মাঝেমধ্যেই সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়ার নাম উঠে আসে। কখনও তার ফেসবুক পোস্ট খবরের শিরোনাম হয়,আবার কখনও বর্তমান সেনাপ্রধানের কাজকর্মের পাল্টা মন্তব্য করে তিনি খবরে আসেন। কিন্তু কে এই ইকবাল করিম ভূঁইয়া? আসলে তো তিনি শেখ হাসিনার সময়কার সেনাপ্রধান ছিলেন। অথচ সেই জমানাকেই তিনি কাঠগড়ায় তুলে প্রতিনিয়ত বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হয়ে কথা বলছেন। এর মধ্যে কি শুধু বিবেক তারনা রয়েছে? নাকি মানুষকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি শেখ হাসিনার আমলে সেনাপ্রধান ছিলেন? ক্যান্টনমেন্টে কি নতুন খেলা শুরু করেছেন তিনি? হঠাৎ তার তৎপরতার কারণ কি?
গত বছর ৫ই অগাস্টের পর থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়েছে বাংলাদেশের অন্দরে। এমনকি প্রায় ১০ মাস হতে চললেও এখনও পরিস্থিতি আয়ত্তে আসেনি। দেশকে সামলে উঠতে পারেনি মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আর এই পরিস্থিতিতে অনেকে সেনানিবাসের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন, দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আয়ত্তে নিয়ে আসবে সেনাবাহিনী। আর সেই জায়গায় দাড়িয়ে সেনানিবাসে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া উত্তলা হয়ে রয়েছেন। তার উতলা হওয়ার বিষয়টি প্রথম সবার সামনে আসে, গত বছর জুলাই শেষে। তিনি বাংলাদেশের বহু ছাত্রদের প্রতি তার সংহতি প্রকাশ করে তার ফেসবুকের প্রোফাইল পিকচার লাল করেন। এমনকি তাকে নিয়ে বেশ কিছু পত্র পত্রিকা এত মাতামাতি করেন, যেখানে অনেকে মনে করেন, এর পরবর্তীতে সেনাপ্রধান হতে চলেছেন ইকবাল করিম ভূঁইয়া। এমনকি এরপরই ৩রা আগস্ট সেনানিবাসে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান এবং সেনাকর্তাদের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক হয়। তখন সেনাকর্তারা অনেকেই সাধারণ জনগণের হয়ে কাজ করার কথা বলেন। শুধু তাই নয়, জেনারেল ওয়াকারও ঠিক করেন, সাধারণ ছাত্রদের উপর কোনও দমনমূলক আচরণ করা হবে না সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে। ফলে বোঝাই গেল, শেখ হাসিনার সঙ্গে নেই সেনাবাহিনী। এর পরের দিন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া, বেশ কিছু সেনাবাহিনীকে নিয়ে ঢাকার মহাখালী রাওয়া ক্লাবে হাজির হন। শেখ হাসিনার সরকারের নিন্দা করেন পাশাপাশি ছাত্রদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন তারা। এবং ইকবাল করিম ধরিয়া সেখানে জানান, বর্তমান সেনাবাহিনীর উচিত ছাত্রদের হয়েই কাজ করা। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে তার আগের দিনই তো সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার সেটা জানিয়ে দিয়েছেন সেনা কর্তাদের। তাহলে হঠাৎ ইকবাল করিম ফের একই কথা বললেন কেন? শুধু কি বিবেকের তাড়নায়? নাকি অনেকে যেমনটা বলছে, আসলে সেই সময় তিনি অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য এটা ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, শেখ হাসিনার অত্যন্ত কাছের ছিলেন।
২১ মে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান সেনানিবাসে সেনাকীর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এমনকি সেনাপ্রধানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার দূরত্বের কথাও উঠে আসে। এমনকি এটাও বোঝা যায়, জেনারেল ওয়াকার বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। এমনকি বারবার জাতীয় নাগরিক পার্টির তরফে বলা হচ্ছে এক এগারোর ষড়যন্ত্র চলছে। তখন হঠাৎই ইকবাল করিম ভূঁইয়া হঠাৎ স্ট্যাটাস দেন, এক এগারোর পুনরাবৃত্তি করা হবে এটা ভীষণ রকম ভুল। কিন্তু সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান তো নিজেই জানিয়েছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে কথা বলে একটু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে। তাহলে সেই সরকার এক এগারোর মডেলের সরকারের থেকে আলাদা কোথায়? উঠছে প্রশ্ন। এমনকি ৫ই আগস্টের পর ইকবাল করিম ভুইয়া ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানান, এই আন্দোলন বা এই আধা বিপ্লব বেহাত হয়ে গিয়েছে। কারণ রাষ্ট্রপতি, সংবিধান এবং সামরিক বাহিনী এক আটকে দেয়।
এখন প্রশ্ন উঠছে, কিসের কারণে শেখ হাসিনার সময়কার সেনাপ্রধান হঠাৎ করে এখন শেখ হাসিনা বিরোধী কথা বলতে শুরু করেছেন? কারণ তিনি শেখ হাসিনার সময়ে সেনাপ্রধান, লেফটেন জেনারেল ছিলেন তাই নয়। তিনি একটি পাওয়ার প্ল্যান্ট পেয়ে গিয়েছেন। কারণ ২০২১ সালে এই সাবেক সেনাপ্রধানের একটি কোম্পানি এবং মালয়েশিয়ার একটি কোম্পানিতে একত্রে একটি জয়েন্ট ভেঞ্চার হিসাবে 600 মেগা ওয়াটের lng বিদুৎ কেন্দ্র দিয়ে দেয়। এমনকি এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ২২ বছরের মেয়াদের একটি চুক্তি পায়। তাহলে হঠাৎ কেন তিনি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করেছেন? সেটা অনেকটাই সন্দেহ জনক বলে বলছেন অনেকে। কারণ 2014 সালে নির্বাচনে অংশগ্রহন মূলক না হওয়া সত্বেও এটা ইকবাল করিম ভূঁইয়া সহযোগিতা করায় শেখ হাসিনার স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের বাস্তবায়ন ঘটে। যার ফলে পরবর্তী নির্বাচন গুলোয় ভোটারবিহীন নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকার ব্যাপারে শেখ হাসিনা খুবই আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন।
এমনকি বাংলাদেশকে মানবিক করিডোর দেওয়ার বিষয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের সঙ্গে বর্তমান সরকারের মতবিরোধ হয়। এদিকে ইকবাল করিম ভুইয়া বলছেন, এটি দেশের সর্বভৌমত্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে অনেকে বলছে, সাবেক সেনাপ্রধান বোঝেন। কিন্তু বর্তমান সেনাপ্রধান বুঝছেন না।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কার ইন্ধনে, কার কথা মত তিনি এই কথাগুলো বলছেন? বা বেশ কিছু সেনা কর্তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন? এবং তার উদ্দেশ্য কি! সেটা নির্দিষ্ট করে না জানা গেলেও, বুঝতে পারছেন অনেকেই। পাশাপাশি অনেকে তার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণও করছেন।












Discussion about this post