ভারতের পুশ ব্যাক এ হার স্বীকার বাংলাদেশের। এবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট করেন, পুশ ব্যাক ইস্যুটিকে ভিন্নভাবে সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী কিছুদিনের মধ্যে এই পুশ ব্যাক ইস্যুতে বাংলাদেশের তরফে চিঠির মাধ্যমে সরকারিভাবে বেশ কিছু কথা জানানো হবে ভারতকে। অর্থাৎ তার বক্তব্যে বোঝা গেল ভারতের পুশব্যাক নিয়ে বাংলাদেশ উত্তাল হলেও, সংঘাতে জড়ানোর পরিস্থিতি নেই বাংলাদেশের। তবে এতদিন কেন চললো এই সংঘাত? সবটাই মোহাম্মদ ইউনুসের মস্তিষ্কপ্রসূত?
বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোঃ ইউনুস সাধারন মানুষের পালস বোঝার চেষ্টা করেন। সাধারণ জনগণের আবেগটিকেই কাজে লাগাতে চান তিনি। একই ভাবে এই আবেগকে কাজে লাগিয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। যা বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ভুল হিসেবে চিহ্নিত হলো।
অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বিজিবির তরফ থেকে একটি প্রেস কনফারেন্স করা হয়, সেখানে বলা হয়েছে সীমান্তবর্তী এলাকায় যে নজরদারি চলছে সেটি বাড়ানো হবে, এবং ভারত যে কাঁটাতার পেরিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাচ্ছে সেগুলিও আর বরদাস্ত করা হবে না। এমনকি তারা জানিয়ে ছিল পুশ ইন ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে কড়া প্রত্যাঘাত আনবে বিজিবি ও বাংলাদেশ সরকার।
আর এই ঘটনা সাত দিনের মধ্যেই সুর নরম এই বাংলাদেশের। তারা বলছে অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সেই দেশ শুধুমাত্র ভারতকে চিঠির মাধ্যমে কিছু কথা জানাতে পারে এছাড়া তাদের আর কিছুই করার নেই। এই কিছুদিনের মধ্যে নিজেদের অবস্থানটাও কিছুটা বুঝতে পারল বাংলাদেশ সরকার। আর সাধারণ নাগরিক তারাও সরকারের ক্ষমতা সম্পর্কে আরো কিছুটা অবগত হলো।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এসে বাংলাদেশের বার্তা পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভারত থেকে যে পুশ ইন হচ্ছে,সেটা ফিজিক্যালি ঠেকানো সম্ভব নয়। এটা নিয়ে ভারতের সঙ্গে চিঠি আদান প্রদান চলছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টার তরফে বলা হয়, ভারতকে জানানো হয়েছে, এটি যাতে পদ্ধতি অনুযায়ী হয়। তারা কিছু ক্ষেত্রে বলেছে, অনেক বিষয় আটকে রয়েছে, সেগুলো ঠিকমতো বাংলাদেশ করছে না। যাচাই করে দেখেছি, দীর্ঘদিনের তালিকা রয়েছে। ফলে দুপক্ষের বক্তব্যই থাকতে পারে।’
সূত্রের খবর ভারত সরকার গত এক মাসে অন্তত দুই হাজার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে স্থল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের ফেরত পাঠিয়েছে। বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তারা এভাবে সীমান্ত পথে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি ‘পুশ ইন’ হিসেবে অভিহিত করছেন। স্থানীয় পর্যায়ে সীমান্ত রক্ষায় নিযুক্ত বিজিবি ছাড়াও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে এ বিষয়ে কয়েকটি চিঠি দিয়ে সরকারের আপত্তির কথা জানানো হয়েছে। এছাড়াও ভারতের আশ্রয়ে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পেতে প্রয়োজনে দেশটির সরকারকে আবার চিঠি দেওয়ার কথাও জানান উপদেষ্টা।
ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত জুলাই–আগস্টে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হিসেবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এ বিষয়ে এর আগেও কূটনৈতিক চ্যানেলে ভারত সরকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু ভারতের পুশ ব্যাক নিয়ে বাংলাদেশ সরকারি চিঠি পাঠালেও তার উত্তরে ভারত আদৌ কিছু জানায় কিনা এখন সেটাই দেখার।












Discussion about this post