বাংলাদেশে এখন কার্যত জরুরি অবস্থা, অনেকটাই গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি। একদিকে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে মানবিক করিডোর দেওয়ার নামে বাংলাদেশের কক্সবাজারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি তৈরি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল ইউনূস সরকার। সেই পরিকল্পনা কার্যত ভেস্তে দিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। তাঁর অনড় মনোভাবের জেরে রাখাইন মানবিক করিডোর এখন বিশ বাও জলে। অন্যদিকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে রংপুর ডিভিশনের লালমনিরহাটে পুরোনো বিমানঘাঁটিটি অত্যাধুনিক রূপে তৈরি করার নামে চিনের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল ইউনূস সরকার। কার্যত সেটা নিয়েও আপত্তি জানিয়ে তদারকি সরকারকে চাপে ফেলেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সম্প্রতি এক সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষুন্ন হয়, এমন কোনও কাজে সম্প্রীক্ত হবে না সেনাবাহিনী।
বিগত ৯ মাসে বাংলাদেশ কতটা উন্নতি করলো, এখন সেই প্রশ্ন উঠছে সে দেশে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী মহল, অর্থনীতিবিদ থেকে শুরু করে কূটনৈতিক মহল, সকলেই মুহাম্মদ ইউনূসের মতলব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিও নির্বাচন নিয়ে চাপ বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি ডিসেম্বর মাসের মধ্যে নির্বাচন করানো রীতিমতো নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। কিন্তু ক্ষমতালোভী ইউনূস যে কোনও মূল্যে ক্ষমতায় টিকে থাকতে মরিয়া।
বাংলাদেশের রংপুরে লালমনিরহাটে যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আমলে বিমানঘাঁটি ছিল, সেখানে শেখ হাসিনার আমলে একটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির পরিকল্পনা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান ইউনূস সরকার লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি নিয়ে আরও বড় পরিকল্পনা করেছে। সরকারি ওয়েবসাইট বলছে ওই বিমানঘাঁটি ঘিরে একটা অত্যাধুনিক মিসাইল ও এয়ার ডিফেন্স প্রকল্প তৈরি করতে চায় বর্তমান তদারকি সরকার। আর সেই বিষয়ে পাকিস্তান, চিন ও তুরস্কর মতো দেশের সাহায্য নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। যা নিয়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তায় একটা হুমকি তৈরি হতে পারে বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। কারণ লালমনিরহাটের অবস্থান ভারতের চিকেন নেক শিলিগুড়ি করিডোর থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার মতো। সেখানে যদি চিন ও পাকিস্তানের অস্তিত্ব থাকে তা ভারতের কাছে হুমকি বৈকি। সম্প্রতি ভারত সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করেছে। ভারতীয় সেনা সরাসরি পাকিস্তানের মাটিতে হামলা চালিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে রেখেছেন, অপারেশন সিঁদুর স্থগিত রয়েছে, বন্ধ হয়নি। তিনি এও জানিয়েছিলেন ভারতের বিরুদ্ধে যে কোনও সন্ত্রাসী হামলা যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফলে শিলিগুড়ি করিডোরের নাকের ডগায় যদি চিন এসে বিমানঘাঁটি তৈরি করতে চায় তাহলে তার আগেই সেটা গুঁড়িয়ে দিতে পারে ভারত। আর এটা বেশ ভালোভাবেই জানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তাই লালমনিরহাট নিয়ে অন্তরবর্তীকালীন সরকারের যে পরিকল্পনা ছিল তাতে প্রথমেই জল ঢেলে দিল সেনাবাহিনী। এক সাংবাদিক সম্মেলনে সেনার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লালমনিরহাটে যদি উন্নয়ন হয় তাতে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু চিন যে লালমনিরহাটে বিমানঘাঁটি বানাবে সেটা সম্পর্কে সেনাবাহিনী অবগত নয়। পাশাপাশি এও জানানো হয়েছে, দেশের সুরক্ষা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষুন্ন হয় এমন কাজ সরকার করবে না বলেই মনে করে তাঁরা।
সেনাবাহিনীর তরফে এটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে একটা বার্তা বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। রাখাইন মানবিক করিডোর না দেওয়া নিয়ে যেমন সেনাবাহিনীর অনড় অবস্থান, তেমনই লালমনিরহাটে চিন ও পাকিস্তানকে ঢুকতে দিতেও নারাজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এটাই স্পষ্টত বুঝিয়ে দেওয়া হল ইউনূস সরকারকে। বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, এই সময়ে ভারতের অভিমত খুবই স্পষ্ট। ভারতের স্বার্থ ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কোনও পদক্ষেপ ভারত সরকার আর মেনে নেবে না। ফলে ভারত যেভাবে পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমস এবং বিমানঘাঁটিগুলি ধ্বংস করেছে, প্রয়োজনের বাংলাদেশের লালমনিরহাট বিমানঘাঁটিও সেভাবে ধ্বংস করবে। তাই সাধু সাবধান।












Discussion about this post