সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের তরফে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছিল, আসন্ন ঈদুল আযহায় কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে সেনাবাহিনীকে নিয়োগ করা হবে। এই বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিগত ৯ মাসে এই প্রথমবার বাংলাদেশ সেনা সরকার বা সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনও সংস্থার বিরুদ্ধে সরাসরি মতোবিরোধ ব্যক্ত করল সেনা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। গত এক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশে সেনাবাহিনী এবং তদারকি সরকারের মধ্যে একটা সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে রাখাইন প্রদেশে মানবিক করিডোর দেওয়া নিয়ে। বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওই করিডোর দেওয়ার ঘোরতর বিরোধী। তাঁর অনড় মনোভাবের জন্য তদারকি সরকারকে ওই পরিকল্পনা থেকে আপাতত বিরত থাকতে হয়েছে। গত ২১ মে সেনাপ্রধান ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের দরবার হলে যে অফিসার্স অ্যাড্রেস করেছেন, তাতে তাঁর মনোভাব স্পষ্ট করে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে মিয়ানমারে মানবিক করিডোর নিয়ে সেনাবাহিনীর বাকি অংশেরও সম্মতি আদায় করে নিয়েছেন। কিন্তু এই সংঘাত ছিল ভিতরে ভিতরে, প্রকাশ্যে আসেনি। যা এবার এল। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের দেওয়া বিজ্ঞপ্তি নিয়ে তাঁরা প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করল। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সেনা জানিয়েছে, আসন্ন ঈদুল আযহায় কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব প্রদান প্রসঙ্গে সেনাবাহিনীর অবস্থান – ঢাকা, ২৭ মে ২০২৫ (মঙ্গলবার): সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক তাঁর এক বক্তব্যে জানান যে, আসন্ন ঈদুল আযহায় কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে সেনাবাহিনী নিয়োগ করা হবে। সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে— বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ ধরনের কোন কার্যক্রমের বিষয়ে অবগত নয় এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কোন কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত হবার পরিকল্পনা নেই। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট ও উপযুক্ত সংস্থাসমূহকে দায়িত্ব প্রদান করাই যৌক্তিক বলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মনে করে।
ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, সেনাবাহিনীর এই বিবৃতি আসলে মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের প্রতি একটা কড়া বার্তা। কারণ, সেনাবাহিনী দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু বিগত ৯ মাস ধরে তাঁরা পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য রাস্তায় নেমে কাজ করছে। যা নিয়ে এর আগেও আপত্তি জানিয়েছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। তিনি প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, দ্রুত নির্বাচন করে একটা স্থায়ী সরকার গঠন হয়ে গেলে সেনাবাহিনী নির্বিঘ্নে সেনানিবাসে ফিরে যাবে। কিন্তু ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সেই প্রশাসকই আগ বাড়িয়ে ঈদুল আযহায় কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে সেনাবাহিনীকে নিয়োগ করার বিজ্ঞপ্তি জারি করে দিয়েছেন। ফলে বাংলাদেশ সেনার আঁতে ঘা লাগা স্বাভাবিক। এটা যে সেনাবাহিনীর কাজ নয় সেটা যেমন তাঁরা স্পষ্ট করে দিল। সেই সঙ্গে কড়া বার্তা দিয়ে বুঝিয়ে দিল, তদারকি সরকার যেন নিজেদের অওকাত অনুযায়ী কাজ করে। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, এবার থেকে সেনাবাহিনী প্রতিটি পদক্ষেপে মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সংঘাতে যেতে পারে। কারণ, ৯ মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও এই সরকার জাতীয় নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করে চলেছে। আগামী বছরের জুনের আগে নির্বাচন হবে না সেটাও বুঝিয়ে দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই আবহে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের দেওয়া গণ বিজ্ঞপ্তিকে সরাসরি নাকচ করে বাংলাদেশ সেনা বুঝিয়ে দিল, এবার থেকে তাঁরা ছেড়ে কথা বলবে না।












Discussion about this post