বাংলাদেশে থেকে উঠে এল চাঞ্চল্যকর ঘটনা। সেভেন সিস্টার্সে আক্রমণ বা নাশকতা করার ছক বাংলাদেশে হচ্ছে। সেটা আরও একবার প্রমাণিত। সম্প্রতি কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট বা কেএনএফ জঙ্গিদের জন্য পোশাক তৈরি হচ্ছে চট্টগ্রামে। সেই তথ্য সামনে আসতেই তাদের ধরে ফেলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এই পোশাক তৈরির পিছনে রহস্যটা কি? এক্ষেত্রে যা বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা, তা চমকে ওঠার মত।
বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে প্রায় দশ মাস হতে চলল। এরমধ্যে একাধিকবার সেই সরকারের অন্দর থেকে উঠে এসেছে ভারতের সেভেন সিস্টার্স এর কথা। এমনকি প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুসের গলাতেও সেভেন সিস্টার্সের কথা একাধিকবার শোনা গিয়েছে। এর পাশাপাশি ভারতও বিভিন্ন ক্ষেত্রে তৎপর হয়ে রয়েছে। শুধু তাই নয়, শিলিগুড়ি করিডরের কাছে বেশ কিছু যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করেছে ভারত। অনেকে বলছে এটা আগাম সতর্কতা নিয়েছে ভারত সরকার। এবং এটি নিছক কোনও ঘটনা নয়, বরং নিজের দেশের অখন্ডতা থেকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা, সেটা প্রমাণিত হয়েছে হঠাৎ ধরা পড়া একটি ঘটনায়। আসলে জানা যাচ্ছে, চট্টগ্রামে গোপনে ৫০,০০০টি যুদ্ধের পোশাক তৈরি হয়েছে কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট জঙ্গিদের জন্য। এটি ধরা পড়েছে চট্টগ্রামে একটি পোশাক তৈরি কারখানায়। এই ঘটনা সামনে আসতেই দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন উঠছে, এই পরিকল্পনা কারা করছে? কেনই বা করছে? কারা অর্থ যোগাচ্ছে? ষড়যন্ত্রের মূলে কারা? জানা যায়, মায়ানমারে কুকি চিন লড়াই করছে জুন্টা সরকারের বিরুদ্ধে। ঠিক যেমনটা লড়াই করছে আরাকান আর্মী। তাদের মদত দিতে টেকনাফ এলাকায় ঘাঁটি গেড়েছে মার্কিন সেনা। আর সেই জায়গা থেকে বিদ্রোহীদের জন্য পোশাক তৈরির বিষয়টি অনেকটাই স্বাভাবিক ঘটনা বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা নিয়ে মাতামাতি করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কারণ এটি হিমশৈলের চূড়া মাত্র।
অনেকেই এর আগে বলেছিলেন, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান বাটিতের সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। কোনরকম সবুজ সংকেত পেলে ইউনুস সরকারকে উৎখাত করে দেবেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা অনেক আগেই হতে যেত। কিন্তু হঠাৎ ডোনাল্ড ট্রাম্প বেকে বসতেই প্ল্যান বানচাল হয়ে যায়। ঠিক যেভাবে ডিপ স্টেটে পুরোনো প্ল্যান অনুসরণ করে বাংলাদেশে ঘাটি গাড়তে চাইছে, এবং ইউনূস খলিলুরের মত দল যেভাবে দেশকে তুলে দিতে চাইছে আমেরিকার হাতে, রাতে ভারতকে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার কথা ভাবতে হচ্ছে। আর এই ভাবনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বিপুল পরিমাণে যুদ্ধের পোশাক উদ্ধারের ঘটনায়, যেগুলি নাকি কুকি চীনের জন্য তৈরি হয়েছে বলে খবর। এই বিষয়টি আবিস্কার করেছে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাদের সন্দেহ হয়েছে, এই ঘটনায় নাশকতার মাধ্যমে সেভেন সিস্টার্স কে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার একটি ছক। এটি একটি সেভেন সিস্টার্স এর নিরাপত্তার জন্য সম্মিলিত হুমকি বলে মনে করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। তার কারণ এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে, আমেরিকা, বাংলাদেশ সরকার ছাড়াও অনেকে বলে মনে বিশ্লেষকদের। অনেকে বলছে, বাংলাদেশে যে সমস্ত কুকি চিন রয়েছে, তাদের সম্ভাব্য সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ। তার মধ্যে নারী পুরুষ এবং শিশু রয়েছে। এক তৃতীয় অংশ ধরলে ৫০ হাজার যুদ্ধ পোশাক কাদের জন্য? করা অর্থ যোগাচ্ছে? জানা যাচ্ছে, এই পোশাক তৈরি জন্য ভারতীয় মুদ্রায় খরচ হতে পারে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা। যেটা বাংলাদেশের মুদ্রায় ৬ কোটি টাকার উপর। কারা দিল এই টাকা? তবে কি প্রক্সি যুদ্ধের লক্ষণ এটি? অনেকে বলছে, এটি বিদেশি শক্তির দ্বারা ঘটনা হতে পারে। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পুরনো ডিপস্টিকের তত্ত্ব, বাংলাদেশের একটি অংশের সহযোগে খ্রিস্টান রাষ্ট্র তৈরি করা….সেটাও হতে পারে। এমনকি এর পিছনে ইসলাম জনগোষ্ঠীর মদত রয়েছে বলে খবর। এগুলি শেখ হাসিনার জমানার সময় ছিল। কিন্তু তারা তখন মাথা তুলতে পারেনি। এইবার তারা ইউনূসের আমলে মদত পেয়ে বিভিন্ন কার্যকলাপ করছে। এমনকি ভূ রাজনৈতিক ক্ষেত্রে একটি বিরাট ষড়যন্ত্রের জন্য তারা একটি সরকারের পতন ঘটিয়েছে শুধু তাই নয়, এখনও ক্রমাগত অস্থির করে তুলছে। এই জন্যই বাংলাদেশে মৌলবাদী সংগঠনগুলির উত্তান ভারতকে ভাবাচ্ছে। নড়েচড়ে বসেছে দিল্লি। সেজন্যই তৎপরতা ভারতের। এমনকি মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে ভারত। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পর্যবেক্ষণ বেশি দিন চলবে না। খুব তাড়াতাড়ি ইউনূসের গদি চুত্য করে এই নাশকতার শিখর উপড়ে ফেলবে ভারত। এর পাশাপাশি, এই উপমহাদেশে আরও একটি যুদ্ধ তৈরি হলে অবাক হওয়ার কিছু নেই বলেই মনে করা হচ্ছে।












Discussion about this post