মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ যে কেবলমাত্র নাটক তা এখন ধীরে ধীরে পরিষ্কার হচ্ছে। আসলে এটা ছিল বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে চাপে রাখার কৌশল মাত্র। এর পিছনে আসল উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে আরও অস্থিতিশীল করে তোলা।
গত জুন, জুলাই ও আগস্টে বাংলাদেশের শতাধিক থানায় লুটপাট ও ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র লুট হয়েছিল। যার হদিস এখনো পাওয়া যায়নি বলেই জানা যাচ্ছে। কোথায় গেল এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র? সূত্রের খবর, পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন তথা জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা সমন্বয়কদের তত্ত্বাবধানে কোন গোপন জায়গায় লুকিয়ে রাখা আছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে সেইসব অস্ত্র এবার কাজে লাগানো হতে পারে। কারণ মুহাম্মদ ইউনুস পদত্যাগ করতে চেয়েছেন, যার অর্থ বাংলাদেশের সেনাপ্রধান তথা সেনাবাহিনী বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা। অর্থাৎ বাংলাদেশে কার্যত গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে, এবার সেই সমস্ত অস্ত্রশস্ত্র কাজে লাগবে। জানা যাচ্ছে শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মুহাম্মদ ইউনূসের খুব কাছের একজন ছাত্রনেতার বাড়ি থেকে বেশ কয়েকটি দেশি ও বিদেশী অস্ত্র উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্যান্য কয়েকটি ধর্মীয় স্থান থেকেও অস্ত্র উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। মনে করা হচ্ছে, জুম্মার নামাজের পর বড় ধরনের কোনও গোলমাল পাকানোর পরিকল্পনা ছিল।
উল্লেখ্য গত কয়েকদিন ধরেই চাপ ক্রমশ বাড়ছিল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহম্মদ ইউনূসের উপর। অবিলম্বে নির্বাচন চেয়ে চাপ দেওয়া হচ্ছিল তাঁকে। এই চাপ আসছিল মূলত প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দলের থেকে। এবার ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করানোর চাপ দিল খোদ সেনাবাহিনী। যা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে কার্যত অপমানের সমান। বাংলাদেশের বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, বিগত চার পাঁচ দিন ধরে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে একটি বৈঠক করার জন্য দরবার করছিল। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা তাদের সময় দেয়নি। সূত্রটি আরও জানাচ্ছে, জামায়াতে ইসলামী একই চেষ্টা করছিল গত দুদিন ধরে, কিন্তু তারাও ব্যর্থ হয়েছে। অপরদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি যখন ইচ্ছা তখন ইউনূসের সঙ্গে দেখা করছেন বা বৈঠক করছেন। এটা ইউনূসের পক্ষে যায়নি।
যেমন শনিবারই মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশে সেনাবাহিনীর মর্যাদাপূর্ণ অবদান রয়েছে। সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করলে স্বাধীন দেশ বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে। পাশাপাশি তিনি এও বলেছেন, মুহাম্মদ ইউনূসকে আরও সময় দেওয়া দরকার।
বাইট – শফিকুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আমির (17.30 – 18.30)
জামাত প্রধানের এ হেন মন্তব্য যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ। একটা বিষয় পরিষ্কার জামাত সেনাবাহিনীর বিপক্ষে যেতে চাইছে না। কারণ ইদানিং বিএনপির সঙ্গে তাদের দূরত্ব কিছুটা হলেও কমেছে বলে সূত্রের খবর। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই মুহূর্তে জামাতের রাজনৈতিক সংগঠন খুব একটা ভালো অবস্থায় নেই। একইভাবে ভালো অবস্থায় নেই জাতীয় নাগরিক পার্টির। কিন্তু বিএনপি এখনও আগের অবস্থানেই আছে। ফলে শুক্রবার বিএনপি ও জামাত নেতৃত্ব বৈঠক করতে চলেছে মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে। এই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে গোটা বাংলাদেশ।












Discussion about this post