বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এই মুহূর্তে ভীষণভাবে বিপর্যস্ত। তিনি সম্প্রতি পদত্যাগ করতে চেয়েছে তাঁর পদ থেকে। জানি এখন তোলপাড় গোটা বাংলাদেশ। আদৌ কি তিনি প্রজেক্টর করতে চাইছেন নাকি পুরোটাই নাটক সেটা নিয়েও চর্চা চলছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের মতে, ডক্টর ইউনুস নাটক করছেন। কত বছরের ৫ আগস্ট যখন শেখ হাসিনা সরকারের পতন হল, তারপর মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন। এরপর কেটে গেছে ৯ মাস, কিন্তু বাংলাদেশের উন্নতি সেভাবে হয়নি বলেই দাবি। আর্থিক এবং সামাজিক দুই দিক থেকেই ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী তথা বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান একটা কড়া হুশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে। বাংলাদেশের সেনাপ্রধান পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। না হলে সেনাবাহিনী যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে। কার্যত এটা হুঁশিয়ারি। বুধবার ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের দরবার হলে সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য সামনে আসার পর থেকে বাংলাদেশ জুড়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। তসরপরই ইউনূসের পদত্যাগ করার হুমকি ও জাতীয় নাগতিক পার্টির হাহাকার। অন্যদিকে বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি সেনাপ্রধানের কথাতেই তাল মেলাচ্ছে। অপরদিকে জামাযতে ইসলামী এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছে। কারণ তাঁদের সংগঠন এখন এতটাও শক্তিশালী নয় যে তাঁরা আসন্ন নির্বাচনে অনেক বেশি আসন পেতে পারে। অপরদিকে জামাত মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারকে সবরকমের সহযোগিতা এবং সমর্থন করার পর থেকে বিএনপির সঙ্গে তাঁদের দূরত্ব বেড়েছিল। ফলে মুহাম্মদ ইউনূস বেকায়দায় পড়তেই সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছে জামায়তে ইসলামী। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে জামায়তের আমীর দাবি করেছেন, দেশ এক অভূতপূর্ব বাঁকে দাঁড়িয়ে, তাই তাঁরা সর্বদলীয় বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্রের খবর, চাপে থাকা জামাত নেতৃত্ব গত দুই দিনে অন্তত দুটি গোপন বৈঠক করেছেন বিএনপি নেতাদের সঙ্গে। হাসিনা পূর্ববর্তী জোট ফিরিয়ে আনতেই এই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু বিএনপি অনড়। তাঁরা চায় বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচন। কারণ, বিএনপি জানে যত দ্রুত ভোট হবে, ততই তাঁদের লাভ হতে পারে। কিন্তু সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টির আবদারে মুহাম্মদ ইউনূস সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় চাপে পড়ে গিয়েছে বিএনপি। কারণ, আওয়ামী লীগের প্রতি একটা আবেগের জায়গা কাজ করছে যেহেতু চট্টগ্রামের কক্সবাজারে মার্কিন সেনা পৌঁছে গিয়েছে। শেখ হাসিনা আগেই দাবি করেছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাঁর কাছে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ চেয়েছিলেন কিন্তু তিনি দেননি। আজ হাসিনার সেই দাবিই প্রমানিত হচ্ছে। বাংলাদেশে ঢুকে গিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। ফলে হাসিনার দাবি এবং তাঁর দলের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ইউনূস সরকারের তাড়াহুড়ো কেন সেটা বাংলাদেশের জনগণ স্পষ্ট বুঝতে পারছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি বা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেই বলেছেন, মুহাম্মদ ইউনূস না থাকতে চাইলে বিকল্প বেছে নেবে জাতি। অর্থাৎ, ইউনূসের পাশে যে বিএনপি নেই সেটা এখন দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট।
একদিকে জামাতের চাপ, অন্যদিকে বিএনপি। ঘরে ও বাইরের চাপে নাজেহাল মুহাম্মদ ইউনূস এখন চাইছেন জামাত ও বিএনপি-র সঙ্গে আলাদা আলাদা করে বৈঠক করতে। সেই বৈঠক শুক্রবার রাতে হওয়ার কথা। কিন্তু ইউনূসের পরিকল্পনা বুঝতে পেরেছেন বিএনপি নেতৃত্ব। তাঁরা প্রথম থেকেই জাতীয় নির্বাচনের পক্ষে। অপরদিকে ইউনূসকে পাশে পেয়ে জামায়তে ইসলামী বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষমতা কার্যত নিজেদের দখলেই রেখেছিল। কিন্তু বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করা এবং ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়ার পর সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে জামায়তে ইসলামী। ফলে জামাতের আমীরের গলায় এখন উল্টো সুর। অপরদিকে বিএনপি খুশি। এখন দেখার কোন শর্তে মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পরেন। নাকি তাঁকে সরতেই হবে।












Discussion about this post