যে বৈঠকের দিকে তাকিয়ে ছিল ১৮ কোটি মানুষ, সেই বৈঠক হয়ে গেল সেনা সদর দফতরে। যেখানে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন সেনাপ্রধান। সূত্রের খবর, নির্বাচন, মানবিক করিডর, দেশের পরিস্থিতি নিয়ে সবিস্তারে আলোচনা করেছেন জেনারেল ওয়াকার।
বুধবার বাংলাদেশের সেনা সদর দফতরে সেনাকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। প্রত্যেকে নির্দেশ দেওয়া হয় সেনা পোশাক পড়ে আসার। এই খবর সামনে আসতেই প্রত্যেকেই ভেবেছিলেন, কিছু একটা ঘটতে চলেছে। আসলে, গত তিন দিন ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মধ্যে কিছু একটা ঘটছে সেটা আগেই আঁচ করা গিয়েছিল। কারণ বাড়ানো হয়েছিল নিরাপত্তা। পাশাপাশি সন্দেহভাজন কাউকে দেখলেই তল্লাশি করা চলছিল। এই পরিস্থিতিতে বুধবারের বৈঠকের দিকে নজর ছিল প্রত্যেকের। সূত্র মারফত খবর, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার বাংলাদেশের মানবিক করিডর নিয়ে স্পষ্ট ধারণা রাখেন ওই বৈঠকে। তিনি জানিয়ে দেন, মানবিক করিডর, বন্দর বা সেন্ট মার্টিন সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দেশে নির্বাচিত সরকার ছাড়া আর কেউ নিতে পারে না। অর্থাৎ তিনি থারেভারে বোঝাতে চেয়েছেন দেশের তদারকি সরকারের এক্তিয়ার কতটা। এছাড়াও একাধিক বিষয়ে উত্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। নির্বাচন নিয়েও তিনি বেশ কিছু আলোচনা তুলে ধরেন।
তিনি নির্বাচনের সময়সীমা ডিসেম্বরের মধ্যে রেখেছেন। তিনি চান, চলতি বছরের ৩১ সে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করাতে। পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক্তিয়ারের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জানিয়ে দেন, নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়ে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফেরক। যদিও এই প্রথম নয়। ডিসেম্বরে নির্বাচন নিয়ে এর আগেও একই কথা শোনা গিয়েছিল তার গলায়।
সূত্রের খবর, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে একেবারেই সন্তুষ্ট নন। যথেষ্ট ক্ষুব্ধ তিনি। এই বৈঠকে তোলা একাধিক বিষয় থেকে সেটা স্পষ্ট। এছাড়াও দেশের সেনাবাহিনী এমন কিছু করবে না, যেটা দেশের সার্বভৌমত্ব নষ্ট হতে পারে। এমন উল্লেখ করেন। পাশাপাশি দেশের পরিস্থিতি ঠিক রাখতে সেনাবাহিনীকে আরও কিছুদিন ব্যারাকের বাইরে থাকতে হবে বলে মত দেন তিনি। অর্থাৎ নিসন্দেহে বিপদে পড়লেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূস। নির্বাচনে গড়িমসি থেকে দেশের পরিস্থিতিতে লাগাম ছাড়া মনোভাব, যেগুলি এতদিন নজরে রেখেছিলেন সেনাপ্রধান এবং সেগুলি তিনি যে মানতে পারছেন না, সেটাও পরিষ্কার। এখন দেখার, দেশের এই দুর্যোগ পরিস্থিতিতে শেষমেশ সেনাপ্রধান ও বাহিনী কি পদক্ষেপ করে।












Discussion about this post