শনিবার সংঘর্ষ বিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু তার তিন ঘন্টা পরই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছিল ভারত। সংঘর্ষ বিরতির পর এই প্রথম ভারত পাকিস্তান বৈঠকে বসতে চলেছে। তবে সেটি ডিজিএমও এর পর্যায়ে। এই বৈঠক থেকে কি কি উঠে আসতে পারে, তার একটি আভাস আগেই পাওয়া গিয়েছিল পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা আসিফর মন্তব্য থেকে। যার মধ্যে নাকি থাকতে চলেছে কাশ্মীর সমস্যাও।
পাকিস্তান কি কোনও দিন শোধরাবে না? ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় সংঘর্ষবিরতির জন্য প্রতিশ্রুতি বদ্ধ হলেও, মাত্র তিন ঘণ্টায় তা লঙ্ঘন! আসলে জঙ্গীস্থান পাকিস্তান মানচিত্রে যতদিন থাকবে, ততদিন তাদের এই চরিত্র অব্যাহত থাকবে। তবে তার যোগ্য জবাব দিচ্ছে ভারত। শনিবার আচমকা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের সংঘর্ষ বিরতির পোস্ট করেন। এমনকি ভারত ও পাকিস্তানকে অভিনন্দনও জানান তিনি। কিন্তু বাস্তবের মাটিতে দেখা গেল, পাকিস্তান রয়েছে পাকিস্তানেই। মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে সীমান্ত থেকে গোলাগুলি চলতে থাকে পাকিস্তান থেকে। এমনকি ড্রোন হামলা চালানো হয়। যদিও ভারত চুপ থাকেনি। যোগ্য জবাব দিতে থাকে। এর মধ্যেই খবর ভারত পাকিস্তানের আলোচনায় বসার সম্ভাবনা। আর তার আগেই মেগা বৈঠক। ভারত পাকিস্তানের বৈঠকের আগেই ঘুঁটি সাজাতে শুরু করে দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বৈঠক। ফের তিন বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক নরেন্দ্র মোদির। স্থল বায়ু নৌসেনা প্রধানের সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর। বৈঠকে CDS অনীল চৌহান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালও। দুই দেশ আলোচনা বসার আগে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রণকৌশল, রণনীতি সাজানো হয়েছে বলে খবর। আর এর পরই দেখা গেল তিন বাহিনীর যৌথ সংবাদিক বৈঠক। যেখানে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় সেনার ডিজিএমও। অপারেশন সিঁদুর নিয়ে স্পষ্ট করে দেওয়া হল ভারতের মূল লক্ষ্য।
এর মধ্যে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোঁয়াজা আসিফ জানান, মূলত তিনটি বিষয় নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বসার সম্ভাবনা রয়েছে পাকিস্তানের। সিন্ধু জলচুক্তি থেকে সন্ত্রাস দমন এবং কাশ্মীরের সমস্যার সমাধান। এদিকে ভারতের স্থল জল বায়ু সেনার যৌথভাবে রবিবার একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন। সাংবাদিক বৈঠকের উপস্থিত ছিলেন ভারতের ডিজিএমও রাজিব ঘাইও। তার সঙ্গেই বৈঠক পাকিস্তানের ডিজিএমও’র। এই সাংবাদিক বৈঠক থেকে কি কি ভারতের তরফে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসতে পারে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। তবে এদিন ভারতের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, অপারেশন সিঁদুরের মূল লক্ষ্য জঙ্গি ঘাঁটি নষ্ট করা। আর সেটা করে দেখিয়েছে ভারত। সেই অপারেশন এখনো চলছে। যদি পাকিস্তান হামলা চালায়, সন্ত্রাস সৃষ্টি চেষ্টা করে, তবে বারবার ভারত দমন করবে। এমনকি ভারতের সেনার ডিজিএমও এর তরফে জানানো হয়, শনিবার সংঘর্ষ বিরতি পাকিস্তান লংঘন করেছে। আর সেটি হট লাইনে জানানো হয়েছে পাকিস্তানের ডিজিএমওর কাছে। জানানো হয়, প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে। ৮ এবং ৯ মে পাকিস্তানের মূল লক্ষ্য ছিল ভারতের সামরিক ঘাঁটি নষ্ট করা। যেটা বেশিরভাগই ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তানের বেশকিছু বিমান গুলি করে নামানো গিয়েছে। এমনকি এটাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ এবং সেখানকার সেনার সঙ্গে এই লড়াই নয়। এই লড়াই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের। সন্ত্রাসের নিধন চেয়েছে ভারত। তার পরিকল্পনার ছকা হয়েছিল এবং বাস্তবায়িত করা গেছে। কিন্তু পাকিস্তান হামলা চালালে তার কড়া প্রত্যাঘাত করতে হয়েছে ভারতকে।
উল্লেখ্য, ভারতের প্রত্যাঘাতে কাত হয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের আগ্রাসী সন্ত্রাস দমনে ভারত এই ভাবে ঝাঁপাবে, ইসলামাবাদের কাছে ছিল কল্পনাতীত। যদিও ভারতের সামরিক শক্তি সম্পর্কে জ্ঞাত ছিল শাহাবাজ শরীফের দেশ। তবে তাদের একের পর এক যুদ্ধবিমান, মিসাইল, যুদ্ধাস্ত্র এক নিমেষে পর্যুদস্ত করে দিয়েছে ভারতীয় ব্রহ্মাস্ত্রগুলি। যেগুলির কাছে ধোপে টেকেনি চীন আমেরিকা থেকে পাওয়া কোনও অস্ত্রই। নাস্তানাবুদ হয়েই একাধিক পন্থা অবলম্বন করছে। তবে ভারত একেবারে স্পষ্ট করে দিয়েছে, সন্ত্রাসবাদ দমনে ভারতের অবস্থান ঠিক কি।












Discussion about this post