বদলা, প্রত্যাঘাত, প্রতিশোধ নিল ভারত। কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে বেছে বেছে ২৬ জন পর্যটককে খুন করেছিল জঙ্গিরা। সেই জঙ্গিদের ডেরা ভেঙে দুরমুস করে দিল ভারতীয় সেনা। তার সঙ্গে কুখ্যাত জঙ্গি মাসুদ আজহারের পরিবারের ১০ জন সদস্য ও ৪ সহযোগী নিহত হয়েছে।জইশ-ই-মহম্মদের ডেরা মাটিতে মিশিয়ে দিল ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ এর মাধ্যমে। পরিবারের সদস্যদের নিহতের কথা স্বীকার করে নিয়েছে মাসুদ আজহার। এমনকি বিবৃতিতে নিজের মরার কথা বলে এই কুখ্যাত জঙ্গি।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়, বুধবার গোটা দেশ জুড়ে মকড্রিল করা হবে। অর্থাৎ আপদকালীন পরিস্থিতিতে সাধারণ নাগরিক কি করবেন, কোথায় আশ্রয় নেবেন, সাইরেন বাজলে কি হবে…..এই সবের প্রস্তুতি চলবে। আর তার আগের দিন মাঝরাতেই প্রত্যাঘাত। পহেলগাঁওয়ে নিরহ ২৬ জন ভারতবাসীকে খুন করা হয়েছিল পরিবারের সামনে। গোটা দেশে তৈরি হয়েছিল শোক। আর তার ঠিক ১৫ দিনের মাথায় কড়া প্রতিশোধ নিল ভারতীয় সেনা। ‘অপারেশন সিঁদুর’ এর মাধ্যমে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ৯ টি জঙ্গি ঘাঁটি গুড়িয়ে দিল ভারতীয় সেনা ও বায়ু সেনা। ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি ভারত ভেঙে গুঁড়িয়ে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে ছিল বাহাওয়ালপুরের জইশ-ই-মহম্মদের ডেরা ও মুজফফরাবাদে লস্কর-ই-তইবা ট্রেনিং সেন্টার সহ মোট নটি জায়গা। সূত্রের খবর, এখানে ছিল একটি মাদ্রাসা যার সঙ্গে যোগ রয়েছে জইশ চিফ মাসুদ আজহারের। বাহাওয়ালপুরে ‘মরকজ সুভান আল্লাহ্’-তে আঘাত হানা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, গুরুতর আহত মাসুদের ভাই ও ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড
সন্ত্রাসবাদী রউফ আসগর। ভারতের হামলায় নিহতদের মধ্যে রয়েছে রউফের ছেলে হুজাইফা। ভারতের প্রত্যাঘাতে ৭০ জন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। তার মধ্যে মাসুদ আজহারের পরিবারের ১০ জন সদস্য ও তার ৪ সহযোগী ছিল। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে মাসুদের বড় বোন, বড় বোনের স্বামী, ভাতিজা, ভাতিজার স্ত্রী, ভাতিজি এবং পরিবারের পাঁচ শিশুও রয়েছে। এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় মাসুদ আজহার পোস্ট করেছেন, খাদিম, আপনার উপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক। আল্লাহ তাআলা বলেন, শহীদরা জীবিত। আল্লাহ তাআলা তাদের সহায়। আর তারা আল্লাহর প্রিয়। আজ রাতে আমার পরিবারের ১০ সদস্য জন্নত পেয়েছেন। ওদের মধ্যে পাঁচ নিষ্পাপ শিশুও ছিল। আমার আদরের ভাইঝি ফাজিলা, আমার প্রিয় ভাই হুজাইফা, ওর মা-সহ আমার দুই প্রিয় সঙ্গীও চলে গেল। তারপর তিনি উল্লেখ করেন, একাধিক সন্ত্রাসবাদী হামলার মাস্টারমাইন্ড বলে, আমি কোনও দুঃখ, হতাশা কিছুই অনুভব করতে পারছি না।শুধু মনে হচ্ছে, আমি যদি ওদের সঙ্গে চলে যেতে পারতাম ভালো হত।
কাপুরুষ মোদী নিষ্পাপ শিশু নারী এবং বৃদ্ধদের লক্ষ্য করেছে। শোক এবং ধাক্কা এতটাই যে তা অসহনীয়। কিন্তু কোনও অনুশোচনা নেই হতাশা নেই রক্তপাত নেই। বরং আমার হৃদয়ে বারবার আসে যে আমিও এই ১৪ সদস্যের সৌভাগ্যবান কাফেলায় যোগ দিতাম কিন্তু সর্বশক্তিমান আল্লাহর সঙ্গে দেখা করার সময় খুব কম ছিল। হ্যাঁ সে এদিক ওদিক যেতে পারে না। আমাদের এক বাড়িতে চারটি শিশু ছিল। সাত থেকে তিন বছর বয়সী । তাদের বাবা-মা একা রয়ে গিয়েছিলেন কিন্তু এটি প্রথম শতাব্দী। এই সুখ কেবল তাদের জন্যই পাওয়া যায়, যাদের আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ভালোবাসেন।
এটাই তাদের বিদায়ের নির্ধারিত সময়। কিন্তু প্রভু তাদের জীবন দিয়েছেন, মৃত্যু নয়। শত্রুদের ওপর এমন ভাবে পড়বে যে তাদের বংশধররাও ধ্বংস হয়ে যাবে। আল্লাহ তালাহকে স্মরণ করুন।
জানা যায়, এই মাসুদ আজহার একাধিক বড় বড় হামলার সঙ্গে জড়িত। ৫৬ বছর বয়সি এই কুখ্যাত জঙ্গি মাসুদ আজহার ২০০১ সংসদ হামলা, ২০০৮ মুম্বই হামলা, ২০১৬ পাঠানকোট হামলা, এমনকী ২০১৯ পুলওয়ামা বোমা বিস্ফোরণের পিছনেও মাস্টার মাইন্ড ছিল। জানা যায়, রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদও তাকে গ্লোবাল টেররিস্ট বলে আখ্যা দিয়েছে। ১৯৯৪ সালে এই জঙ্গি গ্রেফতারও হয়েছিল। কিন্তু ভারতীয় বিমান IC 814 হাইজ্যাক করে। ফলে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় ভারত সরকার।












Discussion about this post