এইবার বজ্র আঁটুনি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের। চাপে পড়লেন মোহম্মদ ইউনূস। নির্বাচন নিয়ে বড় বার্তা দিলেন সেনাপ্রধান। এইবার কি করবেন মহম্মদ ইউনূস এবং তার দোসর ছাত্রনেতারা?
বুধবার বাংলাদেশের সেনা সদর দফতরে সেনাকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। প্রত্যেকে নির্দেশ দেওয়া হয় সেনা পোশাক পড়ে আসার। এমন একটি নির্দেশ আসতেই শোরগোল পড়ে যায় বাংলাদেশে। শুধু তাই নয়, গত তিন দিন ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যে কিছু একটা ঘটছে সেটা আগেই আঁচ করা গিয়েছিল। কারণ বাড়ানো হয়েছিল নিরাপত্তা। পাশাপাশি অচেনা মানুষদের দেখলেই তল্লাশি করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি বুধবারের বৈঠকের দিকে নজর ছিল প্রত্যেকের। মনে করা হয়েছিল, বৈঠক শেষে গুরুত্বপুর্ণ সিদ্ধান্তের কথা দেশবাসীকে ঘোষণা দেবেন সেনাপ্রধান। কিন্তু সূত্র মারফত খবর, তেমন সিদ্ধান্ত না হলেও অস্থিতিশীল দেশকে স্থিত করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। জানা গিয়েছে, তিনি নির্বাচনের সময়সীমা ডিসেম্বরের মধ্যে রেখেছেন। তিনি চান, চলতি বছরের ৩১ সে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করাতে। পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক্তিয়ারের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জানিয়ে দেন, নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়ে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফেরক। যদিও এই প্রথম নয়। ডিসেম্বরে নির্বাচন নিয়ে এর আগেও একই কথা শোনা গিয়েছিল তার গলায়।
করিডোর প্রসঙ্গে তার স্পষ্ট ধারণা রাখেন এদিনের বৈঠকে। সূত্র মারফত খবর, ওই বৈঠকে তিনি জানান, করিডোর হোক বা বন্দর বা সেন্ট মার্টিন দ্বীপ… এই সমস্ত নিয়ে একমাত্র সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নির্বাচিত সরকারের। অর্থাৎ রাখাইন প্রদেশে আরাকান আর্মিদের মানবিক সহায়তা পাঠানোর জন্য রাষ্ট্রসঙ্ঘের তরফে যে বাংলাদেশকে মানবিক করিডরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সেটা মানেননি সেনাপ্রধান। আসলে রাষ্ট্রসংঘকে সামনে রেখে আমেরিকা চাইছে আরাকানদের সঙ্গে সম্পর্ক করতে। এর জন্য মার্কিন বেশ তৈরি করতে সচেষ্ট মার্কিন প্রশাসন। প্রথম থেকেই এই প্রস্তাবে রাজি হননি সেনাপ্রধান। সেটা আরো একবার স্পষ্ট হল। আসলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বাংলাদেশ ভালো নেই, সেটা বুঝেছেন জেনারেল ওয়াকার। তিনি এর আগেও বারবার বিভিন্ন সময় বলেছেন, এনাফ ইজ এনাফ। নির্বাচন করিয়ে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যেতে চায়। এই বিষয়টি কি বলেছিলেন সেনাপ্রধান শুনুন
শুধু তাই নয়, এই সরকারের আমলে যেভাবে ক্ষণে ক্ষণে বিতর্ক তৈরি হচ্ছে, এবং সাধারণ জনগণের কথা না ভেবে একে অপরের দিকে দোষারোপ ছোড়া করছে, সেই নিয়ে বার্তা দিয়েছিলেন জেনারেল ওয়াকার। তিনি বলেছিলেন, নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি করে লাভ নেই। এতে দেশের সর্বভৌমত্ব নষ্ট হবে।
অর্থাৎ বিভিন্ন সময়ের তার বক্তব্য থেকে এটাই স্পষ্ট হয়, মোহাম্মদ ইউনূসের জামানা দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়, সেটা বুঝছে সেনাবাহিনী। সেই কারণেই সেনাবাহিনী এখনো ঢাকার রাস্তায়। এমনকি সেনাপ্রধান মোহম্মদ ইউনূসের সিদ্ধান্তগুলো যে মানতে পারছেন না, সেটা বুঝেছেন তিনি এবং ছাত্রনেতারা। সেই কারণেই তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত হয়েছিল সরিয়ে দেওয়ার জন্য। তবে সেনাপ্রধানের এই বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টা বিপদে পড়লেন সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।












Discussion about this post