ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয় শঙ্করকে ফোন করলেন জাতিসংঘের প্রধান অ্যান্টোনিও গুতেরেসের। পরবর্তীকালে জাতিসংঘের তরফে একটি অফিসিয়াল প্রেস রিলিজ দিয়ে বলে দেওয়া হয়, বিদেশ মন্ত্রীকে তারা ফোন করেছেন। কিন্তু হঠাৎ কেন এই ফোন? এই মুহূর্তে প্রেক্ষাপটটা দেখলে বোঝা যায়, জাতিসংঘের সঙ্গে ভারতের দূরত্ব ক্রমশ চওড়া হচ্ছিল। এবং অন্যদিকে পাকিস্তানকে প্রশ্রয় দিয়ে এসেছে জাতিসংঘ। এমনকি এটাও দেখা গিয়েছে, জাতিসংঘের মঞ্চ ব্যবহার করে পাকিস্তান বলে গেছে, কাশ্মীর তাদের। সেটা ভারত জোর করে দখল করে রেখেছে। ফলে এখানেই বোঝা যায়, জাতিসংঘ পাকিস্তানকে কতটা প্রশ্রয় দিচ্ছে। আর সেই আবহে কেন বিদেশ মন্ত্রীকে ফোন? উঠছে প্রশ্ন।
পাকিস্তান একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। যেখানে তারা মনে করছে, কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ভারত পাকিস্তানকে আক্রমণ করতে পারে। তারা ভারতকে ভয় পাচ্ছে। ভারতীয় সেনাকে ভয় পাচ্ছে। কারণ তিন তিনবার হারার অভিজ্ঞতা রয়েছে যে তাদের। পাকিস্তানের তরফে আবার বলা হয়েছে, তারা প্রথমে আক্রমণ করবে না। ভারত করলে তার পাল্টা খাবে তারা। আর সেই আবহেই ভারতের বিদেশ মন্ত্রী কে ফোন করেন জাতিসংঘের প্রধান। এমনকি শোনা যাচ্ছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা হয় তার। শোনা যাচ্ছে, দাবি ছিল একটাই। এই মুহূর্তে যুদ্ধ চাইছে না জাতিসংঘ। এখানেই আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতিসংঘ যুদ্ধ চাইলো বা চাইল না, সেটাতে ভারতের কিছুতে যায় আসে না। কেউ কেউ বলছেন, জাতিসংঘ পাকিস্তানের মুখপাত্র হয়ে কাজ করছে। যখন কাশ্মীরের এই ভয়াবহ ঘটনায় পৃথিবীর সমস্ত দেশ ভারতের পাশে, এবং পাকিস্তানের পাশে যখন কেউ নেই, তখনই আসরে নেমেছে জাতিসংঘ। এখানেই প্রশ্ন উঠে আসে, এই বিশ্ব দেখেছে রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধ, ইসরাইল লেবাননের যুদ্ধ। তখন কোথায় ছিল জাতিসংঘ?
জাতিসংঘ পরে টুইট করে ফোনে কথা বলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে লেখে, জঙ্গি হামলার ঘটনা কখনোই কাম্য নয়। কিন্তু এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারত এমন কোনও পদক্ষেপ যাতে না করে তার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে ভারতের কাছে।
জানা যাচ্ছে, পাকিস্তানের তরফে একটি টুইট করা হয়েছে। সেখানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহাবাজ শরীফ বেশ কিছু বক্তব্য রেখেছেন। তিনি বলেছেন, জম্মু এবং কাশ্মীরের সমস্যার সমাধান নিয়ে আরও একবার অনুরোধ জানিয়েছেন জাতিসংঘকে। আমরা শান্তির জন্য দায়বদ্ধ। আমরা আন্তর্জাতিক স্তরে শান্তি চাই। কিন্তু কেউ যদি আমাদের উপর আক্রমণ হানে, তবে তার পাল্টা জবাব আমরা দেব।
এর পরবর্তীতে দেখা গিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয় শঙ্কর একটি টুইট করেছেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন, আমরা প্রতিবাদ করব। এবং এর পিছনে যারা মদত যুগিয়েছে, তাদের আমরা ছাড়বো না এবং এর বিচার করব। সূত্র মারফত খবর, ভারতের বিদেশ মন্ত্রী প্রায় সাতটি দেশের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা নাকি প্রত্যেকেই ভারতকে সমর্থন করেছে সরাসরি।
তবে একটা বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আলোচিত হচ্ছে, পাকিস্তান যে ভয় পাচ্ছে ২৪ থেকে ৩৬ ঘন্টার মধ্যে ভারত আক্রমণ করতে পারে তাদের, সেটাতো ভারতের তরফে কখনোই জানানো হয়নি। সেটা বলা হচ্ছে পাকিস্তানের ইন্টেলিজেন্স এর মাধ্যমে। আর এতে ভয় পাচ্ছে জাতিসংঘ। আর সেই কারণে ভারতকে তাদের তরফে ফোন। তবে জঙ্গিবাদকে নির্মূল করতে এবং সন্ত্রাসবাদকে দমন করতে সিদ্ধ হতে ভারত। তার সঙ্গে রয়েছে সমস্ত শক্তিশালী দেশ। সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কাজেই, আন্তর্জাতিক কোন সংগঠন কি বলল সেটা যায় আসে না ভারতবর্ষের। দেশের নাগরিকের স্বার্থে, তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে, রাষ্ট্র কড়া পদক্ষেপ করতেই পারে। এখন দেখার, এই প্রসঙ্গে ভারতের পরবর্তী পদক্ষেপ কি!












Discussion about this post