এইবার কি সরকার রাখাইন প্রদেশে মানবিক করিডর দেওয়া থেকে পিছু হটল? এই প্রশ্নটাই উঠছে বাংলাদেশের অন্দরে। কখনো বলা হচ্ছে, এই বিষয়ে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আবার কখনো বলা হচ্ছে, এটি একটি অস্তিত্বহীন বিষয়। আসলে কি বলতে চাইছে তদারকি সরকার? এদিকে এর মধ্যেই সেনাপ্রধান মানবিক করিডর নিয়ে বিশেষ মন্তব্য করেছেন। সেটা আগে টের পেয়ে সরকার কি পিছু হটছে?
সরকার যে এরকম একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা ২৭ এপ্রিল সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষ জানতে পারেন। সেদিন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন প্রত্যেকের সামনে আনেন এবং সংবাদমাধ্যমের সামনে জানান, রাখাইন রাজ্যে একটি মানবিক করিডর দিতে একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরপর থেকেই বাংলাদেশের অন্দরে শুরু হয়ে যায় নানা আলোচনা। এরপরই দেখা যায় তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস। সেই বৈঠকটি বলা হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠক। ধারণা করা হচ্ছে, এটি আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠক হলেও সেখানে সমস্ত বাহিনী উপস্থিত ছিলেন না। ছিলেন তিন বাহিনীর প্রধান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। মনে করা হচ্ছে, স্বাভাবিকভাবেই করিডোর ইস্যু নিয়ে আলোচনা উঠেছে এই বৈঠকে। তারপরই দুপুরের সাংবাদিক সম্মেলন করে জানানো হয়েছে, মানবিক নিয়ে কোন রকম কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি। এটা জানিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। আর এখানেই দ্বিমত লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
একদিকে কিছুদিন আগে সরকারের তরফের স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়, মানবিক করে নিয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আবার অন্যদিকে বলা হচ্ছে, এই নিয়ে আমরা আলোচনা করব না। এটি একটি অস্তিত্বহীন বিষয়। আসলে বিষয়টি ঠিক কি? বাংলাদেশের সাধারণ জনগণকে কি দোলাচলে গেলে দিচ্ছে? নাকি যখন মানবিক করিডোর নিয়ে দেশের অন্দরে একাধিক মন্তব্য ধেয়ে আসছে, সেটা থেকে বাঁচার জন্য সরকার বুঝে পিছু হটতে শুরু করেছে? উঠে আসছে প্রশ্ন।
এদিকে সূত্র মারফত খবর, গতকাল সেনানিবাসে সেনাপ্রধান মানবিক নিয়ে জানিয়ে দেন, দেশে নির্বাচিত সরকার ছাড়া এই ধরনের সিদ্ধান্ত কেউ নিতে পারে না। অর্থাৎ এই বিষয়টি নিয়ে প্রথম থেকেই সেনাপ্রধান রাজি ছিলেন না। সেটা আরও একবার স্পষ্ট হল। আর সেটাই আগে ভাগে বুঝে, সরকারের তরফে পিছু হটার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। আর সেই কারণেই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এমন একটি মন্তব্য করেছিলেন। যদিও দেখার, গোপন সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী সেনাপ্রধানের এই বক্তব্যের পর প্রধান উপদেষ্টার কি প্রতিক্রিয়া হয়।












Discussion about this post