বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ফেরার সম্ভাবনা কতটা? কি বলছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা? তবে ঈদের পর খেলা ঘুরতে চলেছে দেশের অন্দরে। যেভাবে ভারতে বসেই শেখ হাসিনা বিভিন্ন নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করছেন, তাতে গোপনে দেশে ফেরার ছক কষা হচ্ছে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এমন কি কেউ কেউ বলছে, ক্ষমতায় ফিরতে ব্লু প্রিন্ট দিয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে ফিরবেই। কিন্তু কোন কোন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরছেন তারা, চলুন দেখা যাক।
বাংলাদেশে সবথেকে পুরোনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। দলটির বয়স ৭৬ বছর। বলাই বাহুল্য, এই দলটি সাক্ষী থেকেছে দেশের বহু চরাই উতরাই । এমনকি স্বাধীনতা আন্দোলন এই দলের আমলেই হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিস্তর উন্নয়ন ঘটেছিল এই দেশের। কিন্তু হত্যা, গুম করা….এমন নানা অভিযোগও এড়িয়ে যাওয়া যায় না। প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও কিছু পরিকল্পনাহীন বিষয়ে আওয়ামী লীগের অবসান ঘটেছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আসার পর থেকে দেশের কোনও উন্নতি ঘটেনি। বরং মোহম্মদ ইউনূসের আমলে দেশ বিভিন্নভাবে বিপদে পড়েছে। এমনকি মাত্র কয়েকটি মাসে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, দেশ চালাতে তিনি কতটা ব্যর্থ, তার প্রমাণ মিলেছে বহুবার। এরমধ্যে অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, শেখ হাসিনার সময় ভালো ছিল। অর্থাৎ এখনো বহু মানুষ শেখ হাসিনাকে এই নেতৃত্ব হিসেবে চাইছেন।
এদিকে আওয়ামী লীগ এবং তার বিভিন্ন নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সম্প্রতি দেখা গেল, এই দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, পাশাপাশি নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আদেও শেখ হাসিনার দল ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কিনা, সেটা প্রশ্নাতীত। ইতিহাস বলছে, এর আগে আওয়ামী লীগ দল চারবার নিষিদ্ধ হয়েছে। ১৯৭৫ সালে ১৫ই অগাস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বিরাট বিপদে পড়েছিল। কিন্তু তখন তারা দেশেই ছিলেন। এমনকি দেশ ছেড়ে অন্তত তারা পালাননি। কিন্তু ২০২৪ সালে ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা তো দেশ ছেড়েছেন ঠিকই, পাশাপাশি তার দলের বহু নেতৃত্ব দেশ ছেড়েছে। দলের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা সক্রিয় হলেও তিনি দেশে নেই। কাজেই একটা দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের ইতিবাচক দিক হল, তাদের সংগঠন অনেক বেশি মজবুত। শুধুমাত্র দেশে নয়, বিদেশেও তাদের সংগঠক রয়েছে। এমনকি ভারতের মতো একটি শক্তিশালী দেশ তাদের সঙ্গে রয়েছে। ভারতে বসেই শেখ হাসিনা একাধিক বৈঠক করছেন। সূত্র বলছে, দেশে ফেরার ছক কষা হচ্ছে। কীভাবে, কোন সময়টিকে কাজে লাগিয়ে তারা দেশে ফিরলে, ফের মানুষের আস্থাভাজন হয়ে উঠতে পারবেন। কিন্তু আদেও কবে ফিরবে আওয়ামী লীগ? এই প্রশ্নটাই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মুহূর্তে দেশে নির্বাচন করে বিএনপি’র ক্ষমতায় আসা অনেক বেশি সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে বিএনপি যদি দেশ চালাতে ব্যর্থ হয়, এক দু বছরের মধ্যেই ফের নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে বিএনপি। অন্তত অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি চাপ সৃষ্টি করবে নির্বাচন করাতে। তখনই আওয়ামী লীগের ফেরার সম্ভাবনা প্রবল। কারণ এখনো পর্যন্ত বিএনপি’র বিকল্প দল আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের বিকল্প দল বিএনপিকেই বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা সাধারণ মানুষের কাছে প্রবল। কাজেই, যদি এই সম্ভাবনা তৈরি হয় তবে আওয়ামী লীগের দু থেকে তিন বছরের মধ্যেই দেশে ফিরতে পারে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আরও একটি সম্ভাবনার কথা তুলে ধরছেন। দেশের এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতিত, তাতে অনেকেই সামরিক শাসন চাইছে। যদিও সেটা কতটা বাস্তবায়িত হবে, সেটা প্রশ্নাতীত। এমনকি সম্ভাবনাও ক্ষীণ। তবে সামরিক শাসন জারি হলে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় ফেরা অত্যন্ত জোরালো বলে মনে করছে ওয়াকিবহুল মহল। তবে সে যাই হোক, দেশে ফিরবে আওয়ামী লীগ। কারণ শেখ মুজিবর রহমান বা শেখ হাসিনা….যেভাবে দিনের পর দিন দেশকে সামলে রেখেছেন, এখন একটি পরিকল্পিত আন্দোলনের দ্বারা বা বৈশ্বিক বিশ্বের চাপে তাদের সরকার পতন হলেও মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনার দল। এখন দেশের এই রাজনৈতিক বিরাট প্রেক্ষাপটে কোন সম্ভাবনার দ্বারা উন্মোচন হয়। কারণ রাজনীতি হল সম্ভাবনার খেলা!












Discussion about this post