বাংলাদেশ চরম সংকটে। বড়সড়ো ক্ষতি হচ্ছে শিল্পে। তার প্রভাব পড়বে বাজারদরে। আর্থিক সংকটে পড়বে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ। আসলে ভারত বিরোধিতা করতে গিয়ে সমস্যা আরও বেড়েছে, বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশের
শিল্পে গ্যাসের সংকট চরমে। এর জেরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একাধিক কারখানা। কয়েক মাসের মধ্যে অর্ধেক টেক্সটাইল কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। একাধিক শিল্প এখন ধুঁকছে। অনেকে বলছেন, পরিকল্পিতভাবেই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এই সমস্ত শিল্প। সরকারের কোনও পরিকল্পনা নেই। আর তার খেসরত দিতে হচ্ছে, কারখানার মালিকদের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি শিল্প বাঁচানো না যায়, তবে দেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ হয়ে যাবে। দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা যেতে পারে। অর্থাৎ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূস কতটা দেশ চালাতে ব্যর্থ, সেটা পদে পদে পরিষ্কার হচ্ছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের যা পরিস্থিতি তাতে বাংলাদশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা চাইলেই দখল করে নিতে পারে ভারত। একটি হল রংপুর ডিভিশন। যেটি ভারতের শিলিগুড়ি করিডোরের কাছে অবস্থিত। এটি দখল করতে পারলে, চিকেন নেকের যে সমস্যা, সেটি মিতে যাবে। আর একটি হল চট্টগ্রাম লাগোয়া একটি অংশ আর একটি হল কিছুদিন আগেই বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, যারা ভারতের চিকেন মেক নিয়ে বারবার কথা বলেন, তাদের মনে রাখা উচিত দেশের অবস্থা। বাংলাদেশের ও চিকেন নেক রয়েছে। আমাদের একটি থাকলে ওদের দুটি রয়েছে। আসলে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা চিকেন নেক নিয়ে করা মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এই হুশিয়ারি দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই খবর, তিনটি শিল্প এলাকায় সাত মাসে বন্ধ হয়ে গিয়েছে ৯৫ টি কারখানা।
এর ফলে প্রায় ৬২ হাজার শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। জানা যায়, কারখানার মালিক এবং শিল্পপতিরা বলছেন, দেশে শিল্প এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এমন সংকটে গিয়ে পৌঁছেছে, যেখানে বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ দেখা যেতে পারে। এমনকি জ্বালানির কারণে শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা বন্ধের মুখে। এই সংকট তৈরি হওয়ার কয়েকটি মূল কারণ রয়েছে। সেটি হল গ্যাস সরবরাহের অভাব। সরকার গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে ওই কারখানাগুলো ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ক্ষমতায় চলছে। যাতে কোনভাবেই লাভ হচ্ছে না। পরিসংখ্যান বলছে, ১২২টি কারখানায় শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বেতন দিতে পারেনি। আরেকটি কারণ রয়েছে এই সংকটের পিছনে, সেটা বলা যেতে পারে বাংলাদেশ সরকার নিজেই এই সমস্যা ডেকে নিয়ে এসেছে। ভারত-বাংলাদেশ সংঘাত। বাংলাদেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ এমএমসিএবি। কিন্তু মাত্র একজন নেমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫০০ এমএমসিএবি সরবরাহ করছে। বাকি আমদানি করে পূরণ করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সম্ভব হয়ে উঠছে না। তবে কিছুটা যোগান প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে।
কিন্তু সম্প্রতি ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক তলানিতে এসে থেকে গেছে। এমনকি ভারতের তরফে বেশ কিছু বাণিজ্যে মিশে থাকা দেওয়া হয়েছে। ফলে সেটাও সম্ভব হচ্ছে না। শুধু তাই নয় ভারত বাংলাদেশের উপর যে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তাতে এবার সমস্যায় পড়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের জ্বালানি সমস্যা মেটাতে, ভারত নিজেই গ্যাসের পাইপলাইন তৈরি করছিল। যাতে ভারত থেকেই কম খরচে বাংলাদেশ সেই জ্বালানি নিতে পারে। কিন্তু সেটা বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। এর ফলে চরম সমস্যার সম্মুখীন পদ্মাপাড়ের দেশ। অর্থাৎ ভারত বিরোধিতা করায় বাংলাদেশের কাল হল।
যে যে সমস্যাগুলো খুব সহজেই মোকাবিলা করা যেত, বা কম খরচে শিল্পের উন্নতি সাধন হতো, সেগুলি প্রায় নিজেদের বোকামিতেই বন্ধ করে দিল বাংলাদেশ। এখন দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শিল্প বস্ত্র শিল্প। সেই শিল্প এখন চরম সংকটে মুখে। ভারতের প্রচুর পরিমাণে রপ্তানি হত বাংলাদেশি বস্ত্র। কিন্তু সেগুলি বন্ধ করে দেওয়ার ফলে সমস্যায় বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, ভারত থেকে যে সস্তার সুতো যেতো, সেটাতেও লাভবান হত বাংলাদেশ। কিন্তু এখন সেটাও বন্ধ। এদিকে বস্ত্রশিল্পের জন্য কাঁচামাল হিসেবে প্রধান সুতো। সেই সুতো ঘুর পথে অন্য কোন দেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এর ছেড়ে বহু বড় বড় শিল্পপতিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এবং মাঝারি এবং ছোট ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়ে ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এদিকে নয়া দিক হল, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের মূল জ্বালানি গ্যাসের উপর অতিরিক্ত কর ধার্য করেছেন। আর এতে আরও বিপাকে পড়েছে কারখানা গুলি। উৎপাদন ক্ষমতা কমছে। প্রধানত বস্ত্র শিল্পে। এই পরিস্থিতিতে কারখানা বন্ধ ছাড়া আর উপায় কি! এরমধ্যে উপরি একটি সমস্যা হল, আমেরিকা বাংলাদেশের উপর যে পরিমাণ শুল্ক চাপিয়েছে, তাতে প্রবল চাপে বাংলাদেশ। এর ফলে চারিদিক থেকে বেসামাল বাংলাদেশের ইউনুস সরকার। আর এর জন্যই, বাংলাদেশের শিল্পপতিরা বলছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ঠিক না হলে দেশে খুব তাড়াতাড়ি দুর্ভিক্ষ দেখা যেতে পারে।












Discussion about this post