কাশ্মীরে ঘটে যাওয়া জঙ্গি হামলার ঘটনার পর পাকিস্তানের ওপর একাধিক করা পদক্ষেপ করেছে নয়া দিল্লি। প্রশ্ন উঠছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সঙ্গে কি এবার বাংলাদেশের উপরও পদক্ষেপ করতে চলেছে ভারত সরকার? গত শুক্রবার ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যের সমস্ত মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কথা বলার পর তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পাকিস্তানি নাগরিক, অবৈধ নাগরিকদের চিহ্নিত করে পাকিস্তানে ফেরত পাঠাতে হবে। এর মধ্যে গুজরাটে এক হাজারেরও বেশি বাংলাদেশী আটক হয়েছে। খবরে উঠে এসেছে, গুজরাটে নারী ও শিশু সহ এক হাজার ২৪ জন বাংলাদেশিকে আটক করার তথ্য দিয়েছে পুলিশ। আমেদাবাদ ও সুরাট শহরে শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় তাদের। অর্থাৎ এক রাতে বিপুল পরিমাণে বাংলাদেশী আটক হওয়াতে বেশ চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানা যায়। পাকিস্তানিদের উপর নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বাংলাদেশীদের উপরও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আসলে বাংলাদেশের যে কার্যকলাপ, পাকিস্তানপন্থী মন্তব্য, তাতে বাংলাদেশের উপর ভারতের কোপ পড়বে, সেটাই স্বাভাবিক।
কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনার পর বাংলাদেশ ভারতকে সমবেদনা জানাতে ২৪ ঘন্টা পার করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, সেখানকার আইন উপদেষ্টা বিতর্ক মন্তব্য করে আবার সেটি ডিলেট করে দিয়েছেন। তিনি লিখেছিলেন, আমি বিশ্বাস করি না, কাশ্মীরে অমিত শাহ বা অজিত দোভালের অজান্তে কোনও অস্ত্র বা অস্ত্র চালানোর লোক ঢুকতে পারে। তারপর শুরু হয় বিতর্ক। এদিকে তথ্য বলছে, হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশী নাগরিক অবৈধভাবে ভারতে রয়েছে। এইবার ভারত যে কোনও পদক্ষেপ করলে কিচ্ছু করার থাকবে না বাংলাদেশ সরকারের। এদিকে কাশ্মীরের ঘটনার পরও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক মজবুত করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। খবরে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে তেমন বার্তায় দিয়েছেন, পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা মোহাম্মদ আসিফ। তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন স্তরে সম্পর্ক গভীর করার জন্য তিনি অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ঢাকা ও ইসলামাবাদ আন্তরিকভাবে উদ্যোগী হয়েছে বলে জানান। ঘটনাপ্রবাহে পাকিস্তান ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কে অবনতি ও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করতে বার্তা দিলেন আসিফ। গত মঙ্গলবারে পহেলগাঁওয়ের ঘটনা ঘটেছে এবং গত শুক্রবার ইসলামাদে বাংলাদেশ দূতাবাসে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি ছিলেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী। আর সেই অনুষ্ঠানে ইউনূসের দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে বার্তা দেন তিনি। এই সমস্ত কিছু চোখ এড়ায়নি ভারতের। কারণ এই পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কাশ্মীরের জঙ্গি হামলার ঘটনায় বলেছেন, সন্ত্রাসকে আমরা দীর্ঘদিন ধরে লালন করে এসেছি। পাকিস্তানকে যে তারা সমর্থন করছে, সেটা বোঝে ভারতও। এইবার পাকিস্তানের উপর যে যে একশন নেওয়া হচ্ছে, সেরকম একশন নেওয়া হতে পারে বাংলাদেশের উপরও। ঠিক যেমন, পাকিস্তানীদের দেশ থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হলে অবৈধভাবে ভারতে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ধরপাকড় শুরু হয়ে গিয়েছে। অনেকে বলছেন, এর হয়তো প্রাথমিক পদক্ষেপ। এর পরের পদক্ষেপগুলো আরও ভয়ানক হতে পারে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক স্তরে।












Discussion about this post