যখন কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, বা যুদ্ধের আবহ বলে অনেকে অবিহিত করছেন, তখন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূসের গলায় যুদ্ধ বিরোধী মন্তব্য। যুদ্ধ যাতে না হয়, খানিকটা সেই সুরেই মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। পাশাপাশি এও বলে রাখলেন, বাংলাদেশ কেও প্রস্তুতি নিতে হবে। নাহলে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হয় যাবে।
আসলে ভারতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা দেশ। প্রত্যেকের একটাই দাবি, করা প্রত্যাঘাত চায়। এই মুহূর্তে ভারত এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনী সাজাচ্ছে। স্পর্শকাতর এলাকা গুলিতে অস্ত্র মজুদ করছে। রীতিমতো সুসজ্জিত দুই দেশ। যা বহিঃ বিশ্বের অনেক দেশই মনে করছে, যুদ্ধের আগাম মুহূর্ত। প্রতিবেশ দেশগুলি এই পরিস্থিতিতে কি ভাবছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে। তার মধ্যে অন্যতম, বাংলাদেশের মনোভাব। কারণ শেখ হাসিনার পতনের পর দেশের পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন দেশ কার্যত বিশৃংখল পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে। বেড়েছে ভারত বিদ্বেষ। কাছাকাছি এসেছে পাকিস্তান বাংলাদেশ। আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে, ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ হলে, কার পক্ষ নেবে বাংলাদেশ? এই আবহে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ বিষয় নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে মোহম্মদ ইউনূস বলেন, তিনি যুদ্ধের পক্ষে নন। যুদ্ধের প্রস্তুতি অনেক সময় যুদ্ধের দিকে নিয়ে যায়। যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েও আমার আপত্তি আছে। কিন্তু এমন বিশ্বে আমরা বসবাস করি, যেখানে প্রতিনিয়ত যুদ্ধের হুমকির মধ্যে পড়তে হয়। যুদ্ধ হোক, এটা আমি কখনওই চাই না। ঠিক কি বলেছেন মোহাম্মদ ইউনূস শুনুন….
অর্থাৎ তিনি বলছেন, যুদ্ধ হোক সেটা আমি চাই না, বাংলাদেশ চায় না। বাংলাদেশ এখন অর্থনীতিতে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। তারমধ্যে বিগত সরকারের যথাচ্চারের কারণে আরও লুটপাট হয়ে গিয়েছে। যুদ্ধ হলে জয় একমাত্র অপশন। প্রস্তুতিতে আধা আধির কোনও ব্যাপার নেই। এই মুহূর্তে বাংলাদেশও যদি প্রস্তুতি না নেয়, তবে সেটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে। আর কি বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা শুনুন
শান্তির বার্তাও দিয়েছেন তিনি। তবে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মধ্যে নাক গলাবে না বাংলাদেশ, সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিদেশ মন্ত্রকের উপদেষ্টা। তিনি জানান, দুই দেশই চায়, যাতে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করুক। যদি ভারত বা পাকিস্তান মধ্যস্থতার জন্য বাংলাদেশের সাহায্য চায়, বাংলাদেশ এগিয়ে আসবে। ঠিক এই বিষয়ে কি বললেন বিদেশ মন্ত্রকের উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
এমনিতেই বাংলাদেশ আরাকান আর্মি নিয়ে চিন্তিত। বাংলাদেশের তরফে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, রাখাইনে মানবিক সাহায্য পাঠানোর জন্য বাংলাদেশকে করিডোর হিসাবে ব্যবহার করতে দেবে। এতেই অনেকে বলছেন, বাংলাদেশ পরবর্তীতে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। আর সেই আবহে ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধ নিয়ে মন্তব্য বাংলাদেশের। তবে এখন প্রত্যেকের একটাই প্রশ্ন, বাংলাদেশ নিরপেক্ষ থাকবে নাকি পাকিস্তান বা ভারত যেকোনও একটা পক্ষ নেবে! এখন বাংলাদেশ যে বিবৃতি দিচ্ছে, পড়ে সেই বিবৃতেই কি স্থির থাকবে? উঠছে প্রশ্ন।












Discussion about this post