বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে কন্ট্রোল করতে শুরু করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। কোনরকম উত্তেজনা সৃষ্টি না করেই অত্যন্ত সুকৌশলে চলছে তার কাজ। রাষ্ট্রপতি ভবনের সমস্ত কন্ট্রোল এখন সেদেশের সেনার হাতে। অর্থাৎ সেনার অনুমতি ছাড়া রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টাদেরও। হঠাৎ কেনই সিদ্ধান্ত সেনা প্রধানের? ইউনূসের নতুন কোন পরিকল্পনাকে প্রতিহত করতে সেনার এই তৎপরতা?
মনে করা হচ্ছে বেশ কিছুদিন আগেই যখন মোহাম্মদ ইউনুস ও তার উপদেষ্টা মন্ডলী একটি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে তার পদ থেকে উৎখাত করে, এবং সেনাপ্রধানকেও তার তারপর থেকে সরিয়ে দিতে উদ্যত হয়েছিল। এবার সেনা সরকারের সেই ষড়যন্ত্রের পথটিকে এবার বন্ধ করে দিল। পুরো রাষ্ট্রপতি ভবন চত্বর সেনার কনভয় দিয়ে ও সেনা ট্যাংক দিয়ে ঘিরে ফেলেছে সেনাবাহিনী। কিন্তু সেনার আগাম এই তৎপরতার কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে সদ্য বিদেশ সফর সেরে ফিরে প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস তার প্রাপ্তি এবং দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সম্পর্কে যে বার্তা দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করবে এই সরকারের হাতে আরও ক্ষমতা দিতে হবে এবং সেখানে তিনি বারবার দাবি করবেন বর্তমান সরকারকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পেরে তারা দেশের জন্য সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারবে না, এমনকি দেশের সংবিধান মেনে ও কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না বর্তমান সরকারের আর সেই সংবিধান যদি মুছে ফেলতে হয় তবে পদত্যাগ করতে হবে বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে। সে রাষ্ট্রপতির পদে বসে দেশের সেনা প্রধানের পদচ্যুতি ঘটানোর সিদ্ধান্ত নেবে। ফলে সমস্ত পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় দুটি পথের কাঁটা রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান তারা দুজন না সরতে মোঃ ইউনুসের ক্ষমতা ধরে রাখার ইচ্ছা কোনভাবেই পূরণ হবে না। মোহাম্মদ ইউনুসের এই পরিকল্পনায় বাধা সৃষ্টি করতে সেনার এই সক্রিয়তা বলে মনে করা হচ্ছে।
কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের যে অস্থির পরিস্থিতি চলছে সে পরিস্থিতির দায় সম্পূর্ণ ভারতের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস। কিন্তু এবার ভারতের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে কোন দায় নেই নয়া দিল্লির। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে অপারেশন সিঁদুর এখনো চলছে। তাই যেকোনো সময় ভারতের নিশানা পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানের দিকে ঘুরে যেতেই পারে।
ভারতের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, রবিবার প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে নাগরিক পরীক্ষার সভাপতি মাহমুদুর রহমান জানিয়েছিলেন, প্রধান উপদেষ্টা দাবি করেছেন জাতীয় আধিপত্যের কারণে দেশ সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। আশেপাশে মোঃ ইউনুস জানিয়েছেন ভারতীয় আধিপত্যের কারণে বাংলাদেশ শংকর দেখা যাচ্ছে বিপুল পরিমাণে অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য। কিন্তু অন্যদিকে দেশের মানুষ না খেয়ে মরছে, সেটা মেনে নিতে পারছে না অন্তর্বর্তী সরকার। যদিও এই প্রসঙ্গে ভারতের তরফ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো রকম প্রতিক্রিয়া আসেনি।
কিন্তু ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ” বাংলাদেশের নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমরা আমাদের অবস্থান খুব স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছি এবং আমরা ধারাবাহিকভাবে তা করেও আসছি। বাংলাদেশের উচিত দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছা নিশ্চিত করা।”
এই সমস্ত পরিস্থিতি ধীরে ধীরে যখন আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই আবহাওয়া এবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের চাপ ইউনুসের বিরুদ্ধে, তবে কি সাধারণ মানুষের শান্তি স্থিতিসীলতা নিয়ে গড়িমশি করার দিন শেষ মোহাম্মদ ইউনুসের? ভারতের এই চাপের পর নির্বাচনী এখন কোন নতুন রোড ম্যাপ তৈরি করে ইউনুস প্রশাসন এখন সেটাই দেখার।












Discussion about this post