্রতি চীন সফরে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূস। তিনি চীনে গিয়ে সেখানকার রাষ্ট্রপ্রধান সি জিং পিং এর সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। পাশাপাশি তিনি কয়েকটি শিল্পপতিদের সঙ্গেও কথা বলেন। মহম্মদ ইউনূস মন্তব্য করেন, ভারতের সেভেন সিস্টার্স স্থল বিশিষ্ট। কাজেই তাদের বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উপর নির্ভর করতে হয়। এক্ষেত্রে ভারতের বাণিজ্যিকের জন্য বিশাল সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হতে পারে। অর্থাৎ এটি চীনা অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, বারে বারে চিকেন নেক কে টেনে কেন মন্তব্য করছেন প্রধান উপদেষ্টা? সেভেন সিস্টার্স নিয়ে তাদের আসল পরিকল্পনাটা কি?
এর আগেও দেখা গিয়েছিল, ছাত্রনেতা তথা এক উপদেষ্টা ভারতের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে মন্তব্য করেছেন। কার্যত হুমকি দিতে চেয়েছিলেন ভারতকে। এরপর ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকের পর দেখা গিয়েছিল, প্রধান উপদেষ্টা বলেছিলেন, ভারতের সেভেন সিস্টার্স কে নিয়ে বড় বাণিজ্য করিডোর তৈরি করার জন্য। এটি দুই দেশের জন্য খুব ভাল হবে বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। ফের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে মন্তব্য।
আসলে যত দিন যাচ্ছে, ইউনূস বুঝতে পারছেন, ভারতের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে বাংলাদেশ ভালো থাকতে পারবে না। এমনকি ভারতকে শত্রু মনে করতেই বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের একে একে সমস্ত দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আদতে ক্ষতি হচ্ছে দেশের। যদিও তিনি দেশের ক্ষতির কথা আদেও কতটা ভাবেন, সেটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু তার জমানা বা তার আমলের বদনাম হচ্ছে। এমনটাই মনে করছেন মোহাম্মদ ইউনূস। তাই তিনি নড়েচড়ে বসছেন। এদিকে ভারতও তাদের যে পাত্তা দিচ্ছে না, সেটাও পরিষ্কার। কারণ চীন সফর করার আগে নোবেল জয়ী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসার আবেদন করেছিলেন। কিন্তু ভারত গুরুত্ব দেয়নি। এরমধ্যে দিয়ে ভারত বোঝাতে চেয়েছে, বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারকে মানে না ভারত। এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তবে ভারতের চিকেন নেক নিয়ে মন্তব্য করা বা যেকোনও ক্ষেত্রে সেভেন সিস্টার্স কে টেনে নিয়ে আসা মোটেই ভালোভাবে নিচ্ছে না ভারত। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের কাছে রয়েছে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। যাকে বাংলাদেশের অন্দরে হয়ে চলা তার বিরুদ্ধে চক্রান্তের খবর ভারতের গোয়েন্দারা দেয়। এইবার সেনাপ্রধানকে কোনও নির্দেশ দিলে কি করবেন মহম্মদ ইউনূস? প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।












Discussion about this post