গত বছর 5ই অগাষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর 8ই অগাষ্ট বাংলাদেশে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেই সরকারের মাথায় বসানো হয় নোবেল জয়ী মোহম্মদ ইউনূসকে। খুব সাধ করে বাংলাদেশের মানুষ চেয়েছিলেন, ইউনুস ক্ষমতা হাতে নেওয়ার পর দেশের হাল ফিরবে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে থাকবে, অর্থনৈতিক পরিকাঠাম পোক্ত হবে। তার মধ্যেই নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে নির্বাচিত সরকার নিয়ে আসবেন মোহম্মদ ইউনূস। এই করে তদারকি সরকারের বয়স ৯ মাস থেকে ১০ মাসে গিয়ে পড়ল। কিন্তু নির্বাচন বললেই সংস্কারের কথা আসছে। দাবি মানা হচ্ছে ছাত্র নেতাদের। কিন্তু সাধারণ মানুষের দুঃখ কষ্টের কথা কানেই নিতে নারাজ প্রধান উপদেষ্টা। যখন সেনাপ্রধানের থেকে চাপ এল, তখন পদত্যাগের ইচ্ছে প্রকাশ করলেন। যদিও প্রত্যাশিতভাবেই সেই পদত্যাগের ইচ্ছে তুলেও নিলেন। তবে আর নয়। মোহাম্মদ ইউনূসকে চাপ বাড়াচ্ছে একাধিক স্তরের মানুষ। যেমন সরকারি কর্মচারীরা রাস্তায় নেমেছেন তার বিরুদ্ধে। ঠিক তেমনই বিএনপি নির্বাচনের দাবিতে রাস্তায় নামছে। তাদের দাবি, ডিসেম্বরের মধ্যেই ভোট করাতে হবে। অর্থাৎ কিছুদিন আগে সেনাপ্রধান যে বক্তব্য রেখেছিলেন, সেই একই পথে হাঁটছেন বিএনপি। ডিসেম্বরেই ভোটের আল্টিমেটাম সেনাবাহিনীর। সাংবাদিক সম্মেলনের সেনা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্বের বিষয়ে কোনও আপোষ নয়। এদিকে নিজের সিদ্ধান্তেই অনড় মোহাম্মদ ইউনুস। কয়েক মাস আগে নির্বাচন নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে, তিনি জুনের মধ্যে নির্বাচন করার কথা বলেছেন। সেনা বা বিএনপি’র নির্বাচন নিয়ে বক্তব্য রাখার পরও জুনেতেই অনড় ইউনুস। কি কারণে গড়িমসি? তবে কি গদি আঁকড়ে ধরে রাখতে চান মহম্মদ ইউনূস?
তবে শুধু সেনাপ্রধান বা বিএনপি বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের চাপ নয়, চাপ বাড়াচ্ছে সরকারি কর্মচারীরাও। প্রাথমিক শিক্ষকদের দাবি, তাদের বেতন বাড়াতে হবে। সেই দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন তারা। অর্থাৎ গোটা বাংলাদেশ জুড়ে অচলাবস্থা।
অর্থাৎ একদিকে সরকারি কর্মচারীরা রাস্তায় নেমেছে। তার কারণ, তাদের নিয়ে একটি অধ্যাদেশ জারি হয়েছে। সেটাকে তারা কালা আইন বলছে। এই নিয়ে সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভ করছেন তারা। প্রাথমিক শিক্ষকরা বেতন বৃদ্ধির জন্য রাস্তায় নেমেছেন। এমনকি গোটা দেশ জুড়ে তাদের ধর্মঘট দেখা গিয়েছে। বিএনপি নির্বাচন নিয়ে তাদের শাখা সংগঠদের সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় নামছে। আর সর্বশেষ সেনার তরফে। তাদের তরফে একটি সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাখাইনি মানব করিডর সহ একগুচ্ছ বিষয় নিয়ে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন দেখার, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা কিভাবে এগুলি সামলে ওঠেন বা আদেও সামলে উঠতে পারেন কিনা!












Discussion about this post