নিজের মাঠে হেরে গিয়ে এবার অন্যের মাঠে গিয়ে ভারতকে মাত দিতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান। গত ২২ আগস্ট পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে গঙ্গা ও পদ্মা দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। তবে সিন্ধু নদ দিয়ে জল আর বইছে না। আর এতেই বেজায় চটেছে পাকিস্তান। ফলে ভারতকে ব্যস্ত রাখতে এবার বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় ফ্রন্ট খুলতে চলেছে পাকিস্তান। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি ক্রমাগত নজর রাখছে বাংলাদেশের ওপর। নিয়মিত রিপোর্ট যাচ্ছে নয়া দিল্লির সাউথ ও নর্থ ব্লকে। বাংলাদেশ সীমান্তে রীতমতো সেনা সমাবেশ করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এমনকি অপারেশন তিস্তা প্রহার নামে এক ভয়ানক মহড়া দিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। তাঁরা বলে দিয়েছে, যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত তাঁরা। কিন্তু পাকিস্তান কি কি করতে পারে বাংলাদেশ থেকে?
অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের কার্যত কোমড় ভেঙে গিয়েছে। তাঁদের বিমানবাহিনী কার্যত ধ্বংস হয়েছে। তাঁদের রেডার সিস্টেম, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ও পরমানু অস্ত্রভাণ্ডারও কার্যত ধ্বংস করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ফলে এই মুহূর্তে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ইচ্ছা থাকলেই ভারতে পাল্টা আক্রমণ করতে পারবে না। তাই বিকল্প পথ হিসেবে ফের সন্ত্রাসবাদকেই বেছে নিচ্ছে পাক সেনা। কিন্তু ভারতীয় সেনা এবং সীমান্ত রক্ষী বাহিনী যেভাবে পাকিস্তান বর্ডার আটকে দিয়েছে তাতে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ করানো এই মুহূর্তে অসম্ভব। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তান চেষ্টা করছে নেপাল ও বাংলাদেশ দিয়ে ভারতে জঙ্গি অনুপ্রবেশ করাতে। নেপাল ও ভারতের মধ্যে অবাধ সীমান্ত চুক্তি থাকায় এটা সম্ভব। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ইতিমধ্যেই কড়া কিছু ব্যবস্থা নিয়েছেন। সেই সঙ্গে চলছে নেপাল সীমান্ত কড়া নজরদারি ও ধড়পাকড়। ফলে পাকিস্তানের একমাত্র সহায় বাংলাদেশ।
গত বছর ৫ আগস্টের পর মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাংলাদেশের জেল থেকে একে একে মুক্তি পেয়েছে শতাধিক জঙ্গি নেতা। জামাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া থেকে হিজবুত তেহরীকেও অলিথিত খোলা ছাড় দিয়েছে ইউনূস প্রশাসন। ঢাকার রাস্তায় হিজবুত-সহ কট্টরপন্থী ইসলামিক সংগঠনগুলি কখনও মার্চ ফর গাজা, কখনও মার্চ ফর খিলাফত মিছিল করেছে বুক ফুলিয়ে। মুহাম্মদ ইউনূস যেমন মার্কিন ডিপ স্টেটের পুতুল, তেমনই জামায়তে ইসলামীর সম্পদ বলে মনে করছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ। তাই জামায়তে ইসলামীর কথা মতো চলছেন ডঃ ইউনূস। আর জামাত চলছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের কথা মতো। পাকিস্তানের মূল লক্ষ্য, ভারতের পূর্ব প্রান্তে একটি ইসলামিক দেশ তৈরি করা। যাতে কারণে-অকারণে ভারতকে অস্থিতিশীল করা যায়। বাংলাদেশ যদি পাকিস্তানের মতো পুরোদস্তুর ইসলামিক দেশে রূপান্তরিত হয়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশের কট্টরপন্থী মুসলিম জঙ্গি সংগঠনগুলি আরও খোলাখুলিভাবে নিজেদের কাজ করতে পারবে। তাই ঘনঘন পাক আইএসআই এবং সেনাকর্তারা রাওয়ালপিন্ডি থেকে দুবাই বা সারজা হয়ে ঢাকা যাতায়াত করছেন।
বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, পাকিস্তানের ন্যাশনাল রেডিও অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন কর্পোরেশনের অন্যতম পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজমত শাব্বির ৫ দিনের সফরে সম্প্রতি ঢাকা এসেছিলেন। বাংলাদেশের টেলি যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ও জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন কর্তাদের সাথে একাধিক বৈঠক করেন তিনি। ওই বৈঠকে মূলত মোবাইল ফোন ইনটারসেপশন, সাইবার স্পেস ওয়ারফেয়ার প্রশিক্ষণ ও ওয়েব দক্ষতা ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। জানা যাচ্ছে, কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশ থেকে বিটিআরসি ও এনটিএমসি কর্মকর্তাদের একটি দল পাকিস্তানে যাবে। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার হরিপুরে অবস্থিত এনআরটিসি ক্যাম্পাস পরিদর্শন করবেন। ভারতের প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ মনে করছে, মুহাম্মদ ইউনূস ও শেহবাজ সরীফের এমন ঘনিষ্ঠতা ভারতের জন্য একেবারেই শুভ নয়! ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফেও জানানো হয়েছে, প্রতিবেশী বাংলাদেশের সমস্ত কার্যকলাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে পদক্ষেপ নেবে ভারত! জানা যাচ্ছে, ঈদের পরই কিছু একটা ঘটতে চলেছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের সঙ্গে কথা হয়েছে ভারতে অবস্থানকারী শেখ হাসিনার। সেই সঙ্গে জেনারেল ওয়াকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে ভারতের সেনাপ্রধানেরও। জেনারেল ওয়াকার উজ জামান বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকে পছন্দ করছেন না এটা দিনের আলোর মতো পরিস্কার। ইউনূস-সহ তাঁর গোটা প্রশাসনকে হটানোর জন্য ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করানোই একমাত্র লক্ষ্য। আর সেটার জন্য ঈদের পরই ফের গৃহযুদ্ধ বাঁধতে পারে বাংলাদেশে।












Discussion about this post