একটি মাত্রই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিকভাবে বাংলাদেশকে যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্ত করে দেবে। একটি সিদ্ধান্তই সিরিয়ার মত বাংলাদেশকে গৃহযুদ্ধেও জড়িয়ে দিতে পারে। প্রথমত সেটি মানবিক করিডোর। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি করার সিদ্ধান্তই বাংলাদেশকে উত্তাল করে তুলতে পারে।
গত বছর সরকার পতনের পর থেকে সেদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস, বিভিন্ন ক্ষেত্রেই অন্ধকারে রেখেছে দেশের সাধারণ জনগণকে। বিশেষ করে বিদেশীদের সঙ্গে সমঝোতা করতে তাদের ঘাটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার এই বিষয়টিকে নানাভাবে উপস্থাপন করেছেন মোহাম্মদ ইউনুস। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছেন নীতিগত দিক থেকে করিডোর দূষিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। জানিয়ে দেশের অন্তরে আলোচনা সমালোচনার ঝড় ওঠে। সরকারের পেজ সচিব জানায় এটি মানবিক করিডোর নয় একটি দেশের সহায়তা প্রদান করা হবে জাতিসংঘের অধীনে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে এবং জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ জাতিসংঘ যে সকল জায়গায় আছে সেখানেই এই ধরনের ঘাঁটি দেওয়ার কোন প্রশ্ন ওঠেনা। বিশেষত যে সকল জায়গায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রয়েছে। অর্থাৎ এই প্রক্রিয়াতে জাতিসংঘ সমস্ত রকম কার্য নির্বাহ করবে, বাংলাদেশের কোন ভূমিকা নেই। কিন্তু বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির সরকারের নিজস্ব স্বার্থসিদ্ধি করতে যে পরিকল্পনা সেই পরিকল্পনাকে এবার দূরমুশ করে দিল জাতিসংঘ।
অর্থাৎ এবার জাতিসংঘ সরাসরি জানালো বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা চালাচ্ছে তাতে জাতিসংঘের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এবার বাংলাদেশের নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক রাষ্ট্রদূত গোয়েন লুইস,
জাতীয় প্রেসক্লাব আয়োজিত ‘ডিক্যাব অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন গোয়েন লুইস।তিনি এ সময় রাখাইনে মানবিক করিডোর ইস্যুতে জাতিসংঘের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করছেন তিনি এমনটাই দাবি করছে সেদেশের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গুলি। গোয়েন লুইস বলেন, ‘‘যেকোনো ধরনের আন্তঃসীমান্ত সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ, সংঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের সহায়তা করার জন্য যেকোনো ধরনের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই৷ এ বিষয়ে জাতিসংঘ সহায়তা করবে৷ কিন্তু এ ধরনের কোনো মানবিক করিডর নেই৷ আমরা করিডোর সংক্রান্ত কোনো ধরনের আলোচনায়ও নেই৷’’
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন আরো বলেন, মানবিক করিডর একটি আনুষ্ঠানিক ও আইনি বিষয়। এ ক্ষেত্রে দুটি সার্বভৌম দেশ বাংলাদেশ সরকার এবং মিয়ানমার সরকার এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষদের আনুষ্ঠানিক সম্মতি থাকতে হবে। যদি এখানে কোনো চুক্তি হয়, তবে জাতিসংঘ সহায়তা করতে পারে। আমি যত দূর বুঝতে পারছি, এ ধরনের চ্যুক্তি এখনও পর্যন্ত সম্পন্ন হয়নি। পাশাপাশি এটি করিডর ইস্যু দুই সরকারের বিষয়। এটি প্রতিষ্ঠিত হলে জাতিসংঘ সহায়তা করতে পারে। রাখাইনে প্রবেশ করা খুব বিপদজনক সেখানে সংঘাত চলছে এবং পরিস্থিতি অনিশ্চিত। মিযানমার সরকারের সঙ্গে ইউএনডিপি ও ইউএনএইচসিআরের মধ্যে সহায়তা দেওয়ার জন্য একটি সমঝোতা ছিল। এটি চালু রয়েছে। কিন্তু জাতিসংঘের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে। যদিও সেখানে কিছু কর্মী রয়েছে এবং কিছু অংশীদার সেখানে এখনও কাজ করছে। অর্থাৎ জাতিসংঘকে সামনে রেখে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একের পর এক কূটনৈতিক সিদ্ধান্তই যে বাংলাদেশকে যুদ্ধ পরিস্থিতির সম্মুখীন করবে তা একেবারে স্পষ্ট। এই পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর ভূমিকা কি হয় এখন সেটাই দেখার।












Discussion about this post