যুদ্ধের দামামা বেজে গিয়েছে! যুদ্ধ এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু এই যুদ্ধকে ঘিরে নানা রকম প্রশ্ন জমা হয়েছে যুদ্ধ হলে কি পরিস্থিতি হবে দুই দেশের? কতদিন ধরে চলবে এ যুদ্ধ? এই প্রশ্নগুলি আসছে তার কারণ, রাশিয়া ইউক্রেনের উপর হামলা চালানোর পর মনে করা হয়েছিল খুব শীঘ্রই ইউক্রেন ধ্বংস হয়ে গিয়ে যুদ্ধও শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু না, এখনও চলমান সেই যুদ্ধ। আর যখনই যুদ্ধে দুই দেশী পরমাণু শক্তিধর তখন তার ফলাফল যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে সেই আশঙ্কা থেকেই বর্তমান বিশ্ব এখন দুটি ভাগে বিভক্ত। এবার দেখার পালা কারা ভারতের পাশে রয়েছে আর কারা পাকিস্তানের।
বিশ্বের এই বিভক্তির ছবি এর আগেও দেখা গেছে, যখন কোন যুদ্ধ শুরু হয় যেমন এর আগে যখন ইসরাইল হামাসের উপর আক্রমণ করে, রাশিয়া ইউক্রেনের উপর আক্রমণ করে তখন বিশ্বকে আড়াআড়ি দু ভাগে বিভক্ত হতে দেখেছিল এই গোটা বিশ্বের মানুষ। আর এবার যুদ্ধের সম্মুখীন ভারত পাকিস্তান যেটি বিশ্বে অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সেখানে গোটা বিশ্ব হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবে তা তো হবে না। হ্যাঁ সেটা কখনোই সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে বিশ্বে আড়া আরি দুটি ভাগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেউ কেউ রয়েছে ভারতের পক্ষে কেউ আবার পাকিস্তানের। সেই তালিকা জানতে, আগে নজর রাখা যাক পাকিস্তানের দিকে। ভারত-পাক যুদ্ধ শুরু হলে, সবার আগে বিপর্যস্ত হবে পাকিস্তানের অর্থনীতি কারণ এমনিতেই পাকিস্তানের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর বেহাল দশা সেখানে যুদ্ধ শুরু হলে কোথা থেকে অর্থের জোগান দেবে পাকিস্তান সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক। কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তরে একটা দেশের নাম উঠে আসছে, সেটা হল চিন। এক্ষেত্রে তিনি এর প্রত্যক্ষ সুবিধা আছে পাকিস্তানকে সহায়তা করার জন্য। কারণ পাকিস্তানের পড়ে রয়েছে ভারত, আর ভারতকে সব দিক থেকে ধরে রাখতে গেলে, পাকিস্তানের উপর যদি কর্তৃত্ব ফলানো যায়, সবরকম সহায়তা করা যায় তাহলে চীন যা বলবে পাকিস্তান তাই করবে শুধুমাত্র চীনের থেকে সহায়তা পাওয়ার আশায়। আর সেই কারণেই পাকিস্তানের উপর চীনের একটি বিরাট প্রভাব রয়েছে পাশাপাশি বালুচিস্তানের উপর রয়েছে চীনের প্রভাব। কিন্তু শুধুই কি চিন্তার কর্তৃত্ব বিস্তার করতেছে পাকিস্তানের ওপর, না। এই তালিকা রয়েছে তুরস্কের নামও। জানা যাচ্ছে তুরস্ক এশিযয়া নিউ ইনিশিয়েটিভ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। আরে প্ল্যাটফর্মের কাজই হল এশিয়ার যে সমস্ত ইসলামিক কান্ট্রি গুলো রয়েছে সেখানে কট্টরপন্থীদের সঙ্গে একটি সংযোগ স্থাপন করা। আর এখান থেকেই ধরে নেওয়া হচ্ছে তবে কি পাকিস্তানকে মদত দেবে তুরস্ক, শক্তি যোগাবে পাকিস্তান কে, অস্ত্র সরবরাহ করবে পাকিস্তানে। অভিযোগ উঠেছে ইতিমধ্যে পাকিস্তানের অস্ত্র সরবরাহ করেছে তুরস্ক। যারা যাচ্ছে চলতি মাসের ২৭ তারিখে পাকিস্তান একটি তুরস্কের বিমান পৌঁছে গিয়েছিল এবং সেই বিমানে করে যুদ্ধে প্রয়োজনীয় অস্ত্রশস্ত্র সেখানে সরবরাহ করেছে তুরস্ক। যদিও এই সমস্ত রিপোর্ট সামনে আসার পরও পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেছে তুরস্ক। তুরস্কের ডিরেক্টরেট অফ কমিউনিকেশনস সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিসইনফর্মেশনের তরফে বলা হয়, পাকিস্তানে মোটেও অস্ত্রবোঝাই বিমান পাঠানো হয়নি। আসলে জ্বালানি সংগ্রহ করতেই পাকিস্তানে নেমেছিল বিমানগুলি। কিন্তু সবাই বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখতে মনে করা হচ্ছে চীনের পাশাপাশি তুরস্ক পাকিস্তানের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এই মুহূর্তে আরো একটি দেশের নাম উঠে আসছে সেটি হল আজারবাইজান। গিভ এন্ড টেক পলিসি নিয়েই এবার আজারবাইজান এগোচ্ছে পাকিস্থানের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। কারন আর্মেনিয়ার সঙ্গে যখন আজারবাইজান যুদ্ধে নেমেছিল তখন তুরস্ক ও পাকিস্তান সহায়তা প্রদান করেছিলাম আজারবাইজানকে। আর এখন সেই প্রতিদান ফিরিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে সে দেশের।
এবার পাকিস্তানের পালা শেষ করে ভারতের দিকে নজর রাখলে দেখা যাচ্ছে , ভারতের পাশে রয়েছে, 71 স্মৃতি সেখানেও যেমন ভারতের মেট্রো দেশ রাশিয়া ঠিক এবারও ভারতের মিত্র দেশের তালিকায় রাশিয়ার নাম জ্বলজল করছে। এখনো পর্যন্ত ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কখনো তিক্ততার সম্পর্ক তৈরি হতে দেখা যায়নি। আবার যখন রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর হামলা চালায় তখন পুরোপুরি পাশে না থাকলেও কিছুটা পিছু হঠেও পাশে থাকার ভরসা দেওয়া হয়েছিল ভারতের তরফে। সেই প্রতিদান দিতেও প্রস্তুত এবার রাশিয়া একইভাবে ভারতের পাশে থেকে যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ করতে সচেষ্ট তারা। আর এবার রাশিয়ার পরে ভারতের পাশে থাকতে দেখা যাচ্ছে ফ্রান্সকে। ফ্রান্স থেকে রাফাল নেওয়ার চুক্তি হয়েছে ভারতের, এর আগে ও রাফাল নিয়ে চুক্তি করতে দেখা গিয়েছিল ফ্রান্স ও ভারতকে। শুধু সামরিক চুক্তি নয়, বাণিজ্যিক অর্থনৈতিক চুক্তি ও রয়েছে ফ্রান্সের সঙ্গে। যে যুক্তিগুলি ফ্রান্সকে ভাবাবে ভারত যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেলে ফ্রান্সের কি কি ক্ষতি হতে পারে। সেক্ষেত্রে ফ্রান্সকে ভারতের পাশেই দেখা যাবে বন্ধু হিসাবে। এবার ভারতের পাশে থাকতে দেখা যাচ্ছে ইতালি কেও। আরে ইতালির সঙ্গে ভারতের একটি বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে।। যে বাণিজ্যিক পরিস্থিতি বা প্লাটফর্মের মাধ্যমে চীনকে পাল্টা প্রত্যাখাত দেওয়া যাবে। আর এই প্লাটফর্মের সম্মতি রয়েছে আমেরিকারও। যেখানে চীনকে আরো বিপর্যস্ত করে তোলা যায়। অর্থাৎ ইতালির সঙ্গে এতদিনের সুসম্পর্কের প্রতিদান পাওয়ার সময় এসেছে ভারতের। আর এবার মহাশক্তিধর দেশগুলির মধ্যে অন্যতম আমেরিকা তাকেও দেখা যাচ্ছে ভারতের পাশে থাকতে। প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ফোন করেছিলেন জানিয়ে এক্স হ্যান্ডলে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল লেখেন, “জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গি হামলায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানিতে গভীর শোকপ্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ফোন করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এই জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন তিনি।” সন্ত্রাসবাদ দমনে ভারতের সঙ্গে রয়েছে আমেরিকা। ভারতকে সবরকম সাহায্যের বার্তা দেন ট্রাম্প। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল হ্যান্ডলেও পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলা নিন্দা করে ট্রাম্প লিখেছেন, “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের পাশে দৃঢ়ভাবে রয়েছে আমেরিকা। আহতদের আরোগ্য কামরা করি।”
কেন্দ্রীয় সরকারি সূত্রে খবর, ভারতের পাশে থাকার জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোদী। হামলাকারী ও তাদের সাহায্যকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় নিয়ে আসতে ভারতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে ট্রাম্পকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থাৎ বিশ্বের মহা শক্তিধর দেশগুলিকে পাশে নিয়ে ভারতে এই যুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।












Discussion about this post