একদিকে ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধের আবহ, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় সংঘর্ষ বিরতি। আর অন্যদিকে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যকলাপ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হল। সেনাপ্রধানের ওয়াকার উজ জামানের ভূমিকা কি? প্রবলভাবে নাটকীয় মোড় দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি। চলছে তর্ক, জন্ম নিয়েছে হাজারও প্রশ্ন।
১০ই মে। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক আঙিনায় ঘটনা বহুল একটি দিন। একদিকে ভারত পাকিস্তানের প্রবল সংঘর্ষের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় সংঘর্ষ বিরতি। আর সেই দিনই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা। ২০২৪ এর ৫ ই আগস্ট এর পর থেকেই বারে বারে বাংলাদেশের অন্দরে উঠে এসেছে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। কিন্তু এর কারণটা ঠিক কি? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভয়। যদি কোনোভাবেই শেখ হাসিনা বা আওয়ামীলীগ বাংলাদেশের অন্দরে এর আগের অবস্থানে ফিরে আসে, তবে টিকবে না অন্তর্বর্তী সরকার বা ছাত্রনেতারা। এরমধ্যে শেখ হাসিনা বারবার আওয়ামীলীগের ভার্চুয়াল বৈঠকে বাংলাদেশে ফেরার কথা বলেছেন। সেই ভয় থেকে গত তিনদিন ধরে জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং বাংলাদেশের অন্যান্য দলের নেতারা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ দাবিতে শোরগোল ফেলে দেয় বাংলাদেশি জুড়ে। এই তবে কে কেন্দ্র করে শুক্রবার থেকে কর্মসূচি ও নেওয়া হয়।। শাহবাগ ব্লকেড নামে একটি কর্মসূচির পালন করা হয়। এমনকি প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনেই বিক্ষোভ শুরু করে কিছু ছাত্র নেতা। তারপরই বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। এরপরই তড়িঘড়ি বৈঠকে বসে সরকারের উপদেষ্টারা। বৈঠক শেষ হতেই অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়ে দেন, আওয়ামী লীগের কার্যকলাপ কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হচ্ছে। শনিবার বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী অনুমোদিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল যে কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীকে শাস্তি দিতে পারবেন। তবে কি আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিল ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার? যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শক্তি খয়ের থেকে শক্তির সঞ্চয় করবে আওয়ামী লীগ। পরবর্তীকালে নিজেদের সর্বশক্তি দিয়ে ঝাপাবে তারা। যেমনটাই এর আগে নিষিদ্ধ হওয়া দলগুলির ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছিল।
অন্যদিকে দুদিন আগে বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যান। এরপরই সরকারের তরফে বলা হল, তাকেও বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হবে। প্রয়োজন পড়লে ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে। আসলে বাংলাদেশের সরকার যে পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে, তাতে ছাত্রনেতারা যা বলছেন, সেটাই করছে তারা। আর এই পরিস্থিতিতে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তিনি এটাকে প্রশ্রয় দিচ্ছন? নির্বাচন কবে হবে? নির্বাচনী আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করতে না পারলে সুষ্ঠু বা অবাধ নির্বাচন হওয়া কি আদেও সম্ভব বাংলাদেশে? উঠছে প্রশ্ন।












Discussion about this post