মুহম্মদ ইউনুস দীর্ঘকাল ধরেই বিদেশে বসবাস করেছেন। দুনিয়া জোড়া খাতি তার। বিশ্ব শান্তিতে নোবেলও পেয়েছেন। সেই ইউনুস এখন বাংলাদেশের প্রধান প্রশাসক। কার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যোগ সাজস নিয়ে কোন প্রশ্ন ছিল না যতদিন বাইডেন প্রশাসন ছিল। কিন্তু মনে করা হয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন আসায় ইউনূসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ কমেছে। কথাটা অনেকাংশ সত্যি। রোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসার পর মুহাম্মদ ইউনুস অনেকটাই হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু মার্কিন ডিপ স্টেটের পুতুল হওয়ার সুবাদে তার সমস্যা হয়নি পরিস্থিতি মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে। ফলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের মাধ্যমে তিনি ফের রামপ্রসাসনের কাছের মানুষ হয়ে উঠেছেন বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। কি সেই দাবি? সেটা হল সেন্ট মার্টিন দ্বীপ।
মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে এক মানবিক করিডর দেওয়ার নাম করে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার কক্সবাজারে এক মার্কিন লজিস্টিক হাফ তৈরির ছাড়পত্র দিয়েছে ইউনুস প্রশাসন। বিশ্লেষকদের মতে এই লজিস্টিক হাবের আড়ালে সেখানে মার্কিন সেনা ক্যাম্প তৈরি হয়েছে অর্থাৎ মার্কিং বেস স্টেশন। একটি মহলের দাবি সেন্ট মার্টিন দ্বীপটিও যুক্তরাষ্ট্রের হাতে চলে যাবে যে কোন মুহূর্তে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে রাখাইন রাজ্যে মানবিক করিডোর দেওয়া নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে।
অনেকেই প্রশ্ন তুলছে স্বাধীন ও সার্বভৌম একটি রাষ্ট্র কিভাবে অন্য একটি দেশের হাতে তুলে দিতে পারে? বিশেষ করে যেখানে ইউনুস সরকার নির্বাচিত নয়। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটাই মুহাম্মদ ইউনূসের সুবিধা। কারণ যেহেতু তাঁর সরকার নির্বাচিত নয়, সেহেতু তাঁর কোনও দায়ও নেই। ফলে সেন্ট মার্টিনে বা কক্সবাজারে যদি একবার মার্কিন ঘাঁটি তৈরি হয়ে যায়, তাহলে আর তা উচ্ছেদ করা যাবে না। কারণ বাংলাদেশের সেই ক্ষমতা নেই যে মার্কিন অগ্রাশনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়।
সেই দিক থেকে মুহাম্মদ ইউনূস দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতায় থাকার পরিকল্পনা করেছেন। যাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাত তাঁর মাথার উপর থাকে। প্রসঙ্গত বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময়কাল থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইছিল বাংলাদেশে তাদের একটা সেনাঘাঁটি হোক। শেখ মুজিবুর রহমান থেকে শুরু করে শেখ হাসিনা পর্যন্ত প্রত্যেককেই এই প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু মুজিব বা মুজিব কন্যা কেউই তাতে রাজি হয়নি। আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনার বক্তব্য ছিল বাংলাদেশের ভূখণ্ড অন্য কোন দেশের হাতে তুলে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশের অখন্ডতা ও সার্বভৌমত্ব আওয়ামী লীগের হাতে সর্বদা সুরক্ষিত। মার্কিন জো বাইডেন প্রশাসন ঠিক এই কারণেই শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাত করতে গভীর ষড়যন্ত্র রচনা করেছিল। যার বলি হতে হয়েছে শেখ হাসিনাকে। কিন্তু যেহেতু মুহাম্মদ ইউনূস জনতার রায়ে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসেননি সেহেতু তার কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে সেন্ট মার্টিন তুলে দেওয়া খুব সহজ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন এই অঞ্চলে নিজেদের একটি ঘাঁটি তৈরি করে ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করা। যাতে খুব সহজেই চিনের ওপর নজর রাখা যায়। তবে ওয়াকিবহাল মহল এটাও মনে করছে, যেহেতু ভারত দ্রুত উন্নত ও বিকশিত রাষ্ট্র হিসেবে উঠে আসছে, সেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের নজরে ভারতও রয়েছে। সেই কারণেই ভারতের আপত্তি উপেক্ষা করেই যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের দক্ষিনাঞ্চলে ঘাঁটি গড়তে উদ্যোগী। যদিও সেই সম্ভাবনা দানা বাঁধার আগেই ভারত ব্যবস্থা নিতে পারে বলেই অনুমান।
মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় আসার কর কেটে গিয়েছে আট মাস। কিন্তু বাংলাদেশের নির্বাচনের কোন লক্ষণ নেই। ভারতসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটা দেশ বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে তাগাদার আর্জি জানিয়ে চলেছে। কিন্তু ইউনূস পাকাল মাছের মতই নির্বাচনের প্রসঙ্গে এড়িয়ে চলেছেন এবং তার ক্ষমতায় থাকা দীর্ঘায়িত করে চলেছেন। একদিকে মৌলবাদের দোসর হয়ে জঙ্গি ও জিহাদি গোষ্ঠীগুলিকে খোলা ছাড় দিয়েছেন, অন্যদিকে ভারতের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে লাগাতার ভারতকে হুমকি দিয়ে চলা। সবমিলিয়ে মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশ্য খুব পরিষ্কার। এবার সেখানেই আঘাত হানতে পারে ভারত। অপারেশন সিঁদুর, ভারতীয় সেনার এই সামরিক অভিযানের উদ্দেশ্যই ছিল জঙ্গি ও জেহাদীদের দমন। আজকের বাংলাদেশ পাকিস্তানের দোসর হয়ে সন্ত্রাসবাদ এবং খেলাফত আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ইসলামিক কট্টরবাদ ভারতের কাছে একটা হুমকি। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের ধর্ম গুরুরা ভারতকে হুমকি দিচ্ছে। ফলে আগামী দিনে যদি অপারেশন সিঁদুর বাংলাদেশের বুকেও ঘটে তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।












Discussion about this post