আগামী বছরের এপ্রিল মাসেই বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের সুভেচ্ছা ভাষণে এমনই ঘোষণা করে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। এই ঘোষণার মাধ্যমে তিনি কার্যত খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন বিএনপি ও সেনাপ্রধানকে। তবে প্রশ্ন উঠছে, এপ্রিলে ভোট হলে কি আওয়ামী লীগ অংশগ্রহন করতে পারবে? বড় ইঙ্গিত দিলেন আওয়ামী নেতা ওবায়দুল কাদের।
অনেকটা অপ্রাত্যাশিতভাবেই আগামী বছরের এপ্রিল মাসেই বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন হবে বলে জানিয়ে দিলেন মুহাম্মদ ইউনূস। কিন্তু তাঁর এই ঘোষণার পরও বিতর্ক কমতে চাইছে না বাংলাদেশে। বিএনপি এখনও অনড় ডিসেম্বরের মধ্যে ভোটের দাবিতে। আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দলও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে। তাঁদের যুক্তি একেবারেই খণ্ডন করা যাচ্ছে না। কারণ, বাংলাদেশে এপ্রিল মাস নাগাদ ভোটের নজির নেই বললেই চলে। বিগত ৫৪-৫৫ বছরে মাত্র একবার নির্বাচন হয়েছিল ওই সময়। অপরদিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও ডিসেম্বরের মধ্যে ভোট চেয়ে একটা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেথেছে। তবে এপ্রিলের নির্বাচন নিয়ে সেনাবাহিনী বা সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান সরকারিভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি এখনও। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে জোরদার চর্চা শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই।
এপ্রিলে ভোট যে আদৌ হবে না, সেটা যে একটা ভাওতা, এটা মেনে নিচ্ছেন বিএনপি-সহ বাংলাদেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূস সুকৌশলে ওই সময়টাই বেছে নিয়েছেন। এর পিছনে যে জামায়তে ইসলামীর মাথা কাজ করছে, সেটাও মেনে নিচ্ছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল। কিন্তু এভাবে আচমকা ভোটের সময় ঘোষণা করায় সবচেয়ে চাপে পড়ে গেল আওয়ামী লীগ। কারণ, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে একেবারেই কোনঠাসা শেখ হাসিনার দল। আওয়ামী লীগকে সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, তাঁদের যাবতীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য আওয়ামী নেতারা যতটুকু যোগাযোগ রক্ষা করে নতুন করে সংগঠন চাঙ্গা করছিলেন, সেটাও এখন বাঁধাপ্রাপ্ত। কলকাতার এক প্রথমসারির বাংলা দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই মুহূর্তে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ আওয়ামী লীগ। তবুও আওয়ামী নেতা জানান, এপ্রিলে ভোট ঘোষণার মধ্যেই ভোট না হওয়ার বীজ লুকিয়ে আছে। তিনি বেশ জোরের সঙ্গেই বলেন, যদি আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হয়, তা হলে দেশ-বিদেশ কোথাও তা গ্রহনযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য হবে না। পাশাপাশি তিনি এও জানান, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করানো মানে সে দেশের জনগণকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা। তাঁর দাবি, এখনও এই বাংলাদেশে ৪৫ শতাংশের বেশি জনগণ আওয়ামী সমর্থক। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল এবার তাঁরা কি করবেন? জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন আমাদের অস্তিত্বই হুমকির মুখে। তাই আমরা প্রথমে সংগঠন গড়ে তুলছি। সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হবে। তিনি বলেন, নেত্রী শেখ হাসিনা সুস্থ আছেন এবং প্রতিদিনই রুটিন মেনে তিনি বাংলাদেশে থাকা নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন। তাঁদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিচ্ছেন। তবে আাগমীদিনের রণকৌশল এখনই বলা যাবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু ইউনূসের ভাষণ পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিন্তু বড় ধরণের একটা পরিবর্তনের দিকই নির্দেশ করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।












Discussion about this post