বাংলাদেশের মহানগর এখন বিক্ষোভ নগরীতে পরিণত হয়েছে। বাড়ছে মহম্মদ ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ। এদিকে বিক্ষোভ, জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা ঢাকার পুলিশের। ঢাকার রাস্তায় দেখা যাচ্ছে আধা সামরিক বাহিনীকে। ঈদের ছুটির পর আন্দোলন আরও জোরালো হবে বলে মনে করা হচ্ছে । অনেকে বলছেন, মহম্মদ ইউনূসের গদি উল্টাতে বেশি সময় লাগবে না।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মী, শিক্ষক এবং সেনাবাহিনীর অসন্তোষের মধ্যে প্রবল ভাবে প্রতিবাদের মুখে পড়েছে। এই উত্তাল পরিস্থিতিতে ঢাকা মহানগর পুলিশ সবধরনের জমায়েত, মিছিল ও সভা-সমাবেশের উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বলে খবর। এমনকি পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায়, যেখানে সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশ
অনির্দিষ্টকালের জন্য যমুনা,বাংলাদেশ সচিবালয় এবং তার আশেপাশের এলাকা ঘিরে বন্ধ করে দিয়েছে। নিরাপত্তা কড়া করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, ইউনূস সরকারের একটি অধ্যাদেশের বিরুদ্ধে ঢাকার সচিবালয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সরকারি কর্মীদের আন্দোলনের মধ্যে এই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মহম্মদ ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে
কালা আইন আনার অভিযোগ করছেন সরকারি কর্মচারীরা। সরকারি কর্মচারীদের বিক্ষোভে উত্তাল বাংলাদেশ। সরকারি সচিবালয়ের ভিতরে বিক্ষোভ করছে বিভিন্ন দফতরের কর্মচারীরা। জানা যাচ্ছে, সচিবালয়ের ভিতর কর্মচারী ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। গেটে মোতায়ন করা হয়েছে বিজিবিকে। প্রশ্ন উঠছে, কেন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নামলেন সরকারি কর্মচারীরা? কি দাবি তাদের? জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার একটি সিদ্ধান্ত ঘিরেই উত্তাল পরিস্থিতি। সম্প্রতি শেখ হাসিনার আমলের সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮.. এটি নাকি সংশোধিত করা হয়েছে ইউনূসের সরকারের আমলে। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মন্ডলীর বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে সরকারি আইন সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। জানা গিয়েছে, সরকারি আইন সংক্রান্ত আইনের সংশোধিত অর্ডিন্যান্স এর খসড়া অনুমোদিত হয় উপদেষ্টা মন্ডলীর ওই বৈঠকে। আর সেই খবর চাউর হতেই ক্ষুব্ধ সরকারি কর্মচারীরা। তারা প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেন। নয়া সংশোধিত আইন অনুযায়ী, যদি কোনও সরকারি কর্মচারী এমন কোনও আচরণ বা কার্যকলাপ করেন, যেটা সরকার বা প্রশাসনের আনুগত্যের পরিপন্থী, তবে সেই সরকারি কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হবে। শুধু তাই নয়, এমনকি যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়া ছুটি নিলে বাড়ি ক্ষেত্রে সহকর্মীকে প্ররোচনা দিলে সেই সরকারি কর্মচারী চাকরি চলে যেতে পারে। এই অভিযোগ ওঠার পর সাত দিনের মধ্যে নোটিশ দেওয়া হবে সেই কর্মীকে। তাতে ওই কর্মচারী দোষী সাব্যস্ত হলে, তাকে শাস্তি পেতে হবে। শাস্তি হলে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতের দারস্ত হতে পারবেন ওই কর্মচারী। তবে রাষ্ট্রপতির আদেশের বিরুদ্ধে কোনরকম আদালতে আপিল করা যাবে না। আর এই সংশোধিত আইনকেই কালা আইন বলে অভিহিত করে রাস্তায় নেমেছেন সরকারি কর্মচারীরা।
জানা যাচ্ছে, ১০ মে একই ধরনের নির্দেশনা জারি হয়েছিল। তখনও তদারকি সরকার বিজিবি ও পুলিশের সোয়াট ইউনিট-সহ আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতরগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। যদিও ঈদের কারণে প্রতিবাদের তীব্রতা কিছুটা কমে। তবে তারা ডেডলাইন দিয়েছে। ১৫ জুনের মধ্যে দাবি মানা না হলে, বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সরকারি কর্মীরা।
এদিকে নির্বাচনের ইস্যুতে লাগাতার আন্দোলন করছে বিএনপি। তারা চায়, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে। এদিকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানও চান ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হোক। কিন্তু বারবার মোহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে। ফলে নির্বাচন ইস্যুতে উত্তাল বাংলাদেশ। অনেকে বলছেন, নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতায় থেকে যেতে চান ইউনূস। আর সেই কারণেই নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা। এদিকে সরকারি কর্মচারীরা লাগাতার আন্দোলন করছে কালা আইনের বিরুদ্ধে। ঈদের মধ্যে পরিস্থিতি আয়ত্তে রয়েছে। ঈদের ছুটির পর আরো পরিস্থিতি উত্তপ্ত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে দেশে নেই অন্তর্বর্তী কালীন সরকারের প্রধান। তিনি লন্ডন সফরে গিয়েছেন। তারমধ্যেই বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরও সরগরম হয়ে উঠছে।












Discussion about this post