মার্কিন প্রশাসনের নিশানায় আদানি গ্রুপ। ট্রাম্প প্রশাসনের তদন্তের মুখোমুখি শিল্পপতি গৌতম আদানির সংস্থা। কিন্তু হঠাৎ কেন ট্রাম্প প্রশাসনের টার্গেটে আদানি গ্রুপ? কি অভিযোগ আদানির বিরুদ্ধে? এই ঘটনাটি যদি সত্যি হয় তবে এই ঘটনার সূত্র ধরেই কি ভারত যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও তলানিতে পৌঁছাবে। পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এর গভীর প্রভাব পরতে বাধ্য।
বর্তমান সময়ে আদানি গ্রুপ বাণিজ্য ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই আন্তর্জাতিক স্তরে অন্যান্য দেশের আরো অনেক দেশ যাদের ভূরাজনৈতিক প্রভাব অত্যন্ত দৃঢ় তাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে।
এবার মুন্দ্রা বন্দর দিয়ে ভারতে ইরানি এলপিজি আমদানির অভিযোগে গৌতম আদানির কোম্পানি মার্কিন তদন্তের আওতায় রয়েছে। যদিও আদানির একজন মুখপাত্র এই ঘটনায় কোম্পানির জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন যে তারা এই ধরনের তদন্ত সম্পর্কে অবগত নন।
সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিল জার্নাল’-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, শিল্পপতি গৌতম আদানির কোম্পানিগুলি গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দর দিয়ে ভারতে ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য আমদানি করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছে কিনা তা তদন্ত করছে মার্কিন প্রসিকিউটররা। বিষয়টির সত্যতা আমেরিকার বিচারবিভাগীয় দফতর খতিয়ে দেখছে বলে জানানো হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। যদিও তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে আদানি গ্ৰুপ। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, মার্কিন বিচার বিভাগ আদানি এন্টারপ্রাইজেসে পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি এলপিজি ট্যাঙ্কারের কার্যকলাপ পর্যালোচনা করছে।
এই ঘটনা সামনে আসতেই, আদানি এন্টারপ্রাইজেসের একজন মুখপাত্র বলেন, “আদানি গ্রুপ ইরানি উৎপত্তি এলপিজি সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার বা বাণিজ্যের সাথে ইচ্ছাকৃতভাবে জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্টভাবে অস্বীকার করে। এছাড়া, এই বিষয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কোনও তদন্তের বিষয়ে আমরা অবগত নই।”
উল্লেখ্য, গত মাসে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে ইরানের তেল বা পেট্রোকেমিক্যাল অর্থাৎ এলপিজি পণ্যের সমস্ত ক্রয় বন্ধ করা উচিত এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র থেকে তেল কিনছেন এমন দেশগুলির উপর দ্বিতীয় নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন। এরপর এই ঘটনায়
আদানি গ্রুপের সংস্থাগুলি জেনেশুনে ইরানের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করছে, এই বিষয়টি একটি ভুল তথ্য উত্থাপণ করে।এর বিপরীত যেকোনো দাবি কেবল অপবাদই হবে না বরং আদানি গ্রুপের সুনাম এবং স্বার্থকে আঘাত করার জন্য ইচ্ছাকৃত কাজ বলেও উল্লেখ্য করা করছে আদানি গ্রুপ।
প্রসঙ্গত,গত বছরের নভেম্বরে মার্কিন কর্তৃপক্ষ ৬২ বছর বয়সী শিল্পপতি এবং তার ভাগ্নে সাগর আদানির বিরুদ্ধে মামলা করা হয় , অভিযোগ করা হয় যে তারা বিদ্যুৎ সরবরাহের চুক্তি নিশ্চিত করার জন্য ঘুষ দিয়েছিলেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তহবিল সংগ্রহের সময় আমেরিকান বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করেছিলেন।












Discussion about this post