বাংলাদেশে নতুন নোট প্রকাশ্যে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ ম্যাপে ভারতের সেভেন সিস্টার্স। তারমধ্যে ওই দেশের কিছু অংশকে ভারতে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেকে আবার উল্টো দিক থেকে বলছেন, তবে কি বাংলাদেশই নিজেদের কিছু অংশ ম্যাপের মাধ্যমে ভারতে ঢুকিয়ে দিল? সব থেকে মজার বিষয় হল, সে দেশের সরকার চাল চালতে গিয়ে বাংলাদেশের টাকায় ভারতের ছাপ রেখে দিলেন। কিন্তু কারণটা কি? ক্ষমতার অলিন্দে বসে অশান্তি তৈরি করে ঘোট পাকাচ্ছে মোহম্মদ ইউনূস। বলছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস দেশের ক্ষমতায় আসার পর থেকে একাধিক পদক্ষেপ করেছেন। এইবার
বাংলাদেশে জারি হল নতুন নোট। নতুন নকশার ছয়টি নোটের ছবি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক। নোটগুলোর মধ্যে রয়েছে ৫০০, ২০০, ১০০ ও ১০, ৫ টাকা ও ২ টাকার নোট। এই সমস্ত নোটে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক, প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতীকগুলোকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি নোটেই রয়েছে নতুন গভর্নর আহসান হাবিব মনসুরের স্বাক্ষর। তবে কোনও নোটেই নেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ছবি। তবে অনেকেই বলছেন, এটা খুব স্বাভাবিক একটি বিষয়। বঙ্গবন্ধুর সমস্ত স্মৃতিকে মুছে ফেলার জন্য সমস্ত ধরনের উদ্দ্যেগ নিয়েছে এই সরকার। তবে সবথেকে বেশি বিতর্ক ছড়িয়েছে ২০০ টাকার নোট নিয়ে। নতুন ২০০ টাকার ব্যাঙ্ক নোটের নকশা। তাতে এক পিঠে বাংলাদেশের একটি ম্যাপ ছাপা হয়েছে, যা মোটেই বর্তমান বাংলাদেশের ম্যাপ নয়। সেখানে রংপুর, সিলেট, চট্টগ্রাম রয়েছে ঠিকই। তারমধ্যে ওই দেশের কিছু অংশকে ভারতে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে, ওই ম্যাপে যুক্ত করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটা রাজ্য বা সেভেন সিস্টার্সকে। এছাড়াও আসল বাংলাদেশের ম্যাপ রংপুর অনেকটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। কিন্তু নোটে দেখানো হয়েছে ছোট করে। এমনকি সিলেট ও চট্টগ্রামের ক্ষেত্রেও একই বিষয়। ম্যাপ অনুযায়ী সিলেটের উপরে রয়েছে ভারতের মেঘালয় এবং নিচ অংশে রয়েছে ভারতের ত্রিপুরা। তবে কি বাংলাদেশই নিজেদের কিছু অংশ ম্যাপের মাধ্যমে ভারতে ঢুকিয়ে দিল?
তবে এমন কাণ্ড করার কারণ টা কি? নিজেদের দেশের ম্যাপকে কেন বিকৃত করা হল?
ইতিহাস ধরে বলতে গেলে ১৯৭১ সালে ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। সেই সময় থেকে ১৯৭২ সালের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের হাতে কোনও টাকা ছিল না। তখন পাকিস্তানের টাকার উপর বাংলাদেশের ছাপ ফেলে চালানো হয়। তখন পরিস্থিতি খুবই খারাপ হতে থাকে দেশের। সেই মুহূর্তে শেখ মুজিবর রহমানের অনুরোধে ভারত টাকা ছাপিয়ে দেয় বাংলাদেশের। ইতিহাস বলছে, প্রথমে ৩০ লক্ষ টাকা যায়। সেই সময় ভারতের ইন্দিরা গান্ধীর সময়কাল। আরো কিছুদিনের মধ্যে সাত কোটি টাকা পৌঁছে যায় বাংলাদেশে। পরবর্তীকালে ভারতের টাকাতেই টেকশাল তৈরি হয় বাংলাদেশে। এমনকি এতদিন পর্যন্ত সেই টাকাই চলছিল বাংলাদেশে। এতগুলো দশকের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নোট পরিবর্তন করল। যে দেশ ভারতের সাহায্যে ঘুরে দাঁড়াতে শিখেছে, সেই দেশকেই উস্কানি দিচ্ছে? রাজনীতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন এমন কিছু ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বাংলাদেশে, যাতে ভারত প্রতিক্রিয়া দেয়। এমনকি একটা যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়, সেটাও চাইছেন সরকারের ভেতর অনেকে। যাতে বাংলাদেশের এই মুহূর্তে সবথেকে বড় ইস্যু নির্বাচন, সেটার ধামাচাপা পড়ে যায়। এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের উপর কড়া পদক্ষেপের জন্য নিন্দা জনক হয়ে ওঠে ভারত। আসলে এটাই চাইছে মহম্মদ ইউনূসের সরকার। কিন্তু ভারত এত সহজে প্রতিক্রিয়া দেবে না। ঠিক যেমনটা পাকিস্তানের বিষয়ে সংযমের বার্তা দিয়েছে, ঠিক একই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য। তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত যেমন পদক্ষেপ করছে এই দেশের ওপর, সেটা আরো দিনে দিনে বাড়াবে, বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে আরও একটি মজার বিষয় উত্থাপন করছেন অনেকে। বাংলাদেশের টাকায় ভারতের ছাপ, যেটা ভারতেরই জয় বলে অভিহিত করছেন কেউ কেউ।












Discussion about this post